বিজ্ঞানে জানার আছে অ-নে-ক কিছু

মধ্যযুগীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাস

স্থানভেদে মধ্যযুগীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান মূলতঃ তিন প্রকার যথাঃ ১. বাগদাদ ভিত্তিক বায়তুল হিকমাহ এবং ২. স্পেনের কর্ডোভার আলহামরা এবং ৩. মিশরের কায়রোভিত্তিক আল আজহার কেন্দ্রিক জ্ঞান-বিজ্ঞান।

১. বাগদাদ ভিত্তিক বায়তুল হিকমাহ

খালিদ আল আরাবয়িা:  রাজত্ব ছেড়ে বিজ্ঞান গবেষণা!

   খালেদের সায়েন্স ল্যাবরটেরী

বাগদাদের খলীফা রসায়ন বিজ্ঞানী খালিদ  রাজত্ব ছেড়ে দিয়ে আজীবন বিজ্ঞান-সাধনায় কাটিয়ে দিয়েছিলেন ।

 ৬৮৩ খৃস্টাব্দে উমাইয়া খলীফা ২য় মাবিআর মৃত্যুর পর  খালিদ সিংহাসনে আরোহণের পরিবর্তে খালিদ আল আরাবি বিজ্ঞান সাধনায় নিমগ্ন হন। খালিদ সম্পর্কে জানা যায়-তিনি চিকিৎসা ও রসায়নশাস্ত্রে যথেষ্ট বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন বলে মধ্যযুগীয়  ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের রেনেসোঁর উষালগ্নে তাঁকে আল-হাকিম আখ্যায়িত করা হয়েছিল।

গ্রীক বিজ্ঞানের প্রতি খালিদের আকর্ষণ আকৃষ্ট হয়। ফলে খালিদ আল আরাবী গ্রীকদের বিজ্ঞান গ্রস্থগুলো  প্রথম আরবী অনুবাদ শুরু করেন। তবে শুধু এই বিজ্ঞান গ্রন্থগুলোর অনুবাদের মধ্যে তাঁর কর্তব্য সীমাবদ্ধ ছিল না।

রসায়নবিদ খালিদ নিজস্ব গবেষণাতেও নিমগ্ন ছিলেন। স্বর্ণ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে তিনি নাকি পরশ বা  স্পর্শমণি পর্যন্ত আবিস্কারে সফল হয়েছিলেন। এই স্পর্শমণির সাহায্যে স্বর্ণ প্রস্তুত করা যেত। এই স্থপতি বৈজ্ঞানিক ৭০৪ খৃস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

 আব্বাসীয় আমলে মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞান র্চচা

 আব্বাসীয় শাসনামলঃ মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের র্উবরকাল

 খলিফা আল মানসুর (শাসনকালঃ৭৫৪-৭৭৫)

 আবু জাফর আবদাল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল মনসুর (৯৫ হিজরী - ১৫৮ হিজরী) (৭১৪ খ্রীষ্টাব্দ – ৭৭৫ খ্রীষ্টাব্দ) (আরবি : المنصور أبو جعفر عبدالله بن محمد) ছিলেন দ্বিতীয় আব্বাসীয় খলিফা ১৩৬ হিজরী  থেকে ১৫৮ হিজরী (৭৫৪ খ্রীষ্টাব্দ – ৭৭৫ খ্রীষ্টাব্দ) র্পযন্ত তিনি খলিফা পদে আসীন ছিলেন। (সূত্রঃ উইকপিডিয়িা)

 উল্লেখ্য, আব্বাসীয় শাসনামলে ঈসাব্দ সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত আরবী ভাষা বিশ্ব সভ্যতায় জ্ঞান-বিজ্ঞান বিকাশের একমাত্র অবিসম্বাদিত আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ভাষার মর্যাদা লাভ করেছিল 

 প্রকৃতপক্ষে খলিফা মনসুরের শাসনামল থেকেই সারাসিন সভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশ্বব্যাপী জয়যাত্রা  শুরু হয়। খলীফা মনসুর (৭৫৪-৭৭৫)-এর রাজদরবার সর্বদা জ্ঞানী-গুণী দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকত। তিনিই বাগদাদ নগরীর প্রথম প্রতিষ্ঠাতা। টাইগ্রীস নদীর পশ্চিম তীরে বাগদাদ নামক একটি বড় গ্রামে তিনি রাজধানী স্থাপন করে নাম রাখেন মদীনাতুস সালাম। কিন্তু মানুষ সরকারী নাম গ্রহণ না করে বাগদাদ গ্রামের নামেই নতুন রাজধানীকে অভিহিত করতে থাকে।

৭৫০ ঈসাব্দে উমাইয়াদের  হটিয়ে আব্বাসীয়রা মুসলমি বিশ্ব শাসন শুরু করে। ৭৬২ সনে খলিফা আল মনসুর (শাসনকাল ৭৫৪-৭৭৫ খ্রষ্টিাব্দ) রাজধানী হিসাবে বাগদাদ নগরী গড়ে তোলেন। পূর্বে দামেস্ক মুসলিম বিশ্বের রাজধানী ছিল  এর মধ্যে বিদেশী ভাষার রচনা অনুবাদও অন্তর্ভূক্ত ছিল।  এ উদ্দেশ্যে আল মনসুর সাসানীয় রাজকীয় গ্রন্থাগারের আদলে একটি প্রাসাদ গ্রন্থাগার গড়ে তোলেন এবং কর্মরত জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদেরকে আর্থিক ও রাজনৈতিক সর্মথন প্রদান করনে। তিনি ভারত ও অন্যান্য স্থান থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আদান-প্রদানের  জন্য জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদেরকে  আব্বাসীয় বাদশাহী দরবারে দাওয়াত করেছিলেন 

আব্বাসীয় আমলে গ্রীকচৈনিকসংস্কৃত  সিরিয়াক ভাষা থেকে অসংখ্য গ্রন্থ আরবিতে অনুদিত হয় অনুবাদ কেন্দ্রিক জাগরণ খলিফা হারুনুর রশিদের সময় ব্যাপক আকার লাভ করে। পূর্বসূরির মত তিনিও জ্ঞানচর্চার অনুগামী ছিলেন।[৪] রচনাগুলো মূলত চিকিৎসা বিজ্ঞানগনিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক  হারুনুর রশিদের গ্রন্থাগার যা বাইতুল হিকমাহের পূর্বসূরি ছিল সেটিও (প্রথম)"বাইতুল হিকমাহ" বলে পরিচিত ছিল।ইতিহাসবিদ আল কিফতি এটির নাম দেন"খিজানাত কুতুবুল হিকমাহ" (আরবিতে অর্থ "জ্ঞানগ্রন্থের ভান্ডার")।

 পাটিগণিতে অবদান

মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খারিজমি পাটিগণিতেও অসামান্য পারদর্শী ছিলেন। তিনিই প্রথম রোমান সংখ্যা I II III IV V VI VII VIII 1X এবং X স্থলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শূণ্য (0) সহ এরাবিক নামারাল নামক গণিত জগতের নতুন গাণিতিক সংখ্যা 1 2 3 4 5 6 7 8 এবং  9 ব্যবহার শুরু করেনতার মাধ্যমেই ইউরোপ শূণ্যের ব্যবহার শিক্ষা লাভ করে । যার কারণে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খারিজমিকে ইউরোপের গণিত শিক্ষক বলা হয় (উইকিপিডিয়া)

বীজগণিতে আরবীয় ভূমিকাঃ 

বীজগণিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খারিজমি আল কুতরুবুল্লী অবদান

বীজগণিত হল ইসলামী সভ্যতায় মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খারিজমি আল কুতরুবুল্লীর সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান। শুন্যের মতই এই গণিতও বিশ্বে খুব ম্রিয়মান অবস্থায় ছিল। বীজগণিতকে আল-খারিজমিই প্রথম গণিত জগতে বিশেষ তাৎপর্যসম্পন্ন বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন যেমন এরাবিক নামারালের মাধ্যমে অনেকটা ব্যবহারবিহীন অবস্থা থেকে শুন্য রাতারাতি গণিতের দশক, শতক, হাজার, অযুত, লক্ষ, কোটির অংকে পৌঁছে কম্পিউটারের বাইনারী কোডের (১ ও ০) গুরুত্বপূর্ণ কোডের (০) মাধ্যমে পৃথিবী রীতিমত এনালগ থেকে ডিজিটালে  পরিণত হয়েছে তেমনি বীজগণিতও প্রথমবারের বিশ্বের লাইমলাইটে গণিত জগতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। ফলে ভারতীয় গণিতবিদরা বীজগণিতে উৎসাহিত হন এবং প্রথমবারের মত বীজগণিত নিয়ে গবেষণা শুরু করেন অপরদিকে গ্রিকদের মধ্যে কেবল ডায়োফ্যান্টাস-কে নবোদ্ভাবিত বীজগণিতের ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করেছিল বলে জানা যায় তিনি ব্যতীত আর কাউকে বীজগণিত নিয়ে খুব একটা চিন্তাভাবনা করতে দেখা যায়নি। আল-খারিজমি বীজগণিতের ভিত্তি স্থাপন করে আধুনিক গণিতের পথকে অনেকটাই কুসুমাস্তীর্ণ করে তোলার কারণে তাঁকে গণিতের বিশেষ করে বীজগণিতের অন্যতম জনক হিসাবে বিবেচনা করা হয়[১৮][১৯] উল্লেখ্য, আল-খারিজমি রচিত পুস্তক কিতাব আল জাবর ওয়াল মুকাবলা” হতে বীজগণিতের ইংরাজী নাম আলজেবরা” (Algebra) শব্দটি উৎপত্তি লাভ করে। (উইকিপিডিয়া)

জ্যোতির্বিজ্ঞানে অবদান

জ্যোতির্বিজ্ঞানেও আল খারিযমি একটি স্মরণীয় নাম, স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব । এ বিজ্ঞানে তিনি বহু মৌলিক অবদান রেখে গেছেনতার রচিত 'নির্ঘণ্টপ্রাচ্যে ও পাশ্চাত্যে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তীতে ইবনে আলী জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর পর্যবেক্ষণ চালান এবং এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। আল ফারাগণী ছিলেন খারিজমিয় যুগের আরেক শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তাঁর রচিত 'জ্যোতির্বিজ্ঞানের সংক্ষিপ্তসার' (Elements of Astronomy) ক্রিমেনার জিয়ার্ড ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন।

পৃথিবীর আকার-আকৃতিঃ  আরবীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের  প্রভাব

খ্রিস্টপূর্ব ৫ ম শতাব্দীতে একটি গোলাকৃতির পৃথিবীর প্রথম দিকের নথিভুক্ত গ্রীকরা করেছিলেন। উল্লেখ্য, খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয়রা পৃথিবীকে গোলকের মতো মডেল করেছিলেন। পৃথিবীর গোলাকৃতি কি কমলা লেবুর ন্যায় গোল না পিরিচের মত গোলাকার? এ নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে ভূগোলবিদদের। ইউরোপীয়দের মতে, পৃথিবী চায়ের পিরিচের ন্যায় গোলাকার। পক্ষান্তরে মুসলিম ভূগোলবিদদের মতে, কমলা লেবুর ন্যায় গোলাকার। 

মহৎ লোকেরা যখন রাগান্বিত হন, তখনো তাঁদের কন্ঠে প্রার্থনার ভাষা থাকে (জন গলসওয়ালি)

মুজিব সমাপনী বর্ষ উপলক্ষ্যে সায়েন্স টেক রিভিউর বিশেষ নিবন্ধ

 বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটঃ ডিজিটাল বাংলাদেশের নমূনা-নকশা

স্যাটেলাইট কি?

সৌর জগত বিদ্যমান প্রধান আটটি গ্রহের মধ্যে বুধ আর শুক্র এর কোন উপগ্রহ নেই। পৃথিবীর ১টিমঙ্গলের ২ টিবৃহস্পতির ৭৯ টিশনির ৮২ টিইউরেনাস এর ২৭টিআর নেপচুনের ১৪ টি উপগ্রহ আছে।

উপগ্রহ কাকে বলে?

ভূ-উপগ্রহ হলো আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ মাধ্যম। বর্হিবিশ্বের টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সরাসরি অথবা রেকর্ড করে দর্শকদের দেখানেরা ব্যবস্থা ও বর্হিবিশ্বের সঙ্গে দেশের টেলিযোগাযোগ স্থাপন করা। এছাড়াও আন্তর্জাতিক ট্রাঙ্ক এক্সচেঞ্জ কাজে ব্যবহৃত হয়।

উপগ্রহের প্রকার ভেদ

উপগ্রহ দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা-

১. প্রাকৃতিক উপগ্রহ (Natural Satellite) এবং
২. কৃত্রিম উপগ্রহ (Artificial Satellite)

মানব সৃষ্ট কৃত্রিম উপগ্রহ-কে বলা হয় স্যাটেলাইট । এ সকল স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ আমাদের পৃথিবী-কে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত ঘুরছে। চাঁদ ব্যতীত পৃথিবীর সকল উপগ্রহ-ই কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট। একটি কৃত্রিম স্যাটেলাইট আমাদের পুরো পৃথিবীকে ২৪ ঘন্টায় একবার প্রদক্ষিণ করে।

মূলত পৃথিবীপৃষ্ঠের উন্নত ম্যাপিং করার জন্য সর্বপ্রথম স্যাটেলাইটের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাছাড়া তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নইমেজিংফটোগ্রাফিআবহাওয়ার পূর্বাভাসবিভিন্ন দুর্গম এলাকার ম্যাপিংদূরবর্তী টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নইন্টারনেটটিভি চ্যানেল সম্প্রচার ইত্যাদি ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি‌ আমাদের ব্যাপকভাবে সাহায্য করে।https://noproblembd.com/স্যাটেলাইট-কি-বিস্তারিত/

বাংলাদেশে ৪টি কৃত্ত্রিম     ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে যথাঃ

ক). বেতবুনিয়া (রাঙামাটি) ভূ-উপগ্রহ, প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৪ জুন, ১৯৭৫ খ). তালিবাবাদ (গাজীপুর) ভূ-উপগ্রহ , প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৮২ গ). মহাখালী (ঢাকা) ভূ-উপগ্রহ,  (গাজীপুর),প্রতিষ্ঠাকালঃ ১২ ফেব্রুয়ারী, ১৯৯৫। ঘ) সিলেট ভূ-উপগ্রহ, , প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৯৭।

বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ বেতবুনিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

একসময় সমগ্র বাংলাদেশে বৈদেশিক কল গ্রহণ ও পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ার এ কেন্দ্র। সরকার তথা রাষ্ট্রবিদেশি কূটনীতিক কিংবা ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বহির্বিশ্বের সব যোগাযোগ হতো এর মাধ্যমে।

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কতৃক বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন তৎকালীন চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া নামক স্থানে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করা হয়। এতদুপলক্ষ্যে এদিন একটি ডাকটিকিটও অবমুক্ত করেন বঙ্গবন্ধু।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান আমলে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগবেতার ও টেলিভিশন সুবিধার জন্য বেতবুনিয়ায় একটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে জানুয়ারিতৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ড এবং প্রধান সামরিক শাসক জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানবেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরি ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রায় ১২৮ একরের জায়গার ওপর স্থাপিত বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহটি উদ্বোধন করেন ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে সরকারীভাবে জাপান সফরের সময় তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাপানী প্রযুক্তির সহায়তার জন্য জাপান সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছিলেন।

বর্তমানে এই কেন্দ্রের মাধ্যমে ১১টি দেশের সঙ্গে টেলিফোন ডাটা কমিউনিকেশনফ্যাক্সটেলেক্স ইত্যাদি আদান-প্রদান করা হয়। প্রায় ৩৫ হাজার ৯০০ কিলোমিটার ঊর্ধ্বাকাশে অবস্থিত কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে শক্তিশালী অ্যান্টেনা দিয়ে বার্তা/তথ্য আদান-প্রদানের কাজ সম্পাদিত হয়

https://www.banglatribune.com/country/323343/বঙ্গবন্ধু-স্যাটেলাইট-বেতবুনিয়া-গ্রাউন্ড-স্টেশন

 ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে উদ্বোধন হওয়া বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র সর্বপ্রথম সারাবিশ্বের সঙ্গে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের যোগাযোগের সুদূরপ্রসারী ভিত রচনা করেছিল। এর সূত্র ধরে দেশ আজ মহাকাশ পাড়ি দেবার দ্বারপ্রান্তে জাতির পিতার স্মৃতিবিজড়িত সেই বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের পাশেই পাঁচ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয়েছে বেতবুনিয়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন-২। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১১ মে) দিবাগত রাত ১টা ৩৭ মিনিটে মহাকাশ যাত্রা শুরু করে মহাকাশে পাড়ি দেয়ার পর এটির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রইতালি ও কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে। ওই তিন স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে এর নিজস্ব কক্ষপথে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট) স্থাপন করা হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার লঞ্চপ্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ২০১৮ সালের ১০মে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা ১২ মিনিটি উৎক্ষেপণ করার দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। আর এ স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের সাথে সাথে স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহের প্রাইমারি গ্রাউন্ড ষ্টেশনটিতে কার্যকর হয়। এজন্য ভূ-উপগ্রহটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা ঢেলে সাজানো হয়েছে।

২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের নিজস্ব ভূ-উপগ্রহ 'বঙ্গবন্ধু কৃত্রিম উপগ্রহঊর্ধ্বাকাশে স্থাপনের পরবেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রকে দ্বিতীয় স্টেশন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য এর প্রথম স্টেশনটি স্থাপিত হয়েছে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরের তেলিপাড়ায়।তথ্যসূত্রঃ i) http://www.rangamati.gov.bd/ ii) http://onushilon.org/geography/bangladesh/region/betbunia-bhu-upogro-kendro.htm

Satellite কিভাবে কাজ করে ?

একটি কৃত্রিম উপগ্রহ এমনভাবে পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘূর্ণায়মান হয়যাতে এর গতির সেন্ট্রিফিউগাল বা বহির্মুখীন শক্তি ওকে বাইরের দিকে গতি প্রদান করে কিন্তু পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তি একে পৃথিবীর আওতার বাইরে যেতে দেয় না। উভয় শক্তি কৃত্রিম উপগ্রহকে ভারসাম্য প্রদান করে এবং কৃত্রিম উপগ্রহটি পৃথিবীর চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করে। মহাকাশে বায়ুর অস্তিত্ব না থাকায় একটি কৃত্রিম উপগ্রহ বাধাহীনভাবে পরিক্রমণ করে,যতক্ষণ পর্যন্ত না তা পৃথিবীর নিকটতম স্থানে প্রবেশ করে এবং উচ্চস্তরীয় বায়ুমণ্ডল কৃত্রিম উপগ্রহকে টেনে আনবে এবং তার গতি মন্থর করে দেবে। কৃত্রিম উপগ্রহগুলো বৃত্তাকারে পরিক্রমণ করে নাতার গতি ডিম্বাকৃতির।

টিভি ও বেতারসংকেত প্রেরণ এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী কৃত্রিম উপগ্রহগুলো সাধারণত পৃথিবীথেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে।https://www.techtunes.io/tech-talk/tune-id/315342

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ইতিকথা

 

পৃথিবী ক্রমেই ডিজিটাল হচ্ছে। প্রায় বিশ্বের প্রতিটি দেশে লেগেছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোয়া। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। সকল ক্ষেত্রেই সেই সনাতন এনালগ পদ্ধতির পরিবর্তন করে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ মে বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের মধ্যে দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট এবং পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে পরমাণু ক্লাবের ৩৪তম সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ইতিমধ্যেই বঙ্গবন্ধু১ স্যাটেলাইট তার কার্যক্রম শুরু করেছে। এ দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে স্যাটেলাইট সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহীতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হলো।

বাংলাদেশ সরকার দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তর করার  লক্ষে প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো মহাকাশে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ। যার নামকরণ করা হয়েছে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ নামে। এরই মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭ তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী রাষ্ট্র হিসেবে নাম স্বীকৃত হয়েছে। 

 বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাংলাদেশের সর্ব প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ যা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ হাজার ৮০০ কিলোমিটার উপরে অবস্থিত। হয়েছে। এটি geostationary Earth orbit এর একটি উপগ্রহ হিসাবে জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট যা নিরক্ষরেখা বরাবর ২৪ ঘন্টায় একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। এবং এটি পৃথিবীর আবর্তনের বিপরীত দিক থেকে প্রদক্ষিণ করে থাকে অর্থাৎ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে এটি আবর্তন করে থাকে। এ কারণে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি থাকবে নির্দিষ্ট একই জায়গায় স্থির। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মেয়াদ ১৫ বছর। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে পাঠানো তথ্য গ্রহণ করবে এবং তার কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে আবার তা ফেরত পাঠায় পৃথিবীতে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ওজন ৩৬০০ কেজি। রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান intersputunik international organisation of space communication কর্তৃক ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ অরবিটাল স্লট বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করার পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি ইন্টারনেটের সাথে ১৫ বছরের চুক্তি করে এবং তা তিন কিস্তিতে ৪৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ১৫ জানুয়ারি ২০১৫ সালে।

https://bangla-love-sms.com/bangabandhu-satellite-composition/https://bangla-love-sms.com/bangabandhu-satellite-composition/                         

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের যাত্রা কাহিনী: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালে ।  ২০০৯ সালে বাংলাদেশের জাতীয় তথ্য প্রযুক্তি নীতিমালায় রাষ্ট্রীয় কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ বিষয়টি সংযুক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেঢশন ইউনিটের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য স্যাটেলাইট এর নকশা তৈরির জন্য ২০১২ সালের মার্চে প্রকল্পের মূল পরামর্শক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল কে নিয়োগ দেয়া হয়। এবং নামকরণ করা হয় বঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইট।  ৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় প্রাক্কলিত ব্যয়ে নির্বাহ সংক্রান্ত বিষয়ে ফ্রান্সের স্যাটেলাইট নির্মাতা কোম্পানি থ্যালেস আলোনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় বাংলাদেশের ডাক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় বিটিআরসি। অতঃপর অরবিটাল স্লট বা কক্ষপথ কেনার জন্য রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারেস্ট বুটলিকের সঙ্গে চুক্তি করা হয় ২০১৫ সালে। এবং ২০১৭ সালে স্যাটেলাইটের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড নামক একটি সংস্থা গঠন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর নির্মাণ ব্যয়: স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সেবা পরিচালনার জন্য ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী পরিষদের (একনেক) এর সভায় ৯৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর গাজীপুরের তেলীপাড়ার ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশন এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ব্যাকআপ গ্রাউন্ড স্টেশন হিসেবে যুগপৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার সক্ষমতা। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার প্রায় ৩৬ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গের সমপরিমাণ। অর্থাৎ ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ১ হাজার ৪৪০ মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ।
এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। আর ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য রাখা হবে।

৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি হচ্ছে কেউই ব্যান্ডের এবং ১৪টি সি ব্যান্ডের। গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বেতবুনিয়ায় স্থাপিত দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে যৌথভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু১ স্যাটেলাইট।

উৎক্ষেপণের পর নির্দিষ্ট দূরত্বে দ্রাঘিমাংশে (প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে) স্যাটেলাইটটি অবস্থান করছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স-ইতালি থেকে স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণভাবে কন্ট্রোল করা হলেও পরবর্তিতে কেবল গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে ট্র্যাকিং এবং কন্ট্রোলিং করা হতো। 

(বিশেষ স্মৃতিচারণঃ ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন শনিবার, সময়ঃ অপরাহ্ন। চট্টগ্রাম বন্দর উচ্চ (বালক) বিদ্যালয় (Port Trust High School) কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সল্টগোলা-পতেঙ্গা বিমান বন্দর রোডে অবস্থিত বর্তমানে বন্দর ফোয়ারার গোল চত্বরে আমরা (ছাত্রবস্থায় এ প্রতিবেদকসহ) উপস্থিত হলে দেখতে পাই যে, বঙ্গবন্ধু এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সেখানে দাঁড়িয়ে ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন। এসময় উনাকে প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। সম্ভবতঃ এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর শেষ চট্টগ্রাম সফরের শেষ ভাষণ। তিনি এসেছিলেন দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ বেতবুনিয়া কেন্দ্র উদ্বোধন করার জন্য যা ছিল আজকের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বীজ! আমরা ইষ্টার্ণ সায়েন্স টেক রিভিউ’র পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি)

(CERN কর্তৃক হিগস-বোসন কণা আবিস্কারের দশক (২০১২-২০২২) পূর্তি উপলক্ষ্যে বিশেষ নিবন্ধ)

হিগস-বোসন কণা আবিস্কারের ইতিকথাঃ

হিগস্-বোসননামক কণাটি বিজ্ঞানীদের কাছে একটি হাই-পোসেটিক্যালকণিকা হিসেবে বিবেচিত ছিল। পদার্থ বিজ্ঞানের বিশেষ থিওরী standard model থেকে বিজ্ঞানীরা এ কণা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পান। সাধারণতঃ হিগস-বোসনের ভর ১২৫ থেকে ১২৬ এবং এ কণিকার স্পিন হচ্ছে শূণ্য। হিগস-বোসন কণাকে বলা হয় সুপার সেমেটেরি (super cemetery) পদার্থ যা-সৃষ্টির শুরুর সময়কার প্রাথমিক কণিকা বিবেচিত।

অধ্যাপক পিটার হিগসের বস্তু/পর্দাথের ভরের উৎস সর্ম্পকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

 হিগস-বোসনের অচিন্ত্যনীয় গুরুত্ব, ভূমিকা ও অবদান এবং এর সন্ধানে বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টা অংশ হিসাবে ১৯৬৪ সালে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার হিগস বস্তু/পর্দাথরে ভরের উৎস হিসেবে হিগস-বোসনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেন, আমরা একটা আঠালো ব্যাক গ্রাউন্ড ক্ষেত্রের কথা ভাবতে পারি। কণাগুলো এর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ভরপ্রাপ্ত হয়। অবশ্য এর পিছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে একটি ঘটক।

 যে প্রক্রিয়ায় হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব প্রমাণিত হলো

কণা’ (PARTICLE) সম্পর্কিত গাণিতিক মডেলের (mathematical model) সূত্রমতে, উচ্চ গতিতে প্রোটনের সঙ্গে প্রোটনের আন্তঃসংঘর্ষ ঘটানো হলে বেশ কিছু মৌলিক কণা উৎপন্ন হয়। সেমতে CERN এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার যন্ত্রে উচ্চ গতিতে প্রোটনের সঙ্গে প্রোটনের আন্তঃসংঘর্ষ ঘটিয়ে বেশ কিছু মৌলিক কণা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত এই মৌলিক কণা-কে বলা হয় হিগস্-বোসনকণা।

হিগস-বোসন কণা'র অস্তিত্ব প্রমাণে CERN এর বিপুল আয়োজন !

পদার্থবিদরা বিশ্বাস করেন যে, রহস্যময় হিগস-বোসনের সঙ্গে সংঘর্ষে বিভিন্ন মাত্রার ভরের (Mass) জন্ম হয়। পদার্থ বিজ্ঞানের এ সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্নকে সামনে রেখে ১৯৭১ সাল থেকে কণাত্বরণ যন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে এ বিষয়ে বাস্তব প্রমাণের উদ্যোগ নেয়া হয় । তবে ২০০৮ সাল থেকে এই কলাইডারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।বিপুল শক্তিসম্পন্ন অতি পারমাণবিক কণার জন্ম-তত্ত্ব আবিস্কার করতে CERN আয়োজন করেছিল বিশাল আকারের মহাপরিকল্পনা। এই পরীক্ষা মানব ইতিহাসে শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়; দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয় বহুলও বটে। অতি পারমাণবিক কণার জন্ম-তত্ত্ব গবেষণার প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল তৎকালীন প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড এবং তাতে উপস্থাপিত হয়েছে অন্ততঃ ৬০,০০০ (ষাট হাজার) কম্পিউটার।

হিগস-বোসন কণার নির্ভুল অস্তিত্ব প্রমাণে CERN এর সর্বোচ্চ সর্তকতা

বস্তু-পদার্থজাত বিশ্ব সৃষ্টির নির্ভুল ও অভিন্ন রহস্য বা উৎসমূল আবিস্কারের মহৎ লক্ষ্যে আজিকার বিশ্বের খ্যাতনামা সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা কেন্দ্রে CERN কর্তৃক বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞানীদের-কে যথাক্রমে (১)(১) a toroidal lhc apparatus (atlas) এবং (২) compact muon solenoid (cms) নামক দু'টি দলে বিভক্ত করা হয়। সর্ম্পূণ পৃথক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় একদল-কে জেনেভা এবং অপর দল-কে লন্ডনে নিয়োজিত করা হয়েছিল-যাতে উভয় দল একে অপরের কার্যক্রম সর্ম্পকে বিন্দুমাত্র অবহতি না হতে পারে। উদ্দেশ্য: নির্ভুলভাবে অভিন্ন ফলাফল লাভ। অবশেষে উভয় দল বিশাল দূরত্বে (জেনেভা হতে লন্ডন) অবস্থান করে কোন প্রকার পূর্ব যোগাযোগ ব্যতিরেকেই হিগস-বোসন অতিপারমানবিক কণা প্রাপ্তির বিষয়ে একই সঙ্গে একই ফলাফলে উপনীত হয়। যার ফলে CERN কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালের ৪ঠা জুলাই, বুধবার এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মলেনে বিশ্ববাসীকে এ মর্মে বিজ্ঞাপিত করে যে, স্ট্যান্ডার্ড মডেলের স্বীকৃত ১২তম হিগস-বোসন নামক বহুল প্রত্যাশিত মৌলিক কণারটির সন্ধান পাওয়া গেছে।

 হিগস-বোসন কণার তাত্ত্বিক ধারক বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেটতত্ত্বের ইতিকথাঃ

সত্যেন্দ্রনাথ বসু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশস্যার জগদিশ চন্দ্র বসু যেমন বেতার যন্ত্র আবিস্কারের স্থপতি, তেমন হিগস বোসন বা অতিপারমানবিক কণার অস্তিত্বের ধারণার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন অন্যতম পথিকৃত এবং অপর জন হচ্ছেন জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনেস্টাইন। উভয়ের যৌথ গবেষণার ফলাফল-কে বলা হয় বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট”-যার উপর ভিত্তিশীল আজকের হিগস-বোসন বা গড'স পার্টিকেল। সত্যেন্দ্রনাথ বসু নামের শেষাংশ বসুপরিবর্তিত নামটি হচ্ছে বোসনবস্তুতঃ বোস-আইনস্টাইন ছিলেন হিগস বোসন কণার তাত্ত্বিক স্থপতি যার প্রাতিষ্ঠানিক রূপকার হচ্ছেন আরেক পদার্থ বিজ্ঞানী অধ্যাপক পিটার হিগস। এ কারণে আবিস্কৃত অতিপারমানবিক কণার হিগসনামকরণ এবং নোবেল পুরস্কারের অধিকারী হন মিঃ পিটার হিগস।

সের্ণ (CERN) পরিচিতি

অর্গানিজাসিওঁ ওরোপেএন পুর লা রেশের্শে ন্যুক্লেয়্যার (ফরাসি: Organization européenne pour la recherche nucléaire; ইংরেজি ভাষায়: European Organization for Nuclear Research), যা সের্ন নামে বেশি পরিচিত (উচ্চারণ [sɜːɹn] বা ফরাসি উচ্চারণে [sɛrn]), জেনেভা শহরের পশ্চিমে ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড-এর মধ্যকার সীমান্তে অবস্থিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ কণা পদার্থবিজ্ঞান (Particle Physics) গবেষণাগার। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর পীঠস্থান হিসাবেও এর পরিচিতি রয়েছে। ১৯৫৪ এর সেপ্টেম্বর ২৯-এ অনুষ্ঠিত এক সভায় সের্ন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি স্বাক্ষরিত হয়। প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রের সংখ্যা শুরুতে মাত্র ১২ থাকলেও বর্তমানে এই সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা বেড়ে ২০-এ দাঁড়িয়েছে।

সের্ন-এর আদি নাম ফরাসি "কোঁসেই ওরোপেয়ঁ পুর লা রেশের্শে ন্যুক্লেয়্যার" (Conseil Européen pour la Recherche Nucléaire)-এর আদ্যক্ষর চতুষ্টয় c, e, r, n থেকেই CERN বা সের্ন নামের উৎপত্তি।

সার্ণের অনন্য প্রথম আবিস্কার নিউট্রিনো কী?

নিউট্রিনো ( /njuːˈtriːnoʊ/) হচ্ছে বৈদ্যুতিক চার্জবিহীন, দুর্বল সক্রিয় অশূন্য ভরের অতিপারমাণবিক কণা।যেকোন পর্দাথের মধ্য দিয়ে কোন অবস্থায় এই কণা প্রায় অবিকৃতভাবে নি:শব্দে কোন প্রকার প্রতিক্রিয়াবিহীন অবস্থায় চলাচল করতে পারে। নিউট্রিনো অর্থ হচ্ছে 'ক্ষুদ্র নিরপেক্ষ কণা'গ্রীক বর্ণ নিউ (ν) দিয়ে একে প্রকাশ করা হযফ্রেডেরিক রাইনেস (/ˈraɪnɛs/ RY-nes; ১৬ মার্চ ১৯১৮ ২৬ আগস্ট ১৯৯৮) একজন মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ক্লাইড কাওয়ানের সাথে যৌথভাবে নিউট্রিনো আবিষ্কারের জন্য ১৯৯৫ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।২০১৫ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার যায় নিউট্রিনো গবেষণার খাতে। বিজয়ী বিজ্ঞানীরা হলেন, জাপানে তাকাআকি কাজিতা ও কানাডার আর্থর বি. ম্যাকডোনাল্ড। নিউট্রিনো-ভরশূন্য ফোটনজাতীয় কোনো কণা নয়-অশূন্যভরসম্পন্ন অতিপারমাণবিক কণা-এই রহস্য উদঘাটনের জন্য তাঁদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। কাজিতা ও ম্যাকডোনাল্ডের নোবেল পাওয়ার বিষয়ে রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিউট্রিনোর ভর নির্ণয়ে তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে (গতি আবিস্কারের জন্য নয়)। (সূত্রঃhttps://bn.wikipedia.org/wiki/নিউট্রি

অতিপারমাণবিক কণাদের মধ্যে নিউট্রিনো আশ্চর্য রকমের কয়েক প্রকারের নিম্নরূপ ধর্ম দেখায় যথা

১) নিউট্রিনো (প্রায়) ভরশুণ্য: নিউট্রিনোকে দৃশ্যত: ভরহীন (Mass less) মনে হয়। তবে সূক্ষ্ম পরীক্ষায় দেখা গেছে নিউট্রিনোর অত্যন্ত ক্ষুদ্রতর ভর আছে। ভরত্ব ইলেকট্রনের ২.৫ লক্ষ ভাগের মাত্র এক ভাগ । অর্থাৎ নিউট্রিনোর ভর যেন থেকেও নেই।

২) নিউট্রিনো (প্রায়) মিথষ্ক্রিয়া বিহীনঃ কণারা সাধারণত মহাকর্ষ, তড়িৎ চুম্বকীয়, সবল এবং দুর্বল বল এই চারটি মহাজাগতিক বলের মাধ্যমে মিথষ্ক্রিয়া করতে পারে অর্থাৎ অন্য কণাদের প্রভাবিত করতে পারে বা নিজে প্রভাবিত হতে পারে। পক্ষান্তর নিউট্রিনো আধানহীন তাই তড়িৎচুম্বকীয় মিথষ্ক্রিয়া দেখায় না। কোন কিছুতেই প্রভাবিত হয়না বলে নিউট্রিনো সমস্ত কিছু ভেদ করে সহজেই চলে যেতে পারে। প্রতি মুহূর্তে বিলিয়ন বিলিয়ন নিউট্রিনো আমাদের দেহ থেকে শুরু করে গোটা পৃথিবীটা, সৌরজগত, গ্যালাক্সি- সবকিছু ভেদ করে চলে ) ।

৩) নিউট্রিনো জ্বীন-ভূতের মত রূপবদল!

দেখা যায় নিউট্রিনো স্থানের মধ্য দিয়ে চলতে চলতেই একরূপ থেকে আরেকরূপ ধারণ করে অনেকটা করোনা কোভিড-১৯ এর মতই। নিউট্রিনো ৩ রকমের রূপ বদলাতে পারে যেমনঃ কখনও ১. ইলেকট্রন নিউট্রিনো, কখনও ২. মিউয়ন নিউট্রিনো কখনও ৩. টাও নিউট্রিনো-তে অনায়াসে রূপ পরিবর্তন করে থাকে যেমনটি ভূতেরা নাকি এমনটি করে কখনও সাপ, কখনও কালো বেড়াল, কালো কুকুরের রূপ ধরে থাকে। শুধু তাই নয়। নিউট্রিনো নাকি তরঙ্গের মত পর্যায়ক্রমে ভোলও পাল্টাতে পারে- যাকে ‘Neutrino Oscillation’ বলে। জ্বীন ভূতের যত সব লক্ষণাদি নিউট্রিনোর মধ্যে পাওয়া যাওয়াতে নিউট্রিনোকে বলা হয়ে থাকে ভূতুড়ে  কণা।

উল্লেখ্য, নিউট্রিনো যেকোনো সাধারণ পদার্থকেই অনায়াসে ভেদ করে চলে যেতে পারে | এমনকি সে পদার্থ যদি পৃথিবীর আকারের একটি গ্রহও হয় বা সূর্যের আকারের একটি নক্ষত্রও, তাতেও নিউট্রিনোকে আটকানো যাবে না। একটি নিউট্রিনোকে আটকাতে অর্থাৎ তাকে সনাক্ত করতে গেলে হয় এমন কিছু দরকার যেটি অন্ততঃ কয়েক আলোকবর্ষ পুরু হবে অথবা এমন কিছু যেটির ঘনত্ব নিউট্রন স্টার’(neutron star) এর অভ্যন্তরীণ ঘনত্বের (যা কিনা পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ১০১৪১০১৪ গুণ)

নিউট্রিনোর ভূতুতে গতি আবিস্কারের ইতিকথা

 ‘প্রজেক্ট অপেরানামের এক বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের অধীনে ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র (CERN) কর্তৃক সাড়া জাগানো নিউট্রিনোর গতিবেগ আবিস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। নিউট্রিনোর গতিবেগ আবিস্কারের ক্ষেত্রে গৃহীত এক পরীক্ষার প্রথম ধাপে সুইজারল্যান্ডের সিনক্রোটোন নামের একটি ভূগর্ভ যন্ত্রে প্রোটন কণা তৈরী করে তা গ্রাফাইটের ওপর নিক্ষেপ করা হয়। এতে প্রোটন কণাগুলি ভেঙে কিছু জটিল কণা তৈরী হয়, যেগুলি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষয় হয়ে মিউয়ন এবং মিউ নিউট্রিনো তৈরী করে। এ কণাগুলিকে তখন লোহার ওপর নিক্ষেপ করা হয়। এতে মিউয়ন নিউট্রিনো বাদে অন্য সব কণা প্রতিফলিত বা শোষিত হয়। মিউয়ন নিউট্রিনোগুলি সুইজারল্যান্ডের মাটি-পাথর ভেদ করে প্রায় ৭৫০কিলোমিটার দূরে ইতালিতে পৌঁছায়। এই নিউট্রিনো লোহাও ভেদ করে অনায়াসে এপার থেকে ওপারে ছুটে যেতে পারে আলোর গতির চাইতমজার ব্যাপার হলো যে, ভরবিহীন অর্থাৎ শুন্য ভরের (Mass-less) অধিকারী আলোর কণাই সাধারণতঃ ভরপূর্ণ অতিপারমানবিক কণার চাইতে দ্রুতগামী হয়ে থাকে। কিন্তু অশুন্য ভরের অধিকারী অর্থাৎ ভরযুক্ত নিউট্রিনো যার গতিবেগ নাকি ফোটনজাতীয় শুন্য ভরের আলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। অপেরা পরীক্ষণের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে, মিউয়ন নিউট্রিনোর গতি হলো আলোর গতির চাইতে অন্ততঃ ১.০০০০২৫ গুণ অর্থাৎ ৬০ ন্যানো সেকেন্ড বেশী। এখানেই বৈজ্ঞানিক জগতের চরম ও পরম বিস্ময়। এ যুগান্তকরী আবিস্কারে পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষ করে কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল তথা আইনস্টাইনের সুপ্রতিষ্ঠিত ও জগদ্বিখ্যাত সমীকরণ E=MC² (Theory of special relativity) বা বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে ধস নামে। কারণ, এ তত্ত্বের মূল কথা:আলোর চেয়ে দ্রুতগতির কোন কিছু এ জগতে নেইঅথচ এ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে আছে পদার্থ বিজ্ঞানের মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব স্ট্যান্ডার্ড মডেলসহ তত্ত্বিয় পদার্থবিদ্যার অন্য সব তত্আইনস্টাইনের special relativity তত্ত্বে কোন প্রকার বিপদ বিপর্যয় ঘটলে তাতে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ যতসব বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব-সূত্রাবলী ধসে পড়তে পারে-এ আশংকার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের কাছে ফ্রান্সের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র Center for European Research of Nuclear (CERN) কর্তৃক সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে অনেকটা যাদুকরীভাবে ঘোষণা করে বসে: আলোর চেয়েও দ্রুতগতিতে চলে "নিউট্রিনো"। 

শক্তির (Power) স্বরূপঃ কি এবং কিভাবে?

হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন হচ্ছে আকাশ এবং পৃথিবী (গ্রহ+নক্ষত্রসহ)এর উৎসমূল। মহাজগতের ৯৬%ই অজানা উৎস থেকে সৃষ্ট যার মধ্যে অধিকাংশই হচ্ছে অজানা শক্তি। ভরসম্পন্ন আলো কণাকে বস্তু/পদার্থ বলা হয়। ভরশুন্য ফোটনকে ভরত্ব প্রদানকারী ক্ষেত্র বা সৃত্রটি হচ্ছে শুন্যে বিদ্যমান শক্তি যা থেকে ফোটন বা আলো কণা ভরত্ব লাভ করে কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেলের সূ্ত্র অনুসারে হিগস বোসন কণায় পরিণত হয়েছে।

ফোটনের কি বুদ্ধি আছে?

আইনস্টাইন বলেন, আলো এক প্রকার শক্তি। কোয়ান্টম তত্বমতে শুন্যস্থানও শক্তিসম্পন্ন।

পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় এনার্জি বা শক্তির অর্থ কাজ করার সামর্থ্য। অর্থাৎ শক্তিকে এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় রূপান্তর করা। যে বস্তু কাজ করতে সমর্থ তার মধ্যেই শক্তি থাকে বিধায় তাকে সচল বস্তু, কার্যকর বস্তু বলে থাকি। আমরা যখন বলি কোনো বস্তুর মধ্যে শক্তি নিহিত আছেতখন বোঝা যায়বস্তুটি অন্য কিছুর ওপর বল প্রয়োগ করতে পারে এবং তার ওপর  যথাযথভাবে কাজ সম্পাদন করতে পারে।

১৭ শতকে শক্তিবিষয়ক একটি ধারণা বোঝাতে জার্মান বিজ্ঞানী গটফ্রিড লিবনিজ ল্যাটিন শব্দ ভিস ভিভা ব্যবহার করেছিলেন। এর অর্থ জীবন্ত বল বা শক্তি (ফোর্স)। পক্ষান্তরে ১৮০৭ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞান টমাস ইয়ং এই ধারণাটিকে বোঝাতে ভিস ভিভার পরিবর্তে এনার্জি শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। গ্রিক শব্দ এনার্জিয়া (Energeia) থেকে উদ্ভূত এনার্জিশব্দটির অর্থ ক্রিয়াকলাপ, কার্যকলাপ, কর্মশক্তি ইত্যাদি।

গতির কারণে কাজ সম্পাদিত হয়। তাই গতিই নিশ্চিতভাবেই একপ্রকার শক্তি। এই শক্তিটিকে বোঝাতে ১৮৫৬ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী লর্ড কেলভিন (উইলিয়াম থমসন) কাইনেটিক এনার্জি (Kinetic energy) শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এই কাইনেটিক শব্দটিও এসেছে গ্রিক কাইনেসিস (Kinesis) থেকেগ্রিক ভাষায় যার অর্থ গতি।

(তথ্যসূত্রঃ https://www.bigganchinta.com/scwords/how-energy-came-in-science)।

আমরা আমাদের দৈনন্দিক কাজ কর্মে যে শক্তি প্রয়োগ করি তা  অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা হিসেবে। কখনও সজ্ঞানে কখনও অজ্ঞানে বা অসচেতনভাবে আমরা বস্তুর ওজন ও ভরত্ব তথা বস্তুজ্ঞান”-Material Knowledge অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করে থাকি।

দৈহিক শক্তি এবং মানসিক শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের নাম মানুষ। মানব জীবন মূলতঃ শক্তিভিত্তিক। তিন প্রধান জীবনকালের মধ্যে গণ্য জীবনকাল হচ্ছে যৌবনকাল যা শক্তির প্রতীক। যৌবনকালের পূর্বে এবং পরের জীবন ধর্তব্যের মধ্যে গণ্য নয়। একটি যন্ত্র তখনই কর্মক্ষম, সচল, সক্রিয় থাকে যখন যন্ত্রটির মধ্যে শক্তি থাকে যাকে আমরা টেম্পার বলে থাকি। সিংহ ততদিন বনের রাজা যতদিন শক্তি থাকে। প্রবল প্রতাপশালী রাজা-বাদশাহর রাজত্ব, বাদশাহী ততক্ষণ যতক্ষণ দৈহিক শক্তি এবং মানসিক শক্তিসম্পন্ন। এর বিপর্যয় ঘটলে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করা হয়। একজন কর্মী অবসরপ্রাপ্ত হন সে বয়স্কালে যখন কর্মক্ষমতা লোপ পায়। তাই জীবন-জগতে শক্তির মান অনন্য, অসাধারণ।

শক্তি বলতে কাজ করার সামর্থ্যকে বুঝায়। প্রধানত শ‌ক্তি হ‌চ্ছে পদা‌র্থের এমন একটি বৈ‌শিষ্ট্য যার সৃ‌ষ্টি বা ধ্বংস নেই এক রূপ থে‌কে অন্য রূপ নি‌তে পা‌রে এবং এক বস্তু থে‌কে অন্য বস্তুতে যেতে পারে। বিখ্যাত E=mc² অনুযা‌য়ী শ‌ক্তি পদা‌র্থে নি‌হিত থাক‌তে পা‌রে । যেমন ফিসন বি‌ক্রিয়া । কাজ বা কার্য হচ্ছে বল(force) ও বলের দিকে সরণের (displacement) গুণফল। কৃতকাজের পরিমাণ দিয়েই শক্তি পরিমাপ করা হয়। অর্থাৎ বস্তুর শক্তি হচ্ছে ঐ বস্তু মোট যতখানি কাজ করতে পারে। সুতরাং কাজের একক ও শক্তির একক অভিন্ন - জুল। ১ জুল = ১ নিউটনХ ১ মিটার।

শক্তির বিভিন্ন প্রাকৃতিক রূপ আছে। মোটামুটিভাবে শক্তির নয়টি রূপ দিয়ে প্রাকৃতিক সব ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়া হয়। শক্তির রূপগুলি হলঃ

·         যান্ত্রিক শক্তি

·         আলোক শক্তি

·         শব্দ শক্তি

·         তাপ শক্তি

·         চৌম্বক শক্তি

·         তড়িৎ শক্তি

·         নিউক্লিয় শক্তি

·         রাসায়নিক শক্তি

·         সৌর শক্তি

·         মহাকর্ষ শক্তি

শক্তির রূপগুলোকে সাধারণত সংশ্লিষ্ট বল অনুসারে অভিহিত করা হয়। (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া, এনসাক্লোপিডিয়া)।

 শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি

পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় শক্তি বলতে কাজ করার সামর্থ্যকে বুঝায়। কাজ বা কার্য হচ্ছে বল(force) ও বলাভিমুখী সরণের(displacement) গুণফল। কৃতকাজের পরিমাণ দিয়েই শক্তি পরিমাপ করা হয়। অর্থাৎ বস্তুর শক্তি হচ্ছে ঐ বস্তু মোট যতখানি কাজ করতে পারে। সুতরাং কাজের একক ও শক্তির একক অভিন্ন - জুল। ১ জুল = ১ নিউটন Х ১ মিটার। শক্তি একটি অদিক রাশি।

শক্তির স্বরূপঃ

শক্তির বিভিন্ন রূপ আছে। মোটামুটিভাবে শক্তির নয়টি রূপ দিয়ে প্রাকৃতিক সব ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়া হয়। শক্তির রূপগুলি হলঃ

যান্ত্রিক শক্তি আলোক শক্তি শব্দ শক্তি তাপ শক্তি চৌম্বক শক্তি তড়িৎবিদ্যুৎ শক্তি নিউক্লিয় শক্তি রাসায়নিক শক্তি সৌর শক্তি শক্তির রূপগুলোকে সাধারণত সংশ্লিষ্ট বল অনুসারে ডাকা হয়।

শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি

শক্তির যে কোন রূপকে অন্য যে কোন রূপে রূপান্তরিত করা যায়কিন্তু মোট শক্তির পরিমাণ একই থাকে। একে শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি বা শক্তির নিত্যতা সূত্র বলা হয়। শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতিকে এভাবে বিবৃত করা যায়ঃ

শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নেইশক্তি কেবল একরূপ থেকে অপর এক বা একাধিকরূপে পরিবর্তিত হতে পারে। মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়।

শক্তি একরূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হলে শক্তির কোন ক্ষয় হয় না। একটি বা একাধিক বস্তু যে পরিমাণ শক্তি হারায়অন্য এক বা একাধিক বস্তু ঠিক একই পরিমাণ শক্তি পায়। নতুন করে কোন শক্তি সৃষ্টি হয় না বা কোন শক্তি ধ্বংসও হয়না। সুতরাং এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিলএখনও ঠিক সেই পরিমাণ শক্তিই আছে।

কাজ-শক্তি উপপাদ্য কোন বস্তুর উপর কৃত কাজ তার গতিশক্তির পরিবর্তনের সমান। অর্থাৎ যেহেতু কোন বস্তুর উপর কাজ করলে তা বস্তুকে গতি দেয়আবার যেহেতু ঐ গতিকে কাজে রূপান্তর করা সম্ভব (তাকে থামিয়ে দিতে গিয়ে)সেহেতু আমরা বলি ঐ বস্তুতে (গতি)শক্তি এসেছে।

কাজ-শক্তি উপপাদ্য

কোন বস্তুর উপর কৃত কাজ তার গতিশক্তির পরিবর্তনের সমান। অর্থাৎ যেহেতু কোন বস্তুর উপর কাজ করলে তা বস্তুকে গতি দেয়আবার যেহেতু ঐ গতিকে কাজে রূপান্তর করা সম্ভব (তাকে থামিয়ে দিতে গিয়ে)সেহেতু আমরা বলি ঐ বস্তুতে (গতি)শক্তি এসেছে।

 (সূত্রঃhttps://bn.wikipedia.org/wiki/শক্তি)।

 পরিবেশ বিজ্ঞান

পরিবেশের সংজ্ঞা

জার্মান  "Environশব্দ থেকে ইংরেজী Environment শব্দটির বুৎপত্তি- যার বাংলা অর্থ পরিবেশ

পরিবেশ বিজ্ঞানী বটকিন ও কেলার (১৯৯৫) তাদের "Environmental Scienceগ্রন্থে বলেন - জীব অর্থাৎ উদ্ভিদ বা প্রানী তাদের জীবনচক্রের যে কোনো সময়ে যে সমস্ত জৈব এবং অজৈব কারণ গুলির দ্বারা প্রভাবিত হয়সেই কারণ গুলির সমষ্টিকে পরিবেশ বলে।

পরিবেশ বিপর্যয়ের সূচনা ধরা হয়ে থাকে যেদিন থেকে ইউরোপে প্রথম শিল্পবিপ্লবের ফলে কলকারখানার চিমনি দিয়ে ধোঁয়া আকারে কার্বন নির্গত হওয়া শুরু হয়েছিল। তবে মানুষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পরিবেশ সচেতনা জেগেছিল ১৯৭০ সালে ওয়াশিংটনে “World Earth Day”  (বিশ্ব ধরণী দিবস) উদযাপনের মধ্য দিয়ে। তারও আগে নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিবেশ বিপর্যয় অআঁচ করতে পেরে বলে উঠেছিলেনঃ দাও ফিরে অরণ্য লওহে নগর।

মহাকাশ থেকে ১৯৬৯ অ্যাপোলো-১১ এর নভোচারিরা চন্দ্র থেকে যে পৃথিবীকে সবুজাভ অপরূপ দেখেছিলেন সেই পৃথিবীকেই পরবর্তীতে মহাকাশে জাপানী নভোচারীরা বিবর্ণরূপ দেখেছিলেন।

পৃথিবীর পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি আরেক বৈশ্বিক পরিবর্তন লক্ষ্যনীয় যা পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টির পূর্বেই মানুষ দিব্যি অনুভব উপলদ্ধি করেছিলেন সেটি হলো মানবিক বিপর্যয়। যার কারণে দুঃখবোধ করে ফরাসী সমাজবিজ্ঞানী বলেছিলেনঃ “We are living in a dying culture” (Willium Sorokin)

প্রকৃতি ও মনুষ্য সৃষ্ট যে ঘটনা গুলো মানুষের প্রাণহানী ঘটায়মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কে ব্যাহত করেপ্রাকৃতিকসামাজিকসাংস্কৃতিক সম্পদের ক্ষতি করে সেই ঘটনা গুলোকে তাদের তীব্রতাক্ষয় ক্ষতির মাত্রা অনুসারে দুটো শ্রেণীতে ভাগ করা হয়যথা - দুর্যোগ ও বিপর্যয়।

👉 অস্বাভাবিক পরিস্থিতি যখন হঠাৎ স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছন্দ পতন ঘটায়তখন তাকে দুর্যোগ বলে।

👉 দুর্যোগের প্রভাবে ব্যাপক আকারে প্রাণহানীপ্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ ধ্বংস হওয়া কে বিপর্যয় বলে।

👉 দুর্যোগ ক্ষুদ্র স্কেলে ঘটে থাকে।

👉 বিপর্যয় বৃহৎ স্কেলে সংঘটিত হয়।

👉দুর্যোগের উদাহরণ হল ধ্বসমাঝারি তীব্রতার ভূমিকম্পখরাশিলাবৃষ্টি প্রভৃতি।

👉 প্রবল গতিবেগ সম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়প্রবল তীব্রতার ভূমিকম্পপারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ প্রভৃতি বিপর্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।

একই জায়গায় একই সাথে বহু প্রজাতির বিভিন্ন সংখ্যক গাছের সমাবেশ ঘটলে তাকে অরণ্য বলে। তবে

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মত অনুসারে সেই সমস্ত স্বাভাবিক উদ্ভিদের সমাবেশকেই অরণ্য নামে অভিহিত করা হয়যা স্থানীয় জলবায়ু এবং তার বণ্টনের ওপর প্রভাব বিস্তার করেজীবজন্তুকে আশ্রয় দেয় ও প্রাকৃতিক বাসস্থান গড়ে তোলে এবং কাঠ উৎপাদনে সক্ষম। এছাড়া প্রতি হেক্টর অন্তত ০.০৫ হেক্টর জমির উপর এই ধরনের গাছপালার সমাবেশ থাকলেতবেই তাকে বনভূমি বলে। অরণ্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে  আমাদের সাহায্য করে থাকে। অরন্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উপকারিতা গুলি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

 প্রত্যক্ষ গুরুত্ব

জ্বালানি কাঠ - অর্ণ থেকে প্রাপ্ত শক্ত ও নরম কাঠ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জ্বালানি রূপে ব্যবহৃত হয়। প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীতে উৎপাদিত মোট কাঠের শতকরা প্রায় ৫০ ভাগই জ্বালানি রূপে ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ আমেরিকাআফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার সবথেকে বেশি।

শিল্পের কাঁচামাল - দেশলাই উৎপাদনপ্লাইউড নির্মাণআসবাসপত্র নির্মাণজাহাজ ও রেলগাড়ি সহ বিভিন্ন যানবাহনের অংশবিশেষ নির্মাণকাগজের মন্ড প্রস্তুতির কাঁচামালরেয়ন প্রস্তুতির কাঁচামালকাঠের বোর্ড উৎপাদনের নরম ও শক্ত কাঠ ব্যবহার হয়। এছাড়া ঘরবাড়ি নির্মাণেও কাঠ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ভেষজ দ্রব্য - অরণ্য থেকে সর্পগন্ধাঅনন্তমূলকুথ,  সিঙ্কোনা প্রভৃতি পাওয়া যায় এবং ওষুধ তৈরির কাজে লাগে।

উপজাত বনজ দ্রব্য - বনভূমি থেকে লাক্ষাধুনারজনগদহরিতকীদারচিনিএলাচকালো জিরেবেতঘাসতারপিন তেলরাবার প্রভৃতি বনজদ্রব্য সংগ্রহ করা হয়।

পশুপালন - তৃণভূমি অঞ্চলে গবাদিপশু প্রতিপালন করা হয় ও পশুপালন শিল্প গড়ে ওঠে। যেমন অস্ট্রেলিয়া ডাউনসউত্তর আমেরিকার প্রেইরি নিউজিল্যান্ডের তোষক প্রভৃতি তৃণভূমি গুলি পশুচারণ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

পর্যটন শিল্প - বনভূমি অসংখ্য পশুপাখির আবাসস্থল। পশুপাখি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণ এ পৃথিবীর সব বনভূমিতে পর্যটকেরা বেড়াতে যান। যেমন - আফ্রিকার সেরেঙ্গেটিমাসাইমারা প্রভৃতি অরণ্যে হাজার হাজার বিদেশি পর্যটক প্রতিবছর বেড়াতে আসেন।

পরোক্ষ উপকারিতা বা গুরুত্ব

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ - অরণ্য জলবায়ুর উপর প্রভাব বিস্তার করে। গাছের পাতা থেকে বাষ্প মোচন প্রক্রিয়ায় নির্গত জল জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এর ফলে বনভূমির বায়ু আর্দ্র হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

পরিবেশ দূষণ - অরণ্য পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখে। গাছ বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং বায়ুতে অক্সিজেনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

মৃত্তিকা ক্ষয় নিবারণ - বনভূমি থাকলে মৃত্তিকার উপরে স্তরটি বৃষ্টির জলের সঙ্গে ধুয়ে যায় না অথবা ঝরের সময় শুকনো ধূলিকণা একস্থান থেকে অন্যস্থানে অপসারিত হয় না। গাছের শিকর মৃত্তিকার কণাগুলি কে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ রেখে মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি হওয়ায় সেখানে বনভূমি থাকা একান্ত প্রয়োজন।

মরুভূমির প্রসার রোধ - বনভূমি মরুভূমির বিস্তার রোধ করে। মরমের প্রান্তদেশে অরণ্য বলয় সৃষ্টি করে বাড়ি কনায় বিস্তার প্রতিহত করা যায়। ভারতের ধর্মের প্রসার রোধ করার উদ্দেশ্যে মরুভূমির প্রান্তদেশে অরণ্য বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে।

মৃত্তিকার উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি - গাছের ডালপালাপাতাশিকড় ইত্যাদি পচে জৈব পদার্থ উৎপন্ন হয়। এই জৈবপদার্থ সংযোজিত হয়ে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়।

বন্যার প্রভাব হ্রাস - বৃষ্টির জলের সঙ্গে প্রচুর পলি বাহিত হয়ে করে নদীতে গিয়ে জমা হয় ও নদী খাতের গভীরতা হ্রাস করে। এর ফলে বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। বন ভূমি থাকলে বৃষ্টির জলের সঙ্গে বাহিত এই পলির পরিমাণ হ্রাস পায় এবং বন্যার জল ভূগর্ভে অনেক বেশি পরিমাণে প্রবেশ করে বন্যার প্রকোপ কমায়।

ঝড়ের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ - অরণ্য বিধ্বংসী ঝড়ের প্রকোপ থেকে জীবন ও সম্পত্তি হানি রোধ করে।

জাতীয় আয়ের উৎস - বনজ সম্পদের প্রাচুর্য  দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কানাডাআমেরিকা যুক্তরাষ্ট্ররাশিয়ামায়ানমার প্রভৃতি দেশের জাতীয় আয়ের একটি প্রধান উৎস হলো বনজ সম্পদ।

জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ - গাছপালাপশুপাখিকীটপতঙ্গ প্রভৃতি জীব বৈচিত্রের ধারক ও বাহক হল অরণ্য। আগামী প্রজন্মের জন্য জীব বৈচিত্রের বিশেষভাবে প্রয়োজন।

(তথ্যসূত্রঃ i) https://www.bhugolhelp.com/2022/02/direct-and-indirect-benifits-of-forest.html

 ii) https://www.bhugolhelp.com/2021/01/environment.html

বৈশ্বিক উষ্ণতায় আমাদের নৈতিক দায়িত্ব-কর্তব্য

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জলবায়ু সম্মেলনে (কপ ২৬) ধনী রাষ্ট্র ও বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান এখন কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হাজার হাজার কোটি ডলারের তহবিল কীভাবে গড়া যায় সে আলোচনায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। এ লক্ষ্যে বিল গেটসের মতো বিশ্বের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তিত্বদের সম্মেলনে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ জাতিসংঘ আয়োজিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ) অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের (২০২১) অক্টোবরে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ঞতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে (বর্তমানে তা কমিয়ে দেড় ডিগ্রি বলা হচ্ছে) সীমিত রাখতে না পালে জলবায়ুর বিপর্যয়কর ধারা অব্যাহত থাকার আশংকা রয়েছে। অবশ্য, পরিবেশ আইন যথাযথ মেনে চলা সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক জ্বালানী সংস্থা বৈশ্বিক উষ্ঞতা ১ দশমিক ৮ সেলসিয়াসে নেমে আসার প্রত্যাশা করছে।

আমেরিকার এক প্রান্তে প্রচন্ড ঝড়-তুফান, বন্যা, টর্নেডো, হারিকেন আরেক প্রান্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, জার্মানীসহ ইউরোপের বিস্তৃর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা, জাপানের সুনামি, অগ্নুৎপাত, দক্ষিণ আমেরিকান দেশ ব্রাজিলের “পৃথিবীর ফুসফুস” খ্যাত আমাজান রেইন ফরেস্ট যা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বিদ্যমান মোট অক্সিজেনের ২০% সরবরাহকারী সেই আমাজানের এক বৃহৎ অংশ বিগত ২০১৯ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর ব্যাপী সৃষ্ট দাবানলে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া-এসবই গ্লোবাল ক্লাইমেট চেইন্জের বড় ধরণের আলামত। উল্লেখ্য, আমাজান, তুরস্ক, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বনান্চলে প্রায়শঃ সংঘটিত দাবানলের জন্য পরিবেশ বিজ্ঞানীরা প্রধানতঃ ২টি কারণ চিহ্নিত করেছেন। ১. মানব সৃষ্ট ২. প্রাকৃতিক।

১. মানব সৃষ্ট কারণঃ  ক) বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ইটের ভাটায় ব্যাপকহারে কয়লা, পেট্রল, ডিজেলসহ জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো খ) স্থান সংকুলান করে বসতি স্থাপনের জন্য বনের গাছপালায় ব্যাপকহারে আগুন ধরানোর ফলে প্রবল বাতাসের দরুন তা বনান্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক হারে পরিবেশ দূষণ ঘটে। উল্লেখ্য, মানুষের কর্মকান্ডের ফলে পৃথিবীর ইকোসিস্টেম এর উপর কিরূপ প্রভাব রয়েছে সে ব্যাপারে এক গবেষণায় জানা যায় জাতিসংঘের Intergovernmental Science Policy Platform on Bio-dyvercity and Ecosystem Services-এ। এতে বলা হয়, পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ জায়গা ইতিমধ্যে মানুষ পরিবর্তন করে ফেলেছে যার প্রভাব জীববৈচিত্র্যের উপর পড়ছে। এই রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা এবং সরকারী রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে। ১৩২টি দেশের সরকারী প্রতিনিধিরা এই রিপোর্ট অনুমোদনের জন্য প্যারিসে বৈঠকে বসেন। রিপোর্টে অআশংকা প্রকাশ করা হয়েছে যে, বর্তমানে যেভাবে সবুজ সারের পরিবর্তে ব্যাপকহারে কীটনাশক ব্যবহারে খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে তাতে গ্রীণ হাউজ অ্যাফেক্টের ফলে জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২. প্রাকৃতিক কারণঃ বিশেষ করে গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপের সাথে বাতাস এর সংযোগে গাছে গাছে ঘর্ষনের দরুন বন বনান্তরে আগুন ধরে যায়।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞান

চলমান বৈশ্বিক ভাইরাস কোভিড-১৯: নতুন বিজ্ঞানের হাতছানি?

করোনা ভাইরাস কী এবং কেন?

করোনা ভাইরাস এতই ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র যে, না খালি চোখে, না এনালগ যুগের মাইক্রোস্কোপ, না দূরবীক্ষণ, অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে কোভিড-১৯-কে দেখতে পারা যায় বরং তাকে দেখলে হলে প্রয়োজন ইলেকট্রন মাইক্রো টেলিস্কোপের। কারণ কোভিড-১৯ করোনার আকার আয়তন মাত্র ০.১২ মাইক্রোন।

করোনাভাইরাস শব্দটি ল্যাটিন করোনা শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে- যার বাংলা অর্থ মুকুট। উল্লেখ্য, ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ভাইরাসটি দেখতে অনেকটা (রাজ) মুকুটের মত।

গঠন-প্রকৃতিঃ ভাইরাসের উপরিভাগে প্রোটিন সমৃদ্ধ থাকে যা ভাইরাল স্পাইক পেপলোমার দ্বারা এর অঙ্গ সংস্থান গঠন করে। এ প্রোটিন সংক্রামিত হওয়া টিস্যু বিনষ্ট করে। করোনাভাইরাস হলো নিদুভাইরাস শ্রেণীর করোনাভাইরদা পরিবারভুক্ত করোনাভাইরিনা উপগোত্রের একটি সংক্রমণ ভাইরাস প্রজাতি। এ ভাইরাসের জিনোম নিজস্ব আরএনএ দিয়ে গঠিত। এর জিনোমের আকার সাধারণত ২৬ থেকে ৩২ কিলো বেস পেয়ার এর মধ্যে হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস প্রজাতির সবগুলির জিনোম একসূত্রক আরএনএ বিশিষ্ট। আরএনএ+নিউক্লক অ্যাসিড মিলে তৈরী হয় নিউক্লিওক্যাপসিডনামক একটি কাঠামো। এটি থাকে করোনার কেন্দ্র। আবৃত থাকে ফসফোলিপিড এবং অন্যান্য প্রোটিনের সমন্বয়ে তৈরী বিশেষ ধরণের ইনভেলপ দ্বারা। ইনভেলপের সঙ্গে লেগে থাকে স্পাইক প্রোটিন।

 (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া, এনসাইক্লোপেডিয়া)

 মানব সংক্রামক করোনাভাইরাসঃ

 করোনা ভাইরাসের গঠন-উপাদানঃ যেকোন ভাইরাসের মূল উপাদান প্রোটিন+নিউক্লিক অ্যাসিড।

উল্লেখ্য, চীনের হাংঝোতে ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসটি কমপক্ষে ৩০টি ভিন্ন ভিন্ন জিনগত সংস্করণে রূপান্তরিত হয়েছে। ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মার্কিন গবেষকেরা করোনাভাইরাসের ১৪ ধরনের রূপান্তর খুঁজে পেয়েছেন। লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এসব রূপান্তরের মাধ্যমে একটি ভাইরাস আরও সংক্রামক হয়ে উঠতে পারে। চীনের উত্তরাঞ্চলে গুচ্ছাকারে নতুন বিস্তারে সংক্রমিত রোগীদের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের পৃথক আচরণ লক্ষ্য করছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকেরা ধারণা করছেন, অজানা কোনো উপায়ে ভাইরাসটি পরিবর্তিত হচ্ছে যা পৃথিবীকে করোনা মুক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও জটিল থেকে জটিলতর হয়ে পড়েছে। সিঙ্গাপুরের দ্য বিজনেস টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

অপর এক গবেষণায় জানা যায় যে, উপরোক্ত এই তিন প্রকারের করোনা মানুষের ইমিউন সিস্টেমের সক্ষমতা বুঝে আক্রমণ করে থাকে এবং সে অনুযায়ী নিজের স্ট্রেনগুলো পরিবর্তন করে মানুষকে সংক্রমিত করছে।

২৪ ডিসেম্বর থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত ভাইরাসটির জিনগত ইতিহাসের ম্যাপ করা হয়েছিল সেখানেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দেখা গেছে করোনার তিনটি প্রকার ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলেও প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা ক্ষমতা ও রূপ রয়েছে। তিনটি দলের আক্রমণের টার্গেটও ভিন্ন ভিন্ন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় প্রকাশ, চীনের উহানে উদ্ভত এবং পর্ব এশিয়ায় সংক্রমিত এখন যে কোভিড-১৯ নামের ভাইরাস দেখা যাচ্ছে সেটা তিন প্রকারের ভাইরাসের মূল কোনো প্রকারই নয়। এটি মূলত এমন অনন্য অদ্ভূত এক রূপান্তর শক্তি সম্পন্ন যা প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত এবংসর্বাধুনিক ডিজিটাল প্রযু্ক্তি সম্পন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের পীঠস্থান এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সমরশক্তিধর ইঙ্গ-মার্কিন সেক্টরে দোর্দন্ডপ্রতাপে চ্যালেন্জ্ঞ বিহীনভাবে বিদ্যমান যা বিশ্বকে হতবাক করে দিচ্ছে, অসহায় হয়ে পড়েছে ডিজিটাল বিশ্ব। পূর্ব এশিয়ায় "টাইপ বি" রূপে চীনের উহানে উদ্ভূত করোনা কোভিড-১৯, আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়ায় "টাইপ-এ" রূপ ধারণ করে, এবং টাইপ-বি থেকে পরিবর্তিত হয়ে "টাইপ-সি" রূপ ধারণ করে সিঙ্গাপুর হয়ে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে যা ভাইরাস তথা করোনা গোত্রীয় ভাইরাসের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

 করোনার মানবদেহ কোষে প্রবেশে বৈজ্ঞানিক কলা-কৌশল

করোনা বা অন্যকোন ভাইরাসের মানব দেহে প্রবেশ বড় কথা নয়। এমন মানব দেহও রয়েছে ভাইরাস/ব্যাকটেরিয়া বহন করে যাচ্ছে ৩০ বছর ধরে। এ কারণে হজ্বযাত্রী বা বিদেশগামীদের জন্য রয়েছে বিশেষ মেডিক্যাল টেষ্টের ব্যবস্থা। ভাইরাসের সাফল্য বা ব্যর্থতা মানব দেহ কোষে প্রবেশ করা না করার উপর ভিত্তিশীল নয় । তাছাড়া একটি চাবি থাকলেই তালা খুলবে-এমন বিধান যেমন জগতে নেই।

তালা খোলার শর্তঃ চাবি তালার সাথে ম্যাচিং হতে হবে। তা নাহলে এক চাবিতেই সব দরজা খোলা যেত। অনুরূপ মানব দেহ কোষের বহিঃগঠনের সঙ্গে প্রবেশকৃত ভাইরাসের ম্যাচিং-মিসম্যাচিংয়ের কিছু বিষয় থাকে। আমাদের কোষের বাইরের স্তরে কিছু রিসেপ্টর থাকে। কোষের ধরণভেদে এই রিসেপ্টরগুলির গঠন ভিন্ন হয়। ভাইরাসের দেহের স্পাইকগুলো যদি কোষের রিসেপ্টরের সঙ্গে ম্যাচ করে, তাহলেই কোষের ভেতর অনুপ্রবেশ করা সহজ হয়। কোষের ভেতর এভাবে ভাইরাস ঢুকে গেলে আমাদের দেহকোষের ভেতর যে মেকানিজম আছে, সেখানে ভাইরাসের ডিএনএ বা আরএনএ সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে ভাইরাসের ডিএনএ বা আরএনএ পুনঃ পুনঃ তৈরি হতে থাকে যা সংখ্যায় লক্ষ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ডিএনএ ভাইরাসের ২টি স্ট্রিং এবং আরএনএ ভাইরাসের ১টি স্ট্রিং রয়েছে। আরএনএ ভাইরাস মানব শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে নেয় এবং মানব দেহকোষে প্রোটিন তৈরি করে সহজে তার নিজস্ব উপাদানের অনুরূপ স্ট্রিং তৈরি করতে থাকে। লে কোভিড-১৯ কে সহজে সনাক্ত এবং প্রতিষেধকের বিষয়টি কিছুটা দুরূহ বটে।

ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের ধারণা, করোনা কোভিড এক  স্ট্রিং বিশিষ্ট আরএনএ  ভাইরাস হওয়ায় মিউটেশন বা ঘন ঘন রূপ পরিবর্তনের ফলে দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে এর সহজ ভ্যাকসিন আবিস্কার।

 মানব দেহের অভ্যন্তরে করোনা ভাইরাসের কাজটি কি?

করোনা ভাইরাসের নিজস্ব কোন প্রোটিন নেই। বাস্তবে করোনা মানব দেহভ্যন্তরে সপ্তাহ- দুই সপ্তাহ (১৪ দিন) অবস্থানকালে বসে বসে অলস সময় কাটায় না। করোনা তার দেহভ্যন্তরের নিজস্ব আরএনএ-এর সাহায্যে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ কোষের রাইবোজোমের সঙ্গে মিলে তার  দেহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রস্তুত করতে থাকে।

কেন মানবদেহে করোনার এই প্রোটিন ফ্যাক্টরী গড়ে তোলা?

আসল কাজটা সারানোর জন্যই বস্তুতঃ করোনার এই প্রোটিন ফ্যাক্টর গড়া। কাজটি হচ্ছে, সর্বনিম্ন ১দিন থেকে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মাথায় করোনা তার মিশন-ভিশন কার্যকর করার জন্য উপায় অবলম্বন হিসাবে "স্পাইক" নামক চাবি তৈরী করে থাকে। উৎপাদিত এই প্রোটিন দিয়েই চাবির মত স্পাইক তৈরি করে নেয় মানব দেহভ্যন্তরে সহজ প্রবেশের জন্য। প্রবেশের এই সফলতার লক্ষণ প্রবেশকৃত দেহে করোনার প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, শ্বাস কষ্ট দেখা দেয়া। লক্ষ্যনীয় যে, করোনা কিন্তু আজব কোন উপসর্গ বহন করে না। অতি সাধারণ উপসর্গ সে প্রকাশ করে থাকে (যাতে মানুষ কি মনে করতে পারেঃ এতো "বারোমাসী" উপসর্গ?)লক্ষণ বা উপসর্গেও রয়েছে করোনার দারুন বুদ্ধিমত্তার পরিচয়!

মানব দেহে করোনার চূড়ান্ত পদক্ষেপঃ

মানব দেহে চূড়ান্ত পদক্ষেপ (Action) করোনাভাইরাস তার মিশন-ভিশন চড়ান্ত পর্যায়ে সফল সম্পন্নের জন্য যখন মানবদেহের অভ্যন্তরস্থিত শ্বাসনালি ছেড়ে নীচে নেমে ফুসফুস-কে সংক্রমিত করে তখনই রোগীর দেহে আসল জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ সময় ফুসফুসের অনেক কোষ ভেঙ্গে পড়ে। ফলে ভাঙা কোষে ফুসফুস ভরে যেতে শুরু করে। এতে রোগীর ফুসফুসে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। বলা যায়, রোগীর এ অবস্থা সৃষ্টিই যেন করোনা কোভিড-১৯ এর মানবদেহে প্রবেশের মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। রোগীর জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন এই সময়েই দেখা দেয়। এই সময়েই প্রয়োজন হয়ে পড়ে রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তরের।

আইসিইউ'তে এহেন সংকটের সময়েই নেমে আসে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতের ধারা!

করোনা শ্বাসনালি হয়ে ফুসফুসের কোষ ভেঙ্গে, ভাঙা কোষে ফুসফুস ভরিয়ে ফুসফুসে প্রদাহের সৃষ্টি করে রোগীর জীবন যে মুহুর্তে বিপন্ন করে তোলে তখনই মানবজীবনের এহেন মহাসংকটের সময়েই আক্রান্ত দেহের অভ্যন্তরস্থিত অ্যান্টিবডির অনেক প্রতিরোধী কোষ করোনা ভাইরাস-কে আক্রমণের জন্য ছুটতে থাকে যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে সাইটোকিন স্ট্রমবলা হয়। দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষার জন্য অন্ততঃ যেমন তিন তিনটি প্রতিরক্ষা ১) স্থল ২) নৌ এবং ৩) বিমান বাহিনী মোতায়েন করা হয়ে থাকে। অনুরূপ মানব স্রষ্টা মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দার দেহ সুরক্ষার জন্য মোতায়েন করেন দেহের ভিতর যে কুদরাতি প্রতিরক্ষা বাহিনী তার বৈজ্ঞানিক নাম অ্যান্টিবডি বা প্রতিরক্ষিকা এটি মানব দেহে ক্ষতিকর ভাইরাসজাতীয় বহিরাগত পদার্থের বা প্রতিরক্ষা-উদ্দীপকের (অ্যান্টিজেন) উপস্থিতির প্রত্যুত্তর হিসেবে দেহের অনাক্রম্যতন্ত্র (তথা প্রতিরক্ষাতন্ত্র) কর্তৃক উৎপন্ন এক ধরনের ইংরেজি ওয়াই-আকৃতির (গুলতির মত দেখতে) প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন জাতীয় এক প্রকার পদার্থ। প্রতিরক্ষিকাগুলি প্রতিরক্ষা-উদ্দীপকগুলিকে শনাক্ত করে এবং এগুলির গায়ে তাদের ওয়াই-আকৃতির বাহুদ্বয়ের অগ্রপ্রান্তগুলির মাধ্যমে আবদ্ধ হয়ে এগুলিকে দেহ থেকে বিতাড়ন করার চেষ্টা করে। দেহ বহু ধরনের পদার্থকে প্রতিরক্ষা-উদ্দীপক হিসেবে গণ্য করতে পারে, যেমন রোগব্যাধি সংক্রামণকারী জীবাণু (ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া), বিষাক্ত পদার্থ যেমন কীটপতঙ্গের বিষ, বহিরাগত প্রোটিন, ইত্যাদি। প্রতিরক্ষিকাগুলি লক্ষ লক্ষ ধরনের হয়ে থাকে। এগুলি দেহের লসিকাকোষ নামক এক ধরনের কোষে খোদায়ী কুদরতের মাধ্যমে আপনা আপনি উৎপন্ন হয়। প্রতিরক্ষিকাগুলি দেহের অনাক্রম্যতন্ত্রের (প্রতিরক্ষাতন্ত্রের) একটি গুরুত্বপর্ণ অংশ। সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণীর রক্তের গামা মষড়নঁষরহ (গামা গুটিকা) অংশেই প্রধানত অ্যান্টিবডি বা প্রতিরক্ষিকা পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানে জানার আছে অনেক কিছু

বৈজ্ঞানিক গবেষণামতে, মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং পরবর্তী সদ্য সৃষ্ট মহাবিশ্ব যখন একটু শীতল হলো, তখন সেখানে সৃষ্টি হয় অদৃশ্য এক ধরণের বল -যাকে বলা হয় হিগস ফিল্ড (Higgs Field)|হিগস ফিল্ডে তৈরী হয় অসংখ্য ক্ষুদে কণা। এই হিগস ফিল্ড দিয়ে ছুটে যাওয়া সব কণা হিগস-বোসনের সংস্পর্শে এসে ভরপ্রাপ্ত হয়। ভরপ্রাপ্ত এই কণা-কে বলা হয় বস্তু বা পদার্থ (Matter)

হিগস বোসন কণা কী ?

A subatomic particle called the Higgs Boson Particle or “God’s particle”.

অর্থঃ অতি পারমানবিক কণাকে হিগস-বোসন কণা বলা হয়।

বিগ ব্যাং বা মহাবিষ্ফোরণ পরবর্তী অবস্থায় কি কি সৃষ্টি হতে পারে তা আলবার্ট আইনেস্টাইন দিব্যি উপলদ্ধি করতেন। এ উপলদ্ধিতেই নিহিত ছিল আজকের সাড়া জাগানো “হিগস বোসননামক আবিস্কৃত অতিপারমানবিক কণাটি।

 মহাবিস্ফোরণ ( বিগ ব্যাং) উত্তর মহাবিশ্বের স্বরূপ

 প্ল্যাঙ্কীয় যুগ (প্ল্যাঙ্ক এপক)

মহাবিশ্বের একেবারে শুরুর সময়কালটিকে বলা হয় প্ল্যাঙ্ক এপক বা প্ল্যাঙ্ক যুগ। বিগ ব্যাংয়ের ঠিক পর থেকে এর ব্যাপ্তি মাত্র ১০-৪৩ সেকেন্ড। শূন্যের পর দশমিক দিয়ে ৪৩টি শূন্য দেওয়ার পর ১ লিখলে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, সংখ্যাটি তার সমান। বর্তমান বিজ্ঞান এ সময়ের মহাবিশ্বের খবর ভালো করে বলতে পারে না। আইনস্টাইনের সার্বিক আপেক্ষিকতা বলছে, এ সময়ের আগে একটি মহাকর্ষীয় সিঙ্গুলারিটির অস্তিত্ব ছিল। মনে করা হয়, এ সময়ে প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলমহাকর্ষ, তড়িৎচুম্বকত্ব এবং সবল ও দুর্বল নিউক্লীয় বল একীভূত ছিল। এমনকি এদের শক্তিও ছিল একই মাত্রার। যদিও বর্তমানে মহাকর্ষ অন্যদের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত রকম দুর্বল। এটি সবল বলের চেয়ে ১০৩৮ গুণ ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে ১০৩৬ গুণ দুর্বল। প্ল্যাঙ্ক যুগে মহাবিশ্ব বিস্তৃত ছিল মাত্র ১০-৩৫ মিটার অঞ্চলজুড়ে। এই সংখ্যাটিকে বলা হয় প্ল্যাঙ্ক দৈর্ঘ্য। তবে সাইজ ছোট থাকলে এ সময় তাপমাত্রা ছিল বিশাল। ১০৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের এককের মতোই এরও নাম প্ল্যাঙ্ক তাপমাত্রা। আর হ্যাঁ, এ সময়কালটির নামও প্ল্যাঙ্ক সময়। 

 মহা একীভবন যুগ

 পরের যুগের নাম মহা একীভবন যুগ । ব্যাপ্তি বিগ ব্যাংয়ের পরের ১০-৪৩ থেকে ১০-৩৬ সেকেন্ড। এ সময় মহাকর্ষ অন্য তিনটি মৌলিক বল থেকে আলাদা হয়ে যায়। এ জন্যই এ বল তিনটির একীভূত তত্ত্বকে মহা একীভবন তত্ত্ব বলা হয়।

 স্ফীতি যুগ

মহা একীভবন যুগ এর পরপরই শুরু স্ফীতি যুগের। এ যুগেই সামান্য পরিমাণ সময়ের মধ্যে মহাবিশ্ব ১০২৬ গুণ বড় হয়ে যায়। ১ ন্যানোমিটার দৈর্ঘ্যের কোনো বস্তুকে এত বড় করলে সেটা ১০ দশমিক ৬ আলোকবর্ষ পরিমাণ লম্বা হবে। এ হিসাবটি অবশ্য পাওয়া যায় রৈখিক মাপকাঠিতে হিসাব করলে। আয়তনের দিক থেকে হিসাব করলে সাইজ বেড়েছিল ১০৭৮ গুণ অর্থাৎ মাত্র ১০ সেমি। বিগ ব্যাংয়ের ১০-৩২ সেকেন্ড পরই এ যুগের পরিসমাপ্তি ঘটে।

 তড়িৎ দুর্বল যুগ

 স্ফীতি যুগের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছিল তড়িৎ দুর্বল যুগের যার ব্যাপ্তিকাল ১০-১২ সেকেন্ড পর্যন্ত। এ সময় সবল বল আলাদা হয়ে গেল। একত্রে থাকল শুধু দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং তড়িৎ-চুম্বকীয় বল। সৃষ্টি হয় ডব্লিউ, জেড ও হিগস বোসনদের মতো ব্যতিক্রমী কণিকা।

 কোয়ার্ক যুগ

 ১০-১২ সেকেন্ডের পর শুরু কোয়ার্ক যুগ। এ সময়কালে বিপুল পরিমাণ কোয়ার্ক, ইলেকট্রন ও নিউট্রিনো তৈরি হয়। কোয়ার্ক হলো প্রোটন ও নিউট্রনের গাঠনিক কণা। মহাবিশ্ব আরেকটু ঠান্ডা হলো। নামল ১০ কোয়াড্রিলিয়ন ডিগ্রির (১-এর পর ১৬টি শূন্য বসিয়ে যে সংখ্যা পাবেন) নিচে। তবে সবচেয়ে উল্লেযোগ্য ঘটনা হলো, চারটি মৌলিক বল সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেল। ঠিক বর্তমানে যেভাবে আছে।

 জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্ট

 কোয়ার্কের সঙ্গে সঙ্গে এদের প্রতিকণা অ্যান্টিকোয়ার্ক বা প্রতিকোয়ার্কও তৈরি হচ্ছিল। তবে কণা ও প্রতিকণার দুটোরই সাক্ষাৎ ডেকে আনে মৃত্যু। কিন্তু আবার কোয়ার্ক বেঁচে না থাকলে তো পদার্থ তৈরি সম্ভব নয়। সম্ভব নয় গ্রহ, নক্ষত্রের সৃষ্টি। ফলে মানুষসহ কোনো প্রাণীও জন্ম নিত না মহাবিশ্বে। তাহলে হয়েছিল কীভাবে? কোয়ার্ককে বাঁচিয়ে রাখতে তাই বিশ্ব প্রকৃতিতে জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছিল কোয়ার্ক ত্রাণকর্তার ভূমিকা পালনকারী একটি প্রাকৃতিক সত্বার। কোয়ার্ককে বাঁচাতে তাই হঠাৎ আবির্ভূত হয় একটি প্রক্রিয়া যার বৈজ্ঞানিক নাম ব্যারিওজেনেসিস। ব্যারিওজেনেসিস নামের একটি প্রক্রিয়া এ সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতি বিলিয়ন জোড়া কোয়ার্ক-প্রতিকোয়ার্ক থেকে একটি করে কোয়ার্ক বেঁচে যায়।  যেমন বিলিয়ন বিলিয়ন স্পার্ম থেকে মাত্র একটি স্পার্ম বেঁচে থেকে ওভামের সাথে মিলিত হয়ে মানব ভ্রণের বিকাশ ঘটায়। আর এ বেঁচে যাওয়া কোয়ার্করাই পরবর্তী মহাবিশ্বের পদার্থ তৈরির ক্রীড়নক।

 হ্যাড্রোন যুগঃ মহাবিশ্বের  সুবিন্যস্ত, সুশৃঙ্খল, অভিন্ন প্রাকৃতিক সুষম যুগ

 হ্যাড্রোন যুগের এ সময়টিতে মহাবিশ্বে একটা স্থির নিয়ম বলবৎ ছিল। তখন মহাবিশ্বের সামগ্রিক শক্তি ও চার্জ ছিল সংরক্ষিত যার স্থায়িত্ব ছিল ১ সেকেন্ড থেকে মিনিট কয়েক পর্যন্ত। কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত যৌগিক কণিকার নাম হ্যাড্রোন। হ্যাড্রোন কণিকাদের মধ্যে আমাদের সবচেয়ে পরিচিত হলো প্রোটন ও নিউউল্লেখ্য, প্রোটন, নিউট্রন ৩টি কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত যার একক নাম ব্যারিয়ন আর পায়ন ২টি কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত যার একক নাম মেসন। আর ব্যারিয়ন+মেসন মিলে গঠিত হয় হ্যাড্রন কণা পরি হ্যাড্রোন যুগে মহাবিশ্বের তাপমাত্রা আরেকটু কমে এক লাখ কোটি ডিগ্রি হলো। ফলে কোয়ার্করা যুক্ত হয়ে হ্যাড্রোন গঠিত হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ পেল। পাশাপাশি ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংঘর্ষে তৈরি হয় নিউট্রন ও নিউট্রিনো। এই নিউট্রিনো কণারা আজ পর্যন্ত মহাবিশ্বজুড়ে ছুটে চলেছে আলোর কাছাকাছি বেগে।

 লেপটন যুগ

 হ্যাড্রোন পরবর্তী যুগের নাম লেপটন যুগ। এ যুগে পূর্ববর্তী অল্প কিছু ছাড়া প্রায় সব হ্যাড্রোন ও প্রতিহ্যাড্রোন নিঃশেষ হয়ে যায়। ফলে মহাবিশ্বে চলছিল লেপটন ও প্রতিলেপটনদের (যেমন ইলেকট্রনের প্রতিকণা প্রতিইলেকট্রন) রাজ-রাজত্ব। এ দুই বিপরীত চার্জধারী কণার মিলনে অবমুক্ত হয় শক্তি। এ শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটে ফোটনের (আলোর কণিকা) মাধ্যমে। উল্টোভাবে ফোটনরাও আবার মিলিত হয়ে ইলেকট্রন-পজিট্রন জোড় তৈরি করতে থাকে। মহাবিশ্বের প্রথম ৩ মিনিট সময়কালের এখানেই সমাপ্তি ঘটে। এরপর থেকে সময়ের ব্যবধান দাঁড়ায় বিশাল মাপকাঠিতে। এরপর বিশ্ব সংগঠনে প্রকৃতি সময় নেয় অন্ততঃ ১৭ মিনিট যা ছিল অতীব জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়-পর্ব। এতে সংঘটিত হয় গুরুত্বপূর্ণ নিউক্লীয় সংশ্লেষণ। এটি হলো নতুন পরমাণুর নিউক্লিয়াস (কেন্দ্র) তৈরির প্রক্রিয়ার নাম। প্রোটন ও নিউট্রন ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে মিলিত হয়ে তৈরি করে এ নতুন পরমাণু। এভাবেই গড়ে ওঠে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও লিথিয়ামের মতো পর্যায় সারণির প্রথম দিকের মৌলগুলো। এ অবস্থায় মহাবিশ্বের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডিগ্রি। কিন্তু এ সময়ের পরই তাপমাত্রা ও ঘনত্ব এত বেশি কমে গেল যে, নিউক্লীয় ফিউশনে সাময়িক বিরতি ঘটেছিল। এই ফিউশন পরবর্তী সময়ে আবার শুরু হয়। তবে সেটা সমগ্র মহাবিশ্বে নয়।

 ফোটন এপক যুগ

 এবারের যুগের নাম ফোটন এপক। তখন মহাবিশ্বে চলছিল বিকিরণের আধিপত্য। পরমাণুর নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের উত্তপ্ত স্যুপে গড়া প্লাজমা দিয়ে মহাবিশ্ব তখন ভর্তি। বিকিরণের আধিপত্য থাকার কারণে অধিকাংশ লেপটন ও প্রতিলেপটন নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে মহাবিশ্বজুড়ে তখন ছিল ফোটনের ছড়াছড়ি। আর ফোটন মানেই বিকিরণ।  আমাদের পারিপার্শ্বিক দৃশ্যমান আলোও একধরনের বিকিরণ। ফোটন যুগের ফোটনরা লেপটন যুগে বেঁচে যাওয়া প্রোটন, ইলেকট্রন ও পরমাণুকেন্দ্রের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে থাকে। এ যুগের স্থায়িত্ব ৩ মিনিট থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার বছর।

 কসমোলজিক্যাল রিকম্বিনেশন বা মহাজাগতিক পুনর্গঠন যুগ

 এরপর উদ্ভব ঘটে কসমোলজিক্যাল রিকম্বিনেশন বা মহাকাশীয় পুনর্গঠন যুগ। এটি ছিল বিশ্ব জগতে এক ঐতিহাসিক যুগ সন্ধিক্ষণ। এ যুগে হঠাৎ করে তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠ তাপমাত্রার কাছাকাছি ৩০০০ ডিগ্রি নেমে গিয়ে সৃষ্টি হয় রিকম্বিনেশন বা পুনর্গঠন যুগ। এ সময় আয়নিত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম নিউক্লিয়াস ইলেকট্রনের সঙ্গে সন্ধি করে ফেলে। ফলে কেন্দ্রে প্রোটন ও কক্ষপথে ইলেকট্রন নিয়ে পরিপূর্ণ পরমাণু তৈরি হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ারই নাম রিকম্বিনেশন।  মহাবিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ হাইড্রোজেন ও ২৫ শতাংশ হিলিয়ামএই অনুপাতটি এ কালের শেষের দিকেই তৈরি হয়।

 ডার্ক এরা বা অন্ধকার যুগ

 রিকম্বিনেশন যুগের পর থেকে ১৫ কোটি বছর পর্যন্ত সময়কালকে বলে অন্ধকার যুগ (Dark Era) বলা হয়। যুগটি হলো পরমাণু তৈরির পরের ও নক্ষত্রের জন্মের আগের সময়কাল। ফোটনের অস্তিত্ব থাকলেও নক্ষত্রের জন্ম না হওয়ায় এক অর্থে মহাবিশ্ব অন্ধকারই বটে। রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারই এ সময় মহাবিশ্বে রাজত্ব করত বলে ধারণা কর

 পুনঃ আয়নীকরণ যুগ

 এরপর শুরু হলো পুনঃ আয়নীকরণ। মহাকর্ষের আকর্ষণে প্রথম কোয়াসার তৈরি হলো। অন্যদিকে মহাবিশ্ব আবার প্রশম অবস্থা থেকে আয়নিত অবস্থায় চলে গেল। এ যুগটির ব্যাপ্তি বিগ ব্যাং-পরবর্তী ১৫ থেকে ১০০ কোটি বছর।

  নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির জন্মপ্রক্রিয়া

 পুনঃ আয়নীকরণ যুগের পরের ৩০ থেকে ৫০ কোটি বছর ধরে চলল নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির জন্মপ্রক্রিয়া, যা পরে চলতেই থাকল। মহাবিশ্ব প্রসারণের পাশাপাশি মহাকর্ষের প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের গ্যাস ঘনীভূত হতে হতে জন্ম হয় এসব নক্ষত্র। প্রথম দিকে জন্ম নেওয়া নক্ষত্ররা ছিল বিশাল বড় বড়। সূর্যের প্রায় এক শ গুণ ভারী। এদের আয়ু অবশ্য কম হতো। সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটত এদের মৃত্যু। একটি ক্ষুদ্র কেন্দ্রীয় অংশ অবশিষ্ট থাকত। বাকি পদার্থ বিস্ফোরণের ধাক্কায় ছিটকে যেত বাইরে- যা ছিল নতুন নক্ষত্র তৈরির উপাদান। নক্ষত্র তৈরির এ চক্রটি কিন্তু আজও চলমান।

 চেনা-জানা জগতের জন্ম কথা

 আজ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি বছর আগেবিগ ব্যাংয়ের ৮৫০ থেকে ৯০০ কোটি বছর পর আমাদের সূর্য নক্ষত্রের ছুড়ে দেওয়া পদার্থ থেকে জন্ম নিয়েছিল। আর পৃথিবীর জন্ম প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে। তীব্র বেগে প্রসারণ ও চক্রাকারে নক্ষত্রের জন্ম-মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মহাবিশ্ব এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে, মহাকালের দিকে। সেই কালের শেষে ঠিক কী আছে, তা ঠিক করে জানা নেই উল্লেখ্য, ১৯১৫ সালে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন তার সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব উপস্থাপনের পর থেকেই মূলত ভৌত বিশ্বতত্ত্ব একটি পর্যবেক্ষণযোগ্য এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালাবিশিষ্ট বিজ্ঞান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ফ্রিডম্যান-Lemaître-রবার্টসন-ওয়াকার বিশ্বতত্ত্বের যৌথ ব্যাখ্যামতে, এই মহাবিশ্ব প্রসারিত বা সংকুচিত হতে পারে। (সূত্রঃ উইকিপিডিয়াবিশ্ব জগত আইনগতভাবে কার্যত: দু' ভাগে বিভক্ত। ১) স্থূল জাগতিক আইন ২) সূক্ষ্ণ জাগতিক আইন। ১. স্থূল জাগতিক আইন: স্থূল জাগতিক আইন নিউটনীয় বলবিদ্যার অনেকটা অনুকূল। ২. সূক্ষ্ণ জাগতিক আইন: আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের অনুকূল।বর্তমান বিশ্বতত্ত্বের মডেল অনুযায়ী মহাবিশ্বের বর্তমান বয়স ১৩.৭৫ বিলিয়ন বা ১,৩৭৫ কোটি বছর। এই মহাবিশ্বের দৃশ্যমান অংশের "এই মুহূর্তের" ব্যাস প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোক বছর। মহাবিশ্বের ব্যাস ১৩.৭৫ x ২ = ২৭.৫০ বিলিয়ন আলোক বছরের চাইতে বেশী। তাছাড়া, পৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাবিশ্বকে যদি একটা গোলক কল্পনা করা হয় তবে তার ব্যাসার্ধ হবে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন আলোক বর্ষ। জ্যোতির্বিদরা মনে করছেন দৃশ্যমান মহাবিশ্বে প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালাক্সি আছে। এই গ্যালাক্সিরা খুব ছোটও হতে পারে, যেমন মাত্র ১০ মিলিয়ন (বা ১ কোটি) তারা সম্বলিত বামন গ্যালাক্সি অথবা খুব বড়ও হতে পারে, যেমনঃ দৈত্যাকার গ্যালাক্সিগুলিতে ১০০০ বিলিয়ন তারা থাকতে পারে । মহাবিশ্বের গঠন ও আকার আমাদের গ্যালাক্সি-ছায়াপথ সূর্য থেকে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ৩০,০০০ আলোক বর্ষ। গ্যালাক্সির ব্যাস ১০০,০০০ বা এক লক্ষ আলোক বর্ষ। স্থানীয় গ্যালাক্সিপুঞ্জ আমাদের ছায়াপথের ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লক্ষ আলোকবর্ষের মধ্যে অবস্থিত স্থানীয় গ্যালাক্সিগুলো। এই স্থানীয় গ্যালাক্সি দলের মধ্যে বড় তিনটি সর্পিল গ্যালাক্সি - ছায়াপথ, অ্যান্ড্রোমিডা বা M31 এবং M33 একটি মহাকর্ষীয় ত্রিভুজ তৈরি করেছে। অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি আমাদের নিকটবর্তী বড় গ্যালাক্সি। এর দূরত্ব হচ্ছে ২.৫ মিলিয়ন বা ২৫ লক্ষ আলোকবর্ষ। স্থানীয় গ্যালাক্সি মহাপুঞ্জ স্থানীয় গ্যালাক্সি দল থেকে স্থানীয় গ্যালাক্সি মহাপুঞ্জের অন্যান্য দলের দূরত্ত্ব বিদ্যমান। এই মহাপুঞ্জের কেন্দ্র কন্যা গ্যালাক্সি দল হওয়াতে তাকে কন্যা মহাপুঞ্জ বা মহাদল বলা হয়। কন্যা গ্যালাক্সি পুঞ্জ আমাদের থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বা ৬.৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এই ধরণের মহাপুঞ্জগুলো ফিতার আকারের মত। সাবানের বুদবুদ দিয়ে এই ধরণের গ্যালাক্সিপুঞ্জ গঠনের মডেল করা যায়। দুটো বুদবুদের দেওয়াল যেখানে মেশে সেখানেই যেন গ্যালাক্সির ফিতা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি আলোকবর্ষের মধ্যে অবস্থিত প্রধান গ্যালাক্সিপুঞ্জ ও গ্যালাক্সি দেওয়াল রয়েছে। কন্যা গ্যালাক্সি মহাপুঞ্জসহ ৫০ মেগাপার্সেকের (৫০ মিলিয়ন পার্সেক বা ১৬৩ মিলিয়ন আলোকবর্ষ)মধ্যে সমস্ত পদার্থ ৬৫ মেগাপার্সেক দূরের গ্যালাক্সি পুঞ্জ Abell 3627এর দিকে ৬০০ কিমি/সেকেন্ডে ছুটে যাচ্ছে। মহাবিশ্বের প্রসারণ হচ্ছে বিংশ শতাব্দীর শেষে এসে জ্যোতির্বিদরা আবিষ্কার করলেন মহাবিশ্বের প্রসারণ ত্বরাণ্বিত হচ্ছে।[১১] বিগ ব্যাং(Big Bang) বিংশ শতাব্দীতে বিশ্বতত্ত্বের জগতে প্রচুর গবেষণা হয়েছে আর এর ফলেই গড়ে উঠেছে বৃহৎ বিস্ফোরণ তত্ত্ব যা এখনকার প্রায় সকল বিজ্ঞানীই মহাবিশ্বের সৃষ্টির কারণ হিসেবে মনে করছেন। সাধারণভাবে বলতে গেলে ভৌত বিশ্বতত্ত্ব মহাবিশ্বের অতিবৃহৎ বস্তুসমূহ নিয়ে আলোচনা করে, যেমন: ছায়াপথ, ছায়াপথ শ্রেণী ও স্তবক, ছায়াপথ মহাস্তবক ইত্যাদি। বিশ্বতত্ত্বের নীতিসমূহ কণা পদার্থবিজ্ঞানের জগতে প্রায় অচল। এ যাবৎকালের বিজ্ঞানীদের নিশ্চিত ধারণা-বিশ্বাস ছিল যে, মহাবিশ্ব ৪ প্রধান বলে পরিচালিত। হালে বিজ্ঞানীরা ৫ম যে সত্বার অস্তিত্বের প্রমাণ দাবী করেছেন তার নামকরণ করেছেন এক্স-১৭ নামে। বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশা: সম্ভবতঃ স্ট্রিং থিওরীতে পাওয়া যেতে পারে আবিস্কৃত ৫ম বলের যথার্থ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ।

 স্থান ও সময় এবং এদের অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয় নিয়েই মহাবিশ্ব ।। পৃথিবী এবং অন্যান্য সমস্ত গ্রহ , সূর্য ও অন্যান্য তারা ও নক্ষত্র জ্যোতির্বলয় স্থান ও এদের অন্তর্বর্তীস্থ গুপ্ত পদার্থ , ল্যামডা-সিডিএম নকশা ও শূণ্যস্থান (মহাকাশ) - যেগুলো এখনও তাত্ত্বিকভাবে অভিজ্ঞাত কিন্তু সরাসরি পর্যবেক্ষিত নয়-এমন সবপদার্থ ও শক্তি মিলে যে জগৎ তাকেই বলা হচ্ছে মহাবিশ্ব ।

 সূত্র: ১. ফিজিকস অব দ্য ইউনিভার্স ডট কম

 ২.https://www.bigganchinta.com/physics/early-age-of-universe

বিগ ব্যাংয়ের পর তাৎপর্যপূর্ণ মহাজাগতিক ঘটনাবলীঃ

ফেজ ট্রানজিশন বা মৌলিক পরিবর্তন

বিগ ব্যাংয়ের ১০-১০ সেকেন্ড পর একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটে যা মহাবিশ্বের স্থান-কাল এবং অবস্থার পরিবর্তন করে ফেলে। বিজ্ঞানীরা এই ধরণের পরিবর্তনকে বলেন ফেজ ট্রানজিশন বা মৌলিক পরিবর্তন যা কোনো বাহ্যিক পরিবর্তন নয় বরং অভ্যন্তরীণ মৌলিক পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের ফলে সমস্ত স্থান-কাল সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে রূপ ধারণ করে। একেইএখন বলা হচ্ছে হিগস ফিল্ড। যদিও ব্যাপারটি বিজ্ঞানীদের কাছে সম্পুর্ণ অজ্ঞাত, অদৃশ্য। এমনকি তা উপলব্ধি করার মতোও নয়। তবে বিজ্ঞানীরা এই হিগস ফিল্ডের উপস্থিতি বুঝতে না পারলেও ইলেকট্রনের মতো মৌলিক কণিকারা এর প্রভাব ঠিকই বুঝতে পারে। অর্থাৎ অতিক্ষুদ্র মৌলিক কণিকাদের কাছে এই হিগস ফিল্ড একটি বাস্তব জিনিস।আমরা যেমন একটি বায়ু-সমুদ্রের মধ্যে ডুবে আছি, ঠিক তেমনি এই হিগস ফিল্ডও সবসময় আমাদের ঘিরেরেখেছে। তবে তা বাতাসের ন্যায় সর্বত্র নয় বরং মহাবিশ্বব্যাপী সর্বত্র। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে চলে গেলে এই বাতাস আর পাওয়া যাবে না সত্য কিন্তু মহাবিশ্বে এমন কোনো স্থান নেই যেখানে এই হিগস ফিল্ডের উপস্থিতি নেই। অর্থাৎ এটি আমাদের মহাবিশ্বের সমস্ত শূন্যস্থান জুড়েও অবস্থান করছে।

ইলেকট্রনসহ কিছু মৌলিক কণিকার হিগস ফিল্ডে  কোয়ান্টাম মেকানিক্যালের মিথস্ত্রিয়া প্রসঙ্গ

ইলেকট্রনের মতো কিছু মৌলিক কণিকা এই হিগস ফিল্ডের সাথে কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল কার্যকলাপে জড়িয়ে আছে। ফলে এসব কণিকারা কিছুটা শক্তি লাভ করে। কোনো একটি কণিকা জন্মের সঙ্গে সঙ্গেএই ফিল্ডের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে থাকে। এমনকি যদি সেটা স্থির অবস্থায় থাকে, তবুও চলতেই থাকে এই মিথস্ক্রিয়া। ফলে কণিকা জন্মের পরপরই মিথস্ক্রিয়া থেকে কিছুটা শক্তি পায়।

হিগস মেকানিজম

আইনস্টাইনের সেই বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ E=mc থেকে আমরা জানিভর আর শক্তি মূলত একই জিনিস। কণিকারা হিগস ফিল্ডের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ফলে শক্তি পায়। হিগস ফিল্ডের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে মৌলিক কণিকাদের ভর পাবার এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় হিগস মেকানিজম। 

যেসব কণিকা হিগস ফিল্ডের সঙ্গে কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল কার্যকলাপে জড়ায় না

সব কণিকাই কিন্তু হিগস ফিল্ডের সঙ্গে এই কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল কার্যকলাপে জড়ায় না। যেসব কণিকা হিগস ফিল্ডের সঙ্গে এই মিথস্ক্রিয়ায় অংশ নেয়, তাদের ভর থাকে। অন্যদিকে যারা কোনো মিথস্ক্রিয়ায় জড়ায় না তারা ভরহীন থেকে যায়। কিছু কিছু কণিকা হিগস ফিল্ডের সঙ্গে খুব শক্তিশালী মিথস্ক্রিয়া করে। ফলে এদের ভরও হয় অনেক বেশি। যেমন, টপ কোয়ার্ক। এর ভর এতই বেশি, তা পুরো একটি টাংস্টেন পরমাণুর সমান। আর যেসব কণিকা হিগস ফিল্ডের সঙ্গে খুব সামান্য মিথস্ক্রিয়া করে, তাদের ভর হয় খুবই কম। যেমন ইলেকট্রন, নিউট্রিনো। ইলেকট্রনের ভর এতই কম, কোনো পরমাণুর মোট ভর গণনা করার সময় এর ভর হিসেবে না ধরলেও চলে, নিউট্রিনোর বেলায়ও কথাটি অনেকাংশে প্রযোজ্য। আবার ফোটন হিগস ফিল্ডের সঙ্গে কোন মিথস্কফলে ফোটন ভরহীন থেকে যায়। 

হিগস ফিল্ডের কোয়ান্টাকে বলা হয় হিগস বোসন

কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি অনুসারে, কোনো কোয়ান্টাম ফিল্ডকে প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করা হলে সেই ফিল্ডে এক ধরনের কম্পন তৈরি হবে। এই কম্পনে সেই ফিল্ডের কোয়ান্টা তৈরি হয়। এই কোয়ান্টাগুলোকেই আমরা কণিকা হিসেবে পর্যবেক্ষণ করি। অর্থাৎ আমরা যেসব মৌলিক কণিকার কথা বলি, এগুলো মূলত বিভিন্ন কোয়ান্টাম ফিল্ডের কম্পন। ইলেকট্রনের ফিল্ডকে আঘাত করা হলে ইলেকট্রন তৈরি হবে। কোয়ার্ক ফিল্ডে আঘাত করলে কোয়ার্ক তৈরি হবে। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডে আঘাত করলে আলোর কণিকা ফোটন তৈরি হবে। হিগস ফিল্ড যেহেতু একটি কোয়ান্টায়ান্টাম ফিল্ড, তাই হিগস ফিল্ডকে আঘাত করলেও একটি কণিকা তৈরি হবে। হিগস ফিল্ডের কোয়ান্টামকে বলি হিগস বোসন।

কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান কী?

কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum mechanics) বা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum physics) আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা-যা পরমাণু এবং অতিপারমাণবিক কণার/তরঙ্গের মাপনীতে পদার্থের আচরণ বর্ণনা করে। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানকে ব্যবহার করে বিশাল কোন বস্তু যেমন তারা ও ছায়াপথ সম্পর্কিত বিষয় ব্যাখ্যা করা যায় তেমনি স্ট্যান্ডার্ড মডেলভিত্তিক বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্বমূলক মহা বিস্ফোরণ (বিগ ব্যাং) এর ঘটনাও ব্যাখ্যা করা যায়।

উল্লেখ্যপদার্থবিজ্ঞানের যেসব ক্ষেত্র ক্লাসিক্যাল (চিরায়ত) নিউটনীয় বলবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় নাসেসব ক্ষেত্রে পদার্থগুলির জড়তাত্ত্বিক ভৌত (অস্বাভাবিক) আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকেন। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান রসায়নআণবিক জীববিজ্ঞানইলেকট্রনিক্সকণা পদার্থবিজ্ঞানন্যানোপ্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিবিদ্যার আধুনিকায়নের ভিত্তি। বিজ্ঞানের কোয়ান্টামভিত্তিক এই শাখাগুলো বিগত পঞ্চাশ বছরব্যাপী পৃথিবীকে রাতারাতি এনালগ থেকে ডিজিটালে রূপান্তরিত করেছে।  (সূত্রঃhttps://bn.wikipedia.org/wiki//কোয়ান্টাম_বলবিজ্ঞান)।

 এক নজরে কোয়ান্টামের প্রকৃতি-বৈশিষ্ট্য

কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানকে ব্যবহার করে বিশাল কোনো বস্তু যেমন তারা ও ছায়াপথ এবং মহাবিস্ফোরণ সংক্রান্ত  বিশ্বতত্ত্বমূলক ঘটনার সুক্ষ্ণতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা যায়।

পদার্থবিজ্ঞানের সুক্ষ্ণতাত্ত্বিক যেসব ক্ষেত্রে চিরায়ত নিউটনীয় বলবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় নাসেসব ক্ষেত্রে পদার্থগুলির ভৌত আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকেন।

পারমাণবিক অথবা তার চেয়েও ছোট মাপের কোনো ভৌত ব্যবস্থায়খুব নিম্ন অথবা খুব উচ্চ শক্তিতেঅথবা অতিশীতল তাপমাত্রায় চিরায়ত এবং কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের বিশ্লেষণের মধ্যে প্রায়শই পার্থক্য দেখা যায়।

কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান রসায়নআণবিক জীববিজ্ঞানইলেক্ট্রনিক্সকণা পদার্থবিজ্ঞানন্যানোপ্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিবিদ্যার আধুনিক উন্নয়নের ভিত্তিএবং বিজ্ঞানের এই শাখাগুলো বিগত পঞ্চাশ বছরে পৃথিবীকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে রূপান্তরিত করেছে।

 আলোক-তড়িৎক্রিয়া বা ফটো ইলেকট্রিক ইফেক্ট: কোয়ান্টাম তত্ত্বের বাস্তব দলিল-প্রমাণ

 ১৮৩৯ সাল। ফরাসী বিজ্ঞানী এডমন্ড বেকরেল এক আশ্চর্য ঘটনা লক্ষ্য করলেন। তিনি সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছিলেন। দেখেন বৈদ্যুতিক কোষের ওপর আলো একটা ভালো প্রভাব ফেলে। কিন্তু এ ঘটনার ব্যাখ্যা তাঁর কাছে ছিল না। আর এটা নিয়ে তিনি খুব বেশি মাথাও ঘামাননি। কিন্তু এটাই ছিল কোনো বিজ্ঞানীর পর্যবেক্ষণ করা প্রথম আলোক-তড়িৎক্রিয়া বা ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট। তিন দশক পর ১৮৭৩ সালে বিট্রিশ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার উইলাফবি স্মিথ টেলিফোন অপারেটে হিসেবে ট্রান্স আটলান্টিক টেলিফোন ক্যাবলের রোধ পরীক্ষা করার দায়িত্ব পালনকালে তিনি রোধক পরিমাপের একটা যন্ত্র ব্যবহার করতেন। রোধকটা ছিলি সেলিনিয়ামের। একদিন তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করেনবৈদুতিক রোধকের নতুন এক ব্যাপার। আগে কেউ জানতেন না এ ব্যাপারটা। তিনি লক্ষ্য করেনসেলিনিয়াম রোধকের ওপর সূর্যের আলো পড়লে বেড়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ প্রবাহ। অর্থাৎ কমে যাচ্ছে রোধকের মান। হয়তো মনে হতে পারেসূর্যের তাপের কারণে এমনটা হচ্ছে। তড়িৎগতিবিদ্যা কিন্তু উল্টো কথা বলেতাপ বাড়লে বেড়ে যায় রোধেকের রোধকত্ব। ফলে বিঘ্ন ঘটে স্বাভাবিক তড়িৎ প্রবাহে। তাহলে স্মিথের এ ঘটনার ব্যাখ্যা কীতাপ এখানে মূল ফ্যাক্টর নয়। মূল ফ্যাক্টর আলো। কিন্তু কেনকীভাবে এই ঘটনা ঘটছে সে ব্যাখ্যা ছিল না।

১৮৭৮ সাল। জার্মান বিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জ এই ঘটনা একটু অন্যভাবে লক্ষ্য করেন। অদৃশ্য আলোক তরঙ্গ অর্থাৎ বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গের ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন স্কটিশ বিজ্ঞানী জেমস ক্ল্যার্ক ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু সেই আলোর সন্ধান তিনি পাননি। পরে সেই অদৃশ্য আলোক তরঙ্গের হদিস দেন হার্জ এবং ভারতীয় বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু। হার্জই প্রথম বেতার তরঙ্গ শনাক্ত করেন। এজন্য তিনি ব্যবহার করেন বায়ুশূন্য ক্যাথোড টিউব। এ ধরনের একটা টিউবেই পরে ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন স্যার জে জে টক্যাথোড টিউবের ভেতর যে ক্যাথোড পাত থাকে সেটা ধাতুর তৈরি। পাতটা ওপর তিনি অতি বেগুনি রশ্মি বা আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি (Ray) দিয়ে আঘাত করেন। এর ফলে পাত থেকে উৎপন্ন হয় আলোর ঝলক। ক্যাথোড টিউবে যে ক্যাথোড রশ্মি দেখা যায়সেটা নিয়ে বিজ্ঞানীরা দুই ভাগে বিভক্ত ছিলেন। একদল বিজ্ঞানী মনে করতেন ক্যাথোড রশ্মি হলো একধরনের কণাদের প্রবাহ। কণারা উচ্চগতিতে প্রবাহিত হয় বলে এরা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সেই উজ্জ্বল আলোই আমরা দেখি ক্যাথোড রশ্মি হিসেবে। অন্যদিকে হার্জসহ কিছু বিজ্ঞানী মনে করতেনক্যাথোড রশ্মি আসলে এক ধরনের বিদ্যুৎ-চুম্বকীয়।       

 ১৮৮৮ সালে আরেক জার্মান বিজ্ঞানী উইলহেম হলকওয়াস ফটোতড়িৎক্রিয়ার পরীক্ষাটা আরেকটু গুছিয়ে করেন। তিনি দেখান এক আশ্চর্য ঘটনা। ক্যাথোডের ওপর অতি বেগুনি রশ্মি দিয়ে আঘাত করলে ক্যাথোড দ্রুত চার্জ হারিয়ে ফেলে। অর্থাৎ ক্যাথোডের ঋণাত্মক চার্জ দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যায়। যতক্ষণ ক্যাথোডে চার্জ থাকেততক্ষণ আলোর ঝলকানি দেখা যায়। কিন্তু অ্যানোডের ওপর বেগুনি রশ্মি দিয়ে আঘাত করলে কোনো ঘটনা ঘটেনা। অর্থাৎ আন্যোডের ধনাত্মক চার্জের কোনো নড়চড় হয় না। ১৮৯৯ সালে টমসন দেখালেনক্যাথোড টিউবের ক্যাথোড পাত থেকে নির্গত যে আলোক রশ্মি অ্যানোডের দিকে প্রবাহিত হয়সেই রশ্মি আসলে ইলেকট্রনের স্রোত। টমসন তখন আরেকটা ব্যাখ্যাও দিতে সক্ষম হন ৷ অতিবেগুনি রশ্মির আঘাতে যে স্ফুলিঙ্গ বা আলোর ঝলক দেখা যায়সেই স্ফুলিঙ্গও আসলে ইলেকট্রনের ।

আলোক-তড়িৎক্রিয়ার সমস্যার সমাধান লুকিয়ে ছিল প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব

আলোক-তড়িৎক্রিয়ার সমস্যার সমাধান লুকিয়ে ছিল ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বে। কিন্তু প্ল্যাঙ্ক ব্যাপারটা নিয়ে ভাবেননি। ভেবেছিলেন সুইজ্যারল্যান্ডের বার্ন শহরে পেটেন্ট অফিসে কর্মরত জার্মান তরুন আলবার্ট আইনস্টাইন।

১৯০৫ সাল নাগাদ সকল প্রস্তুতি শেষে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ববা স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি প্রকাশের অপেক্ষারত ছিলেন। প্রকাশিত বিশেষ এই রিলেটিভিটি থেকেই বেরিয়ে এসেছিল পদার্থবিদ্যার ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ভর শক্তির সমীকরণ, E = mc2  আইনস্টাইন থিওরি অব রিলেটিভিটি ছাড়াও আরেকটা প্রবন্ধ লিখলেন। সেই প্রবন্ধে দিলেন আলোক-তড়িৎক্রিয়ার ব্যাখ্যা। এজন্য তিনি সহায়তা নিলেন  প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব। কোয়ান্টাম তত্ত্ব সূত্রে আইনস্টাইন বললেনআলোর পক্ষেও সম্ভব ইলেকট্রনের মতো ভরযুক্ত বস্তু কণাকেও স্থানচ্যূত করা- যদি সেটার আচরণ কণার মত।

উল্লেখ্য, আলোর কণাতত্ত্বের বিপরীতে টমাস ইয়াং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তরঙ্গ তত্ত্ব। আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব প্রমাণিত সত্য। পক্ষান্তরে আইনস্টাইন বললেন, আলোর নতুন কণা ধর্ম আসলে নিউটনের পর্যবেক্ষণ করা কণার মতো নয়। আইনস্টাইন এই কণা ধর্ম প্রতিষ্ঠা করলেন প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আলোকে। প্ল্যাঙ্ক বলেছিলেনআলো আসলে শক্তির গুচ্ছ গুচ্ছ প্যাকেটের সমষ্টি। আইনস্টাইন সেই প্যাকেটকে তুলনা করলেন শক্তির কণা হিসেবে। বহু পরে শক্তির এই কণার নামকরণ করা হয় ফোটন। আইনস্টাইন শক্তির এই কণাকে তুলনা করলেন কামানের গোলার সঙ্গে। কামানের গোলা ছুটে গিয়ে যেমন ধ্বংস করে দিতে পারে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ সৈন্যদের তেমনি আলোর এই কণার যদি পর্যাপ্ত শক্তি থাকেসেটি গিয়ে আঘাত করবে ধাতব পদার্থের ইলেকট্রনকে। সেই আঘাতের ধাক্কা সামলাতে না পেরে ইলেকট্রন ছিটকে বেরিয়ে যাবে ধাতব পরমাণুর শেষ শক্তিস্তর থেকে। ছুটে বেরিয়ে যাওয়া এসব ইলেকট্রনের গতিশক্তি থেকেই আলোর ঝলকানি দেখা যায় যার বৈজ্ঞানিক নাম কোয়ান্টা অর্থাৎ কোয়ান্টাম।

আলোক তড়িৎক্রিয়া ব্যাখ্যার পরই মূলত তরুণ বিজ্ঞানীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কোয়ান্টাম তত্ত্বের সন্ধানে    

আলোক তড়িৎক্রিয়া ব্যাখ্যার পরই মূলত তরুণ বিজ্ঞানীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কোয়ান্টাম তত্ত্বের উপর। এর ১৫ বছর পর নোবেল পান ম্যাক্স প্লাঙ্ক এবং তার পরের বছরই আলোক তড়িৎক্রিয়া ব্যাখ্যার জন্য আইনস্টাইন নোবেল পুরষ্কার পান।

ডিজিটাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের  ভূমিকা

আর্সেনিক যখন ইউরোপে এক রূপকথার রাক্ষসতখন জার্মানির বিজ্ঞানী পল আলিখ (Paul Ehrlich) সে বিষে খুঁজতে থাকেন আশীর্বাদ। তাঁর লক্ষ্য সিফিলিস রোগের ওষুধ উদ্ভাবন। সিফিলিস তখন ইউরোপ-আমেরিকায় লাখ লাখ প্রাণ কেড়ে নিচ্ছিল

জার্মান রসায়নবিদেরা ইতিমধ্যে আর্সেনিকের প্রচুর যৌগ তৈরি করেছেন। আলিখ তাঁর ল্যাবরেটরিতে সেসব যৌগ সংগ্রহ করলেন। আর্সেনিকের সব যৌগ মানুষের জন্য সমান বিষাক্ত নয়। আলিখ এমন আর্সেনিক যৌগ তৈরির কথা ভাবলেনযেটি মানুষের জন্য সিফিলিস রোগের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করবে তাঁর ল্যাবে সে সময় সুদূর জাপানি মেধাবী ছাত্র গবেষণা করতেন নাম: সাহাচিরো হাতা (Sahachiro Hata) কয়েক শ আর্সেনিক যৌগ দেওয়া হলো সাহাচিরোকে। বলা হলোখুবই ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিটি যৌগ টেস্ট করতে হবে। পরীক্ষা করা হবে খরগোশের ওপর। খরগোশদের সিফিলিস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত করা হতো। একটি একটি যৌগপ্রতিটি খরগোশের ওপর প্রয়োগের পর পর্যবেক্ষণ করে নোট করা হতো। সাহাচিরো কয়েক শ যৌগ পরীক্ষা করলেন।  কিন্তু কাঙ্ক্ষিত যৌগ আর পাওয়া যায় না। সেই যৌগ খুঁজে বের করতে হবেযেটি দিয়ে খরগোশ মরবে নাতবে সিফিলিসের ব্যাকটেরিয়া বিনাশ হয়ে যাবে। কিছু খরগোশ মারা গেল। কিছু খরগোশ শরীরে সিফিলিস ব্যাকটেরিয়া নিয়েই বেঁচে রইল। একদিন পাওয়া গেল সেই কাঙ্ক্ষিত খরগোশ। সেটি বেঁচে রইল কিন্তু এর শরীরের সিফিলিস ব্যাকটেরিয়াও নেই হয়ে গেছে। সে খরগোশের শরীরে যে যৌগটি প্রয়োগ করা হয়েছিলসেটি দিয়ে আরও কয়েকটা খরগোশের ওপর পরীক্ষা চালানো হলো। একই ফল পাওয়া গেল সব কটি পরীক্ষায়। পল আলিখের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলো সে ফলাফল। আর্সেনিকের যে যৌগটি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করলকিন্তু খরগোশকে বাঁচিয়ে রাখলসেটি ছিল তাঁর তৈরি করা ৬০৬ নম্বর যৌগ। সে যৌগের নাম দেওয়া হলো স্যালভারসেন-৬০৬। 

১৯০৯ সালের শরৎকাল তখন। মাত্র এক বছরের মাথায় যৌগটি মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হলো। স্যালভারসেন দিয়ে নিরাময় করা গেল সিফিলিস। সিফিলিস রোগ সেরে যাচ্ছেমানুষ তাতে বিস্মিত! দুনিয়ার খবরের কাগজগুলো মেতে উঠল আলিখের সেই আবিষ্কারের খবরে। স্যালভারসেন আবিষ্কারের আগেই আলিখ চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন। কিন্তু সে নোবেল মুকুট তাঁকে যতটা না পরিচিত করেছিলতার চেয়ে বহুগুণ পরিচিত করল স্যালভারসেন ওষুধ। অন্যদিকে সাহাচিরো তিনবার নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত পাননি। সারা দুনিয়া তাঁকে ভুলে গেলেও জাপান ভোলেনি। সে দেশের ছেলেমেয়েরা আজও সাহাচিরোর কথা পড়ে পাঠ্যবইয়ে।

রসায়নিক গঠন

স্যালভারসেন যৌগের রাসায়নিক নাম আর্সফেনামিন । রসায়নে এসব যৌগকে বলা হয় ধাতব-জৈব যৌগ। এই যৌগ যদিও রোগ নিরাময়ে বহু বছর ধরে ব্যবহূত হয়েছেতবে এর সঠিক রাসায়নিক গঠন জানা ছিল না। পল আলিখ সে সময়ে যে গঠন প্রস্তাব করেছেনপ্রায় শতবর্ষ পর এসে সেটা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছেস্যালভারসেন হলো ট্রাইমার ও পেন্টামারের সমন্বিত যৌগ।

সূত্র: Angew. Chem. Int. Ed.2005, 44, 941~944)

কসমোলোজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল

আমাদের চারপাশে যত বস্তু আছে সেগুলো সবই বিভিন্ন প্রকার অণু-পরমাণু দ্বারা গঠিত। এক বা একাধিক পরমাণু একত্রিত হয়ে অণু গঠন করেআর পরমাণু গঠিত হয় ইলেকট্রনপ্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে। পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াসসেখানে সবগুলো প্রোটন ও নিউট্রন কেন্দ্রীভূত অবস্থায় থাকেআর ইলেকট্রনগুলো এই নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। কিন্তু এই ইলেকট্রনপ্রোটন ও নিউট্রন আসলে কিআর এগুলো কোন্ বল(শক্তি-ফোর্স) দ্বারা এবং কিভাবে একত্রিত অবস্থায় থাকেএই প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করতে পদার্থবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন তত্ত্ব দিয়েছেনযেগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য হল “কসমোলোজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল” তত্ত্ব।

 স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্বটি মূলত সত্তুরের দশকে পূর্ণতা পায়। এ মডেল অনুসারে কিছু মৌলিক কণিকা পদার্থ গঠন করেযাদের ১. ফার্মিয়ন (ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মির নামানুসারে) বলে এবং কিছু কণিকা বলের বাহক হিসেবে ক্রিয়া করেযাদের ২. বোসন (ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বোসের নামানুসারে) বলে।

 মৌলিক কণিকাগুলোর কিছু বিশেষ ধর্ম

মৌলিক কণিকাগুলোর কিছু বিশেষ ধর্ম থাকে যেগুলো দ্বারা এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়যেমনঃ ১. ভর ২. বৈদ্যুতিক আধান৩. স্পিন ইত্যাদি

বোসন কণাঃ বোসনের স্পিন থাকে শূণ্য অথবা পূর্ণ সংখ্যা (,,২.....) বোসন বর্জন নীতি অনুসরন না করায় সহযেই একে অপরকে ভেদ করতে পারে (যেমন – আলো এবং অন্যান্য তড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ)। বোসন বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান অনুসরন করে।

বোসন মোট ২ প্রকার – গেজ বোসন ও হিগ্‌স বোসন। গেজ বোসন বলের বাহক হিসেবে ক্রিয়া করে। এর স্পিন ১। মৌলিক বল চার প্রকার -  তড়িতচুম্বকীয় বলসবল নিউক্লীয় বলদুর্বল নিউক্লীয় বল এবং মাধ্যাকর্ষন বল। গেজ বোসন প্রথম তিনটির সাথে সম্পর্কিত।

ফার্মিয়নঃ ফার্মিয়নের স্পিন থাকে পূর্ণ সংখ্যার অর্ধেক (১/২,৩/২,৫/২.....)। ফার্মিয়ন ফার্মি-ডিরাক পরিসংখ্যান এবং পাউলি-র বর্জন নীতি মেনে চলে। এ নীতি অনুসারে একাধিক ফার্মিয়ন একই সময়ে একই স্থানে অবস্থান করতে পারে নাফলে বাস্তবেও আমরা দেখি এক বস্তু অন্য বস্তুকে ভেদ করে যেতে পারে না। ফার্মিয়ন মোট ১২ রকমের হয়এদের প্রত্যেককে এক একটি স্বাদবিহীন ফ্লেভার [Flavor] বলে ১২টি ফার্মিয়নের আবার অনুরূপ ১২টি প্রতিকণিকা [Antiparticle] আছে (যেমন ইলেক্ট্রনের প্রতিকণিকা পজিট্রন)। ফার্মিয়নের মধ্যে দুইটা ভাগ আছে১. কোয়ার্ক এবং ২. লেপ্টন।

ফার্মিয়নের আরেকটি ভাগ হল লেপ্টন। এরা একা থাকতে পারে। সবচেয়ে পরিচিত লেপ্টন হল ইলেকট্রন e এছাড়াও মিউওন μ, টাউওন τ এবং এ তিনটির অনুরূপ নিউট্রিনো - ইলেকট্রন নিউট্রিনো νe, মিউওন নিউট্রিনো νμ, টাউওন নিউট্রিনো ντ লেপ্টনের অন্তর্ভুক্ত।

১২টি ফার্মিয়নকে আবার ৩টি জেনারেশনে ভাগ করা হয় – I, II এবং III.

১২টি ফার্মিয়নকে আবার ৩টি জেনারেশনে ভাগ করা হয় – I, II এবং III.

জেনারেশন  I-এর চেয়ে জেনারেশন  II-এর কণিকাগুলোর ভর বেশিআবার জেনারেশন  II-এর চেয়ে জেনারেশন  III-এর কণিকাগুলোর ভর আরও বেশি। প্রত্যেক জেনারেশনের ভেতরে আবার কোয়ার্কের ভর লেপ্টনের চেয়ে বেশি। লেপ্টনের মধ্যে নিউট্রিনোগুলোর ভর সবচেয়ে কমপ্রায় নেই বললেই চলে। প্রত্যেক জেনারেশনের প্রথম কোয়ার্কের বৈদ্যুতিক আধান +২/৩দ্বিতীয় কোয়ার্কের আধান -১/৩ভারী লেপ্টনের আধান -১ আর নিউট্রিনোর কোন আধান নেই। প্রথম জেনারেশনের আধানযুক্ত কণিকাগুলো দিয়েই মূলত আমাদের চারপাশের জগত গঠিত। অন্যান্য জেনারেশনের আধানযুক্ত ভারী কণিকাগুলো শুধু অতি উচ্চশক্তিসম্পন্ন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় এবং অতিদ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে হালকা স্থিত কণিকায় রুপান্তরিত হয়। আর আধানবিহীন নিউট্রিনোগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না এবং অন্যান্য কণিকার সাথে তেমন কোন প্রতিক্রিয়াই দেখায় না।

এই ধর্মের জন্য সাম্প্রতিক কালের আলোর-চেয়ে-দ্রুতগতির-কণার-অস্তিত্ব-নিয়ে-প্রশ্ন-তোলা আলোচিত অপেরা এক্সপেরিমেন্টে মিউওন নিউট্রিনো ব্যবহার করা হয়েছিল।

কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডিনামিক্স (QED)

তড়িৎচুম্বকীয় বল ক্রিয়া করে বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত কণিকাগুলোর মধ্যে। এর পাল্লা অসীমশক্তি সবল নিউক্লীয় বলের চেয়ে কম কিন্তু দুর্বল নিউক্লীয় বলের চেয়ে বেশি। এর বাহক হল ফোটন γযার নিজের কোন ভর বা আধান নেই। এ সংক্রান্ত তত্ত্বকে কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডিনামিক্স (QED) বলে।

 সবল নিউক্লীয় বল ক্রিয়া

সবল নিউক্লীয় বল ক্রিয়া করে ভরবৈদ্যুতিক আধান বা স্পিন সদৃশ মৌলিক কণিকার বিশেষ ধর্ম কালারযুক্ত কণিকা অর্থাৎ কোয়ার্কসমূহ ও গ্লুওন g-এর মধ্যে।

প্রতিটি কোয়ার্ক ৩ কালারের প্রতীকী রঙ হচ্ছে লালসবুজ ও নীল। ফ্লেভারের যেমন স্বাদ-গন্ধ নেই এই কালারের নামের সাথে দৃশ্যমান রঙের কোন সম্পর্ক নেই কোয়ার্ক কখনও একা থাকতে পারে নাসবসময় দুইটি (মেসন) বা তিনটির (ব্যারিয়ন) গ্রুপ গঠন করে। লালসবুজ ও নীল আলো মিলে যেমন রঙবিহীন বা সাদা আলো গঠন করেতেমনি কোয়ার্কওএমনভাবে গ্রুপ গঠন করে যেন সবগুলো মিলে সাদা বা রঙবিহীন অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাই ব্যারিয়নে সবসময় থাকে লালসবুজ ও নীল কোয়ার্ক এবং মেসনে থাকে যে কোন একটি কালার ও তার অ্যান্টিকালার (অ্যান্টিকোয়ার্ক থেকে)।

সবল নিউক্লীয় বলের পাল্লা খুবই ক্ষুদ্রমাত্র ১০-১৫ মিটারের মত। এ বলের কারণেই কোয়ার্ক প্রোটন বা নিউট্রনের মত হ্যাড্রন গঠন করে। এ ক্ষেত্রে বলের বাহক হল গ্লুওনএটি আঁঠার (glue) মত কাজ করে বলে এর নাম দেয়া হয়েছে gluon ফোটনের মত গ্লুওনেরও নিজের কোন ভর বা আধান নেই। গ্লুওন ৮ প্রকারতবে সেগুলো কোয়ার্কের চেয়ে অনেক জটিল৮টি কালার-অ্যান্টিকালারের জোড় হিসেবে থাকে। নিজস্ব পাল্লার ভেতর সবল নিউক্লীয় বলের শক্তি অন্যান্য মৌলিক বলের চেয়ে অনেক বেশিপ্রোটন ও নিউট্রন গঠনের পরও অতিরিক্ত থাকা বল তড়িতচুম্বকীয় বলকে পরাহত করে পরমাণুর নিউক্লিয়াস গঠন করে। এ অতিরিক্ত সবল নিউক্লীয় বলের বাহক হল মেসন। সবল নিউক্লীয় বলের আরেকটি স্পেশাল বৈশিষ্ট্য হল এর পাল্লার মধ্যে দুইটি কণিকার দুরত্ব যত বাড়েএদের মধ্যকার বল ততই বৃদ্ধি পায়যা তড়িতচুম্বকীয় বল ও মাধ্যাকর্ষন বলের ঠিক বিপরীত। তাই কোয়ার্ককে কখনও আলাদা করা যায় না। কারন দুইটি কোয়ার্ককে আলাদা করতে চাইলে প্রচুর পরিমাণ শক্তি সরবরাহ করতে হবেআর এদের মধ্যে দুরত্ব যত বাড়বে শক্তির পরিমাণও তত বাড়াতে হবেফলে একসময় শক্তির পরিমাণ এতই বাড়বে যে কোয়ার্কদুটি আলাদা হয়ে ঐ শক্তি থেকে অ্যান্টিকোয়ার্ক উৎপন্ন করে আবার নতুন করে কোয়ার্ক-অ্যান্টিকোয়ার্ক জোড় গঠন করবে। সবল নিউক্লীয় বল সংক্রান্ত তত্ত্বকে কোয়ান্টাম ক্রোমোডিনামিক্স (QCD) বলে।

 দুর্বল নিউক্লীয় বল ক্রিয়া করে ফ্লেভারযুক্ত কণিকা অর্থাৎ ফার্মিয়নের মধ্যে। এটি খুব দুর্বল বল এবং এর পাল্লা সবল নিউক্লীয় বলের চেয়েও ক্ষুদ্রমাত্র ১০-১৮ মিটারের মত। এর দ্বারা পরমাণুর তেজষ্ক্রিয় ক্ষয় ব্যাখ্যা করা যায়। এর বাহক হল W+, W-  Z0 বোসন (কোন কোন ক্ষেত্রে হিগ্‌স বোসনকেও ধরা হয়)। এদের নিজস্ব ভর আছেএর মধ্যে Z0-এর ভর সবচেয়ে বেশি। এদের নিজস্ব আধানও আছে, W+-এর আধান +১, W--এর আধান -১ এবং Z0 আধান নিরপেক্ষ। দুর্বল নিউক্লীয় বল সংক্রান্ত তত্ত্বকে কোয়ান্টাম ফ্লেভারডিনামিক্স (QFD) বলে। তবে তড়িতচুম্বকীয় বল ও সবল নিউক্লীয় বলকে একত্রে ইলেক্ট্রোউইক থিওরীতে (EWT) আলোচনা করা হয়।

 মাধ্যাকর্ষন বল ক্রিয়া করে সকল কণিকার মধ্যে। এটি খুবই দুর্বল বলকিন্তু এর পাল্লা অসীম এবং সবসময়ই শুধুমাত্র আকর্ষণ করে। স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্ব এটি ব্যাখ্যা করতে পারে না এবং কখনও পারবেও না। ধারণা করা হয় এ বলেরও একটি বাহক আছেএর প্রস্তাবিত নাম গ্র্যাভিটন। এটি একটি ভরবিহীন কণিকা যার স্পিন ২। মাধ্যাকর্ষন বল সংক্রান্ত তত্ত্বকে কোয়ান্টাম জিওমেট্রোডিনামিক্স (QGD) বা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটেশন বলে।

হিগ্‌স বোসন স্ট্যান্ডার্ড মডেলের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি কণিকাকারণ এটি ফোটন ও গ্লুওন বাদে অন্যান্য সকল কণিকার ভর থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে। ধারণা করা হয়ভরের উৎপত্তি ঘটে মৌলিক কণিকার হিগ্‌স ক্ষেত্রে পরিভ্রমনের জন্য। এই হিগ্‌স ক্ষেত্রের ক্ষুদ্রতম অংশই হল হিগ্‌স বোসন। এর স্পিন হল ০। স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারেহিগ্‌স বোসন না থাকলে সকল কণিকাই ভরবিহীন হত। এটিই স্ট্যান্ডার্ড মডেলের একমাত্র কণিকা যেটি ২০১২ সালের ৪ঠা জুলাই বুধবার আবিষ্কৃত হয়।

সার্নের সত্তুরের দশকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর স্ট্যান্ডার্ড মডেলের ভবিষ্যৎদ্বানী অনুযায়ী নতুন কিছু মৌলিক কণিকা আবিষ্কৃত হওয়ায় তত্ত্বটি আরও পাকাপোক্ত হয়। ১৯৭৭-এ বটম কোয়ার্ক১৯৯৫-এ টপ কোয়ার্ক ও ২০০০-এ টাউ নিউট্রিনো আবিষ্কৃত হয়। এদের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যৎদ্বানীর সাথে প্রায় পুরোপুরি মিলে যায়। তবে স্ট্যান্ডার্ড মডেলের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। যেমন– এ তত্ত্বে ডার্ক ম্যাটারের কোন স্থান রাখা হয়নিএ তত্ত্ব মাধ্যাকর্ষন বল ব্যাখ্যা করতে পারে না। এ সত্ত্বেও স্ট্যান্ডার্ড মডেলের গুরুত্ব অপরিসীমতাই একে বলা হয় প্রায় সবকিছুর তত্ত্ব (Theory of almost everything) পদার্থবিজ্ঞানীদের মতেসবগুলো মৌলিক বল একত্রিত করে একটি সবকিছুর তত্ত্বও (Theory of everything) বের করা সম্ভব।

 https://www.bigganbangla.com/স্ট্যান্ডার্ড-মডেল/

তথ্যসূত্রঃ

১. http://physics.info/standard/

. http://h2g2.com/dna/h2g2/A666173

যে আলোর কম্পাঙ্ক যত বেশিতার শক্তিও তত বেশি

যে আলো আলোক-তড়িৎক্রিয়ায় অংশ নেয়তার উজ্জ্বলতায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। আলোকরশ্মি যত উজ্জ্বল হবেতার ইলেকট্রন নির্গমনের সংখ্যা তত বেশি থাকবে। যে আলোর কম্পাঙ্ক যত বেশিতার শক্তিও তত বেশি। সুতরাং সেই আলো ধাতুর ওপর যে ধাক্কা দেবে সে ধাক্কার জোরও তত বেশি হবে। সুতরাং ইলেকট্রন বের করার ক্ষমতা সেই আলোর বেশি থাকবে-এই তত্ত্ব একসঙ্গে দুটো সমস্যার সমাধানের পথ প্রশস্ত করে। এতে আলোক তড়িৎক্রিয়া সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক সমস্যাটা মিটে যায়, সেই সঙ্গে কোয়ান্টাম তত্ত্বও প্রতিষ্ঠিত হলো শক্তপোক্তভাবে। আলোক-তড়িৎক্রিয়া ব্যাখ্যার পর থেকে তরুণ বিজ্ঞানীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন বিজ্ঞানের এই নতুন শাখাটিতে।

আদর্শ কৃষ্ণবস্তু এবং তার বিকিরণসহ প্রথম সসূত্র ধারণা দেন জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী গুস্তভ কার্শফ ১৮৬০ সালে। গুস্তভ কার্শভ বলেনকোনো বস্তুর তাপমাত্রা যদি পরিবেশের তাপমাত্রার চেয়ে কম হয়সেই বস্তু নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘের বিকিরণ শোষণ করে নিজের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করবে। আবার কোনো বস্তুর তাপমাত্রা যদি পরিবেশের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হয় তবে সেই বস্তু নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘের আলো বিকিরণ করে তরঙ্গদৈর্ঘ হ্রাস করবে। ১৮৯৫ সাল নাগাদ কৃত্রিম কৃষ্ণ বস্তু তৈরি হয়। এরমধ্যে ফেরি আর ভিয়েনের কৃষ্ণবস্তু তত্ত্ব বেশি পরিচিত। 

কৃষ্ণবস্তুর দেওয়ালে হার্জিয়ান কম্পকদের এক রকম শক্তি -বণ্টন ব্যবস্থা ও এক ধরণের এন্ট্রপি বণ্টন-ব্যবস্থা আছে। সাম্য অবস্থায় এন্ট্রপি সব চেয়ে বেশি হতে হবে এবং তা পরিসংখ্যান পদ্ধতির সাহায্যে বোলৎজমানের মৌলিক সমীকরণটি কাজে লাগিয়ে গণনা করা যায়। সম্ভাব্যতা গণনা করতে গিয়ে প্লাঙ্ক দেখলেন কম্পকের শক্তিকে ছোট অথচ সসীম অংশে – ‘কোয়ান্টায় ভাগ করে ফেলা সুবিধাজনক। এই অনুমানের সাহায্যে প্লাঙ্ক একটি কম্পকের গড় শক্তি পরিমাপ করতে সক্ষম হন। এর থেকেই এলো কৃষ্ণবস্তুর ধারণা ( সূত্র : বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিদ্যা ও ব্যক্তিত্ব : ডঃ শঙ্কর সেনগুপ্ত)।

তখনকার বিজ্ঞানীরা জানতেনকোনো বস্তুকে ক্রমাগত উত্তপ্ত করতে থাকলে তার বিকিরণের পরিমাণটাও বাড়তে থাকে। সাথে সাথে বিকিরণের রংয়েরও পরিবর্তন ঘটে। একটা লোহাকে উত্তপ্ত করলে বিকিরণের ব্যপারটা স্বচক্ষে দেখা সম্ভব।লোহাকে উতপ্ত করলে প্রথমে লোহা শুধু গরমই হবে। রংয়ের কোনো পরিবর্তন হবে না। কিন্তু আরও উতপ্ত করলে তখন হালকা লাল রংয়ের আভা দেখা দেবে। তার মানে বিকিরণের রং পরিবর্তনের বিষয়টা তখন স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এখন যদি তাপমমাত্রা আরও বৃদ্ধি করা যায়লোহার রং তখন গাঢ় লাল হয়ে উঠবে। তাপমাত্রা ৫০০ ডিগ্রির ওপরে উঠলেই কেবল লোহার রং লাল হবে। তাপাত্রা ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠলে গরম লোহা তখন ছড়াবে উজ্বল হলুদ দ্যূতি। তার মানে বিকিরণের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমছে। কারণ লালের চেয়ে হলুদ রংয়ের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম। লাল থেকে কিন্তু সরাসরি লোহার রং একবারেই হলুদ হয় না। ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরে তাপমাত্রা ধীরে বাড়াতে একসময় কমলা ৮০০ ডিগ্রি থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকলে নিউটনের বর্ণালী বেনিআসহকলার বাকি রংগুলোও একে একে দেখা যাবে। সবুজআসমানীনীল আর বেগুনি। তারপর লোহার তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে একসময় হবে সূর্য পৃষ্ঠের সমান। তখন সেই উতপ্ত লোহার রং উজ্জ্বল সাদা দেখাকোনো বস্তুর তাপমাত্রা কতটা বাড়ালে কতটুকু তাপ কিংবা আলোকরশ্মি বিকিরণ করবে সেটা তুলনা করার জন্য একটা আদর্শ কৃষ্ণবস্তুর দরকার হয়ে পড়আদর্শ কৃষ্ণবস্তু তৈরি হলো। বিজ্ঞানীরা সেটা নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন। লোহার টুকরোর মতো কৃষ্ণবস্তুকেও উতপ্ত করা হলো। ধরা যাক৭০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কৃষ্ণবস্তুকে উৎপত্ত করা হয়েছে। ওই তাপমাত্রায় কৃষ্ণবস্তুটি যে তাপমাত্রা ও আলোকরশ্মি বিকিরণ করবে তা অন্য যেকোনো বস্তুর চেয়ে বেশি। কারণ কোনো বস্তুই কৃষ্ণবস্তুর মতো শতভাভাগ তাপমাত্রা শোষণ করতে পারে না। তাই কোনো বস্তুর বিকির্ণ তাপ ও আলো কৃষ্ণবস্তুর সমান হবে। কৃষ্ণবস্তু তো পাওয়া গেলএবার এর বিকিরণের জন্য একটা সমীকরণ দরকার। বিকিরণ সম্পর্কিত প্রথম সমীকরণটা দাঁড় করালেন দুই অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী জোসেফ স্টিফেন ও লুডভিগ বোলৎজম্যান। সেটা হলোএই সূত্রের সার কথা হলো কৃষ্ণবস্তু থেকে তাপ ও আলোর আকারে বিকির্ণ মোট শক্তি E-এর পরিমাণ বস্তুর পরম তাপমাত্রা T-এর সমানুপাতিক। সমীকরণে একটা ধ্রুবক K ব্যবহার করা হয়েছেএটা বোলৎজম্যান ধ্রুবক।

আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার সাগরে জোয়ার এলো যেমন করেঃ

কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বই প্রশ্নবিহীন কখনও ছিলনা এমনকি আইনস্টাইনের জগদ্বিখ্যাত দুই আপেক্ষিকতা তত্ত্বও। তাই কৃষ্ণগহ্বর-কথাটা ছিল অনেকটা তাত্ত্বিক বিষয়। ফলে, এটির অস্তিত্ব আদৌ আছে, কি নাই-এ আশংকাও কম ছিল না এতকাল। তাই কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole) এর অস্তিত্ব নিছক স্বপ্ন না বাস্তব কিংবা সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব কি শুধুই তত্ত্ব না বাস্তব- তা সরেজমিনে চাক্ষুস দেখার উদ্দেশ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা "Event Horizon Telescope" নামক এক যুগান্তকরী মহাজাগতিক প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষ্ণগহ্বরের ঘটনা দিগন্তের (Event Horizon) ছায়াকে চিত্রিত করার জন্য ইন্টারফেরোমেট্রি পদ্ধতিতে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বেতার দূরবীনগুলোকে একত্র করে একটি বড় ব্যাসের দূরবীন তৈরি করেন-যার ব্যাস হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার। কৃষ্ণগহ্বরের ঘটনা দিগন্তের বাইরের অ্যাক্রেশন ডিস্ক থেকে যে আলো পৃথিবীতে আসে, তাতে দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ থাকে না। কিন্ত্ত সেখান থেকে যে বেতার তরঙ্গ আসে, সেগুলো শনাক্ত করার জন্য দরকার পৃথিবীর আকার সমান টেলিস্কোপের- যা আদৌ সম্ভবপর নয় বিধায় বিকল্প হিসাবে বেতার দূরবীনগুলোকে এই একত্রকরণের প্রক্রিয়া। উল্লেখ্য, দূরবীনের বিশ্লিষ্টকরণ (রিসলিউশন) ক্ষমতা হচ্ছে প্রায় ২০ মাইক্রো আর্কসেকেন্ড যা হলো পূর্ণ চক্রের ৯ কোটি ভাগের এক ভাগ। উক্ত Event Horizon Telescope এর মাধ্যমে সম্প্রতি বেতার জ্যোতির্বিদরা ১ দশমিক ৩ মিলিমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যে ৫৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের একটি বিশাল উপবৃত্তাকার M87 নামক গ্যালাক্সির কেন্দ্রের দানবীয় কৃষ্ণগহ্বরের ছায়ার (প্রতিলিপির) চারিদিকে যে পরিবৃদ্ধি চক্র (অ্যাক্রেশন ডিস্ক) এবং জেট আছে, তা ভেদ করে ঘটনা দিগন্তের বাইরের ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এতে জানা যায় যে, ছায়ার চারিদিকের ফোটন চক্রের ব্যাসার্ধ হলো মাত্র ১৫০ জ্যোতির্বিদ্যা একক (AU) যা আমাদের সৌরজগতের চেয়ে একটু বড়। প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা গেছে, Event Horizon Telescope এর ছবিটির মধ্যের কালো যে অংশ, যাকে কৃষ্ণগহ্বরের ছায়া বলা হয়- সেটির ব্যাসার্ধ ঘটনা দিগন্তের প্রায় আড়াই গুণ। ওই ব্যাসার্ধের মধ্যে কৃষ্ণগহ্বরের কাছে কোনো ফোটন এলে হয় সেটি কৃষ্ণগহ্বরের পতিত হবে অথবা কৃষ্ণগহ্বরের চারিদিকে ঘটনা দিগন্তের বাইরে ফোটন গোলক নামে একটি জায়গায় আবদ্ধ হবে। কাজেই সেটুকু জায়গা জুড়ে কৃষ্ণগহ্বরের ছায়া তৈরি হবে এবং প্রমাণিত হবে আইনস্টাইনের সাধারণ তত্ত্ব সমর্থিত কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব।জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা তা-ই প্রমাণ করেছেন। 

মহাবিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস

স্থান (Space)   সময় (Time) এবং এদের অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয় অর্থাৎ পৃথিবী এবং অন্যান্য সমস্ত  গ্রহ , সূর্য -তারা -নক্ষত্র , জ্যোতির্বলয় স্থান ও এদের অন্তর্বর্তীস্থ অদৃশ্যমান গুপ্ত শক্তি (Dark Energy), গুপ্ত পদার্থ (Dark Matter), ল্যামডা-সিডিএম নকশা  ও কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেলশূণ্যস্থান (মহাকাশ)সহ দৃশ্যমান পদার্থ  শক্তি মিলেযে জগৎ তাকেই বলা হচ্ছে মহাবিশ্ব (UNIVERSE) 

উল্লেখ্য, আমাদের পর্যবেক্ষণ-লব্ধ মহাবিশ্বের ব্যাস প্রায় ২৮ বিলিয়ন parsec (৯১ বিলিয়ন Light-year) মহাবিশ্বের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিষয়কে বিশ্বতত্ত্ব (Cosmology) বলা হয়। দৃশ্যমান মহাবিশ্বের সুদূরতমপ্রান্তের পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন তাত্ত্বিক গবেষণায় প্রতীয়মান যে, মহাবিশ্বের প্রতিটি প্রক্রিয়াই যেন তার সৃষ্টি শুরু থেকেই প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত, কঠোর সুশৃঙ্খল, তীক্ষ্ণ বিন্যস্ত, অভিন্ন নিয়ম-নীতিনির্ধারিত তত্ত্ব এবং সূত্রে গভীরভাবে আবদ্ধ-যার উৎসমূল বা উৎসশক্তিকে আধুনিক পরিভাষায় বলা হয় প্রকৃতি’ (NATURE) 

সম্প্রতি আধুনিকপদার্থবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন তত্ত্বে আমাদের এই দৃশ্যমান মহাবিশ্বের পাশাপাশি আরোঅনেক মহাবিশ্ব থাকার অনন্ত মহাবিশ্ব থাকার সম্ভাবনা অবশ্যম্ভাবী বলে ধারণা করা হচ্ছে। (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)।প্রাচীন কালে মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করার জন্য নানাবিধ বিশ্বতত্ত্বের আশ্রয় নেওয়া হত। পুরাতন গ্রিক দার্শনিকরাই প্রথম এই ধরণের তত্ত্বে গাণিতিক মডেলের সাহায্য নেন এবং পৃথিবী কেন্দ্রিক একটিমহাবিশ্বের ধারণা প্রণয়ন করেন। তাঁদের মডেলে পৃথিবীই মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থিত। (সূত্রঃ প্রাগুক্ত)।

অতি পারমাণবিক জগতের কিছু কথা

দার্শনিক ডেমোক্রিটাস ঈসাব্দপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা’ (atom) নিয়ে মতবাদ পোষণ করেন। অ্যাটোমাস’ (atomas) শব্দ থেকে এটম (atom) শব্দটির বুৎপত্তি যার অর্থ অবিভাজ্য (non divided অ্যারিষ্টটলের মতে, পদার্থসমূহ নিরবচ্ছিন্ন (continuous) একে যতই ভাঙ্গা হোক না কেন, পদার্থেরকণাগুলো ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে। বিজ্ঞানী রাদার ফোর্ড তার পরীক্ষালব্ধ ফলাফল থেকে বলেন যে,গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস ঈসাব্দপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা’ (atom) নিয়ে মতবাদ পোষণ করেন। অ্যাটোমাস’ (atomas) শব্দ থেকে এটম (atom) শব্দটির বুৎপত্তি যার অর্থ অবিভাজ্য (non divided অ্যারিষ্টটলের মতে, পদার্থসমূহ নিরবচ্ছিন্ন (continuous) একে যতই ভাঙ্গা হোক না কেন, পদার্থেরকণাগুলো ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে। বিজ্ঞানী রাদার ফোর্ড তার পরীক্ষালব্ধ ফলাফল থেকে বলেন যে, পরমাণু হলো ধনাত্মক আধান ও ভর একটি ক্ষুদ্র জায়গায় আবদ্ধ। তিনি এর নাম দেন নিউক্লিয়াস। প্রোটন ও ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত হয় পরমাণু কেন্দ্র-এই কেন্দ্রকেবলা হয় নিউক্লিয়ার্স। নিউক্লিয়ার্স এর চার পাশে ঘুরতে থাকে পরমাণুর ইলেকট্রন।

স্ট্রিং থিওরীর গোড়ার কথা

১৯৬৮ সাল। এসময় বিশ্বজুড়ে চলছিল অ্যাটম স্ম্যাশার যন্ত্র সাইক্লোট্রনে নিউট্রন-প্রোটনের মত ভারী কণার ভাঙ্গন উৎসব। সাইক্লোট্রনে ভারী কণাগুলোকে বৃত্তাকার পথে ঘোরানো হয় এর গতিবেগ বাড়ানোর জন্য। এতে কণাগুলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এক বোঝা কণা পদার্থের নানান বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত হাতে নিয়ে গ্যাব্রিয়েল ভেনেজিয়ান নামক সার্ণের এক তরুণ গবেষক ।

সাইক্লোট্রন যন্ত্র অসিলেটরে ভারী কণাগুলোকে এমনভাবে ঘোরানো হয় যাতে প্রতিচক্রেই এর গতিবেগ বেড়ে যায়। তারপর এমন এক সময় এসে যায় অতিপারমাণবিক (সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ) কণাগুলোর গতিবেগ বাড়তে বাড়তে প্রায় আলোর গতিতে পৌঁছে যায়। এতে অতিপারমাণবিক (সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ) কণাগুলো নিউটনের ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্রে অতি ভারি হয় উঠে। একে তো প্রায় আলোর গতি তার উপর কণার ভরত্ব অর্জনের ফলে যতই ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ অতিপারমাণবিক কণাই হোক না কেনতার হিটিং (আঘাত) ক্ষমতা যে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে তা হিগস বোসন কণা আবিস্কার করতে গিয়ে হাড়ে হাড়ে টের পান সার্ণের ল্যার্জ হ্যাড্রনের বিজ্ঞানীরা। সাইক্লোট্রনের কণাগুলোতেও তখন এমন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছিল। আলোর বেগের কাছাকাছি বেগে পৌঁছে যাওয়া কণাগুলোর মধ্যে প্রচন্ড সংঘর্ষে টুকরো টুকরো হয় কণাগুলো। তাতে জন্ম হয় তুলনামূলক হালকা কণা। সঙ্গে উৎপন্ন হয় প্রচন্ড শক্তি। হিগস ফিল্ডের ন্যায় এই শক্তি ব্যবহার করে ভারী কণাও সন্ধান মেলে। যাহোক সাইক্লোট্রন যন্ত্র অসিলেটরে নিউট্রন-প্রোটনের মত ভারী কণার ভাঙ্গন-এই ফলাফল বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হয় যা গ্যাব্রিয়েল ভেনেজিয়ানের কাছেও ত্বরিৎ পৌঁছে যায়। কণার গতিপথের ডেটা নিয়ে গবেষণারত গ্যাব্রিয়েল ভেনেজিয়ান ফলাফল পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখতে পান যেভারি কণাগুলোর ভাঙ্গনের ফলে যে সব নতুন কণার জন্ম হয় সেগুলোর একটি গতিপথের গ্রাফচিত্র আরেকটির সাথে মেলে না। তিনি ডেটাগুলোর মধ্যে মিল খুঁজতে থাকেন। মিল খুঁজে না পগ্যাব্রিয়েল গণিতের বিভিন্ন ফাংশনে ফেলে এগুলোর মধ্যে মিল খুঁজতে থাকেন। শেষমেশ পেলেন আলোর রেখা। দেখলেন কণার গতিপথের ডেটাগুলো অয়লারের বেটা ফাংশনে ফেললে সেগুলোর মধ্যে মিল পাওয়া যায়। এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছিল যেসাইক্লোট্রন যন্ত্রে অজস্র কণার জন্ম হচ্ছিল যাতে এসব কণার একটি গতিপথের গ্রাফচিত্র আরেকটির সাথে মিলে যাচ্ছে যা ছিল কণা বিজ্ঞান জগতের জন্য অভূতপূর্ব এবং বৈপ্লবিক। আপাত দৃষ্টিতে এলোমেলো এই রেখচিত্রের মধ্যেগ্যাব্রিয়েল ভেনেজিয়ান কর্তৃক গাণিতিক নকশার সন্ধান পাওয়া-এটিই প্রথমবারের মতো আধুনিক বিজ্ঞানের বহুল আলোচিত স্ট্রিং তত্ত্বের আলো দেখিয়েছিল বলে স্ট্রিং গবেষকদের অভিমত। গ্যাব্রিয়েল ভেনেজিয়ান সবল নিউক্লীয় বলগুলো নিয়ে কাজ করতে গিয়েই অয়লারের বেটা ফাংশনের সঙ্গে কণার গতিপথের সন্ধান পেয়েছিলেন। বেটা ফাংশন যেহেতু সুতাজাতীয় বস্তুর কম্পন ও গতীয় বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা দিতে পারেতাই নিউক্লিয়াসের ভেতরে নিউট্রন আর প্রোটন যে নিউক্লীয় বল দ্বারা যুক্ত থাকেসেই সবল নিউক্লীয় বলের সঙ্গে নিশ্চয়ই সুতা বা তন্তুর কোন সম্পর্ক আছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।  এই সম্পর্কটাই খুঁজছিলেন কণা পদার্থবিদরা এবং সবল নিউক্লীয় বলের ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হয় এই তন্তু তত্ত্বের সাথে। প্রমাণও পান যেনিউট্রন ও প্রোটনগুলো পরস্পরের মধ্যে মেসন নামের বলবাহী কণা বিনিময় করে যেরূপ শক্তভাবে জোড়া লেগে থাকে তার পেছনে কাজ করে সবল নিউক্লীয় বল। মেসন এখানে বলবাহী কণা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু নিউট্রন ও প্রোটনের মধ্যে থাকা কোয়ার্কগুলো পরস্পরের সঙ্গে কিভাবে যুক্ত থাকেএর সমাধানে মারে গেল-মান বলেনঃ কোয়ার্কগুলো পরস্পরের সাথে গ্লুয়ন কণা বিনিময় করে যারফলে গ্লুয়নই হয়ে উঠে সবল নিউক্লীয় বলের মূল বাহক কণা। কিন্তু গেল-মারের কোয়ার্ক-গ্লুয়ন তত্ত্বের সাথে খাপ খায়নি স্ট্রিং এর নিউট্রন-মেসন তত্ত্ব অর্থাৎ নিউট্রন-প্রোটনের মধ্যে থাকা কোয়ার্কগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকার বৈজ্ঞানিক কারণ স্ট্রিং তত্ত্বে ছিল অনির্ণেয়। ফলে কোয়ান্টাম ক্রোমোডায়নামিকসের কারণে হুমকির মধ্যে পড়ে স্ট্রিং তত্ত্ব। তবে বেশ কয়েক বছর পর জন শোয়ার্জ নামক এক মার্কিন বিজ্ঞানী এগিয়ে আসেন স্ট্রিং তত্ত্বকে বাঁচিয়ে রাখতে যা ছিল স্ট্রিং তত্ত্বের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘটনা যেমন ছিল কোয়ান্টাম মেকানিকসের ব্যাপারটি। আইনস্টাইনের তীব্র বাধায় তলিয়ে যাওয়া কোয়ান্টাম তত্ত্ব-কে বাঁচিয়ে রাখতে এক ঝাঁক প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানীদের নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন নীলস বোর।  এর আগে অয়লারের বেটা ফাংশন তত্ত্ব তথা স্ট্রিং থিওরি মতে কেবল মেসনকেই সবল নিউক্লীয় বলের মূল বাহক কণা মনে করা হতো।  (বিঃচিঃ বর্ষঃ ৬  সংখ্যাঃ ০১অক্টমহাবিশ্বের সার্বিক কার্যক্রমে বলের দিক থেকে ৪ প্রধান বল যথাক্রমে ১.মহাকর্ষ বল ২. সবল নিউক্লীয় বল ৩. দূর্বল নিউক্লীয় বল এবং ৪.চৌম্বুক তড়িৎ.বল। অন্যদিকে কণা বিবেচনায় এ পর্যন্ত আবিস্কার বিবেচনায় মহাবিশ্বের মূল কণিকার সংখ্যা হলো ১৬। যার মধ্যে ১৪টি ফার্মিয়ান গোত্রের কণা আর আলোর ফোটন কণাসহ বাকী চারটিকে বলা হয় বোসন শ্রেণীর কণা। উক্ত ১৬টি কণার এককরূপ আইনস্টাইনের মতে ঘটনাদিগন্ত যা বিন্দু সদৃশ।অর্থাৎ মহাসূক্ষ্ণবিন্দুতে মহাবিশ্বের শুরু সেই সূক্ষ্ণ বিন্দুতেই ঘটনাদিগন্তে শেষ। তবে স্ট্রিং থিওরি মতে এটিই শেষ কথা নয়। বরং স্ট্রিং থিওরিমতে প্রকৃতপক্ষে মহাবিশ্বের উৎসমূল স্ট্রিংয়ের কম্পনে নিহিত। অর্থাৎ কম্পনই মহাবিশ্ব সৃষ্টির মূল কথা। এই কম্পনের মাত্রার উপর নির্ভর করে কোন্ বস্তু কিরূপ হবে। স্ট্রিং বা সুতার বিভিন্ন মাত্রার ঘূর্ণয়নের ফলে বিভিন্ন প্রকার কণার উদ্ভব। যেমন ইলেকট্রনের জন্য তন্তুর (স্ট্রিং) কম্পন মাত্রা একরকম। কোয়ার্কের জন্য তন্তুর কম্পনমাত্রা আবার আরেক রকম। অন্য ১৪টি কণার জন্য তন্তুর আলাদা মাত্রার কম্পন নির্দিষ্ট আছে। তন্তুর কম্পনের মাত্রাই ঠিক করে দেয়তা থেকে সৃষ্ট কণার ভরচার্জস্পিন কেমন হবে।এই বৈশিষ্ট্যগুলোই একধরণের কণা থেক আরেক ধরণের কণার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। এসব বিচিত্র কণা দিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের মহাবিশ্ব। এই মহাবিশ্ব তাই সুতায় বোনা মহাবিশ্ব (বিজ্ঞানচিন্তা বর্ষঃ ৬  সংখ্যাঃ ০১অক্টোবর২০২১পৃষ্ঠাঃ ৫৪)।

বর্তমান বিজ্ঞান মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব বিষয়ে তথ্য দিতে গিয়ে মানবজাতিকে এ মর্মে অবহিত করেছে যেপ্রায় ১৫০০ কোটি বৎসর পূর্বে কোন এক মহা আলোক শক্তির মহাউৎস হতে উৎসারিত হয়ে অদৃশ্য প্রায় মহাসূক্ষ্ম বিন্দু 10-33cm. আকার ধারণ করে হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন নামক বিপুল পরিমাণ আলোক শক্তি মহাসঙ্কোচনের মাধ্যমে সংকুচিত হয়ে প্রায় ১০,০০০ কোটি কোটি কোটি কোটি ডিগ্রি কেলভীন (K) তাপমাত্রা লাভ করে মাত্র 10-43sec. অর্থাৎ এক সেকেন্ডের ১০ কোটিকোটি কোটি কোটি কোটি ভাগের মাত্র এক ভাগকাল সময়ের মধ্যে মহাবিস্ফোরণ Big Bang) এর মাধ্যমে এ মহাবিশ্বের সূচনাকাল শুরু হয়Big Bang মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ঐ মতবাদ গবেষণাকারী বিজ্ঞানীগণ Computer simulation'-এর মাধ্যমে ব্যাপক গবেষণা করে সিদ্ধান্ত দেন যেমূলতঃ highest energetic radiation' তথা কল্পনাতীত শক্তিশালী মহা আলোর গোলক। ‘আলোকশক্তিই প্রথমে ঘনীভূত হয়ে মহা বিন্দুতে প্রবেশ করে এবং পরবতা মুহুতে সেই বিন্দুটি মহাবিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্রমান্বয়ে এ মহাবিশ্বে রূপ নেয়। বিস্ফোরণের পর। মুহূর্তে আলোর কণা ফোটন' (Photon) ছাড়া কোনাে কিছুর অস্তিত্বই ছিলো না ।

অপরদিকে বিজ্ঞানীগণ ইউরোপ এবং আমেরিকায় ‘Particles Collider'-এ পদার্থকে ভেঙ্গে অণুঅণুকে ভেঙ্গে পরমাণুপরমাণুকে ভেঙ্গে ইলেকট্রনপ্রোটন ও নিউট্রন এবং প্রোটন ও নিউট্রনকে ভেঙ্গে কোয়ার্কঅবশেষে কোয়ার্ককে ধ্বংস করে আলোর কণা ফোটন'কে সনাক্ত করে প্রমাণ করেন যেএ মহাবিশ্বের সৃষ্টির পেছনে মৌলিক যে শক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছেতা মূলতঃই মহাশক্তিশালী এক প্রকার নূর’ বা ‘আলোকশক্তি যার বৈজ্ঞানিক নাম Highest Energetic Radiation (HER)  Highest Energetic Radiation (HER)-এর মধ্যে আসমান-জমিনের (আকাশ-গ্রহ-নক্ষত্র-পৃথিবী ইত্যাদির) বীজ নিহিত ছিল যা বিস্ফোরণের মাধ্যমে পৃথক হয়ে যায়।এই বিস্ফোরণকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ বলা হয়।

সিন্ধু থেকে বিন্দু!

সৃষ্টির সর্বনিম্নতম ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্রতা, সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণতা কোনটি? এটি জানার আগ্রহ যেদিন থেকে মানুষের মনে জেগেছিল বলা যায় সেদিন থেকেই মূলতঃ পদার্থ বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল। এর সূচনা করেছিলেন মূলতঃ প্রাচীন গ্রীক বিজ্ঞানী ডেমোক্রিটাস অ্যাটম আবিস্কারের মধ্যদিয়ে। পরবর্তীরে অ্যারিস্টটল এটাকে চতুর্মাত্রিক মাত্রিক রূপ দেন যথাঃ ১.মাটি ২.আগুন ৩. পানি, এবং  ৪. বাতাস নামে। পক্ষান্তরে মধ্যযুগে জাবির ইবনে হাইয়ান আল আরাবি এ ধারণার আধুনিকীকরণ করেন । অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে জন ডালটন পরমাণুকে অআরও শক্ত ভিত্তি দান করে প্রস্তাব করেনঃ রাসায়নিক বস্তুসমূহ পরমাণু দিয়ে গঠিত। পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের মাধ্যমে ডালটন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন বলে পরমাণূ সম্পর্কে এটাই ছিল সর্বপ্রথম সত্যিকারের বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব(প্রাগুক্ত পৃঃ ৪৩)। রাসায়নিক বিক্রিয়া সত্ত্বেও পরমাণু অবিকৃত থাকে । তাহলে কী পরমাণু বস্তুর একেবারে মৌলিক উপাদান? ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত মনে করা হতো পরমাণুই বস্তুর একেবারে মৌলিক উপাদান। ১৮৯৭ সালে বৃটিশ বিজ্ঞানী জে.জে. থমসন তাঁর ক্যাথোড রশ্মি পরীক্ষার মাধ্যমে অআবিস্কার করেন পরমাণুর অন্যতম কণা ইলেকট্রন। তার মানে পরমাণু একমাত্র মৌলিক কণা নয়; ইলেকট্রনও আছে তার সাথে। এতে থেমে ছিলেন না পরমাণু গবেষকরা। ১৯১৭ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ পরমাণু নিয়ে অনেকগুলো পরীক্ষা চালান নিউজিল্যান্ড বংশোদ্ভূত বৃটিশ বিজ্ঞানী অআর্নেস্ট রাদারফোর্ড। আবিস্কার করেন পরমাণু কেন্দ্রের নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসে দেখা পেলেন প্রোটনের। ১৯২০ সালে রাদার ফোর্ড প্রস্তাব করেন পরমাণুর কেন্দ্রে প্রোটনের সঙ্গে চার্জবিহীন আরেকটি কণা (নিউট্রন?) আছে। ১৯৩২ সালে সে কণাটি ধরা পড়ে জেমস চ্যানউইকের পরীক্ষায়। এ জন্য ১৯৩৫ সালে জেমস নোবেল পুরস্কার পান। এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয় পরমাণু  ১. ইলেকট্রন ২. প্রোটন ৩. নিউট্রন-এই ৩টি মৌলিক কণা দিয়ে পরমণু গঠিত। (প্রাগুক্ত ৪৪)। সংগত কারণে প্রশ্ন উঠে ঃ তাহলে কি পরমাণুর এই তিনটি কণাই মহাবিশ্বের সবচেয়ে ছোট জিনিস? এর চেয়ে ছোট জিনিস কি হতে পারে না?-এই প্রশ্ন যাঁদের মাথায় চেপেছিল তন্মধ্যে মারে গেলম্যান এবং জর্জ জুইগ ছিলেন অন্যতম। ১৯৬৪ সালে এনারা প্রস্তাব করেন কোয়ার্ক মডেল। ১৯৬৪ সালের এক পরীক্ষায় দেখা যায় যে, প্রোটন অআসলে মৌলিক কণা নয়। এটি গঠিত অআরওঅনেক ছোট ছোট বিন্দুসদৃশ কিছু কণা দিয়ে। রিচার্ড ফাইনম্যান এ কণার নাম দেন পারটন। মারে গেলম্যান নামকরণ করেনঃ কোয়ার্ক। এ সময় দু ধরণের কোয়ার্ক বা পারটন আবিস্কৃত হয় ১. আপ কোয়ার্ক ২. ডাউন কোয়ার্ক । ১৯৯৫ সালে সর্বশেষ টপ কোয়ার্ক আবিস্কার হয়। অতঃপি ১৯৯৬, ১৯৯৭ এবং ১৯৯৮ সালের মধ্যে যথাক্রমে ১. স্ট্রেন্জ কোয়ার্ক ২. চার্ম কোয়ার্ক এবং ৩. বটম কোয়ার্ক নিউট্রন ও প্রোটন-দুটোই কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত। প্রোটনে থাকে ২টি অআপ কোয়ার্ক একটি ডাউন কোয়ার্ক। আর নিউট্রনে দুইটি ডাউন এবং একটি আপ কোয়ার্ক। তার মানে প্রোটন ও নিউট্রন দুটো কণাই অমৌলিক। তবে পারমাণুর কেন্দ্রের বাইরে থাকা ইলেকট্রন এখনও কোয়ার্কের মত  মৌলিকই রয়েছে গেছে। শুধু তাই নয়, ইলেকট্রনের সমগোত্রীয় আরও কিছু কণা আছে, যারা মৌলিক। এদের একক নাম লেপটন। এরাও প্রধানতঃ দুই ভাগে বিভক্ত যথা ১. চার্জধারী এবং ২. চার্জ নিরপেক্ষ।  চার্জধারীরা  দুই শ্রেণীর। চার্জধারীরা যথা ১. মিউন এবং ২. টাউ এবং এবং চার্জবিহীনরা তিন শ্রেণীর যথাঃ ১. ইলেকট্রন নিউট্রিনো ২. মিউ নিউট্রিনো এবং ৩. টাউ নিউট্রিনো।

মূলতঃ মৌলিক কণারা আসলে ভৌত অর্থে কোনো বস্তুই নয়। তাই সে অর্থেই এদের আকার না থাকারই কথা। যদিও বিদ্যুৎ চুম্বকীয় আকার নামে বিমূর্ত একটি ধারণা অআছে। (প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৪৫)। তবে নিউট্রন আর প্রোটনের একটা আকার বিজ্ঞানীরা ২০১৯ সালে দুটি আলাদা পরীক্ষার মাধ্যমে অনুমান করতে সক্ষম হয়েছেন যার বর্ণনা নিম্নরূপঃ

ক)  নিউট্রনঃ ব্যাসার্ধ শুন্য দশমিক ৮৫ ফেমোমিটার এবং

খ) প্রোটনঃ ব্যাসার্ধ শুন্য দশমিক ৮৩৩ ফেমোমিটার (দশমিকের পর ১৪টি শুন্য দিয়ে ১  (এক) লিখলে যে অংক দাঁড়ায়)।

তবে সবচেয়ে ছোট যে কণা-বস্তুর ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্যতা অনুভব-উপলদ্ধি করছেন মানসচোখে (অন্তর্দৃষ্টিতে) তার নামকরণ করা হয়েছে স্ট্রিং, এই তত্ত্বের নাম স্ট্রিং থিওরি। 

স্ট্রিং থিওরির প্রকারভেদঃমৌলিক কনাগুলোকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মুলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ক) এক শ্রেনির নাম বোসন খ) আরেক শ্রেনির নাম ফার্মিওন। প্রথম দিকে যে স্ট্রিং থিওরি গঠন করা হয় তাকে বলা হত বোসনিক স্ট্রিং থিওরি।

স্ট্রিং থিওরীর মূল লক্ষ্যঃস্ট্রিংগুলোর কোয়ান্টাম অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে প্রকৃতিতে বিদ্যমান সকল মৌলিক কনিকার আচরণ ব্যাখ্যা করা স্ট্রিং থিওরীর মূল লক্ষ্য।

স্ট্রিং থিওরী দিতে যাচ্ছে পুরাতন পৃথিবীকে নতুন বিজ্ঞান উপহার!

কনাবাদি পদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেল যেসব কনিকাদের নিয়ে কাজ করে, স্ট্রিং থিওরি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই এসব কনার সাথে চমৎকারভাবে মহাকর্ষের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারে। এ কারণে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যেমহাজাগতিক সবকিছুর তত্ত্ব হিসাবে স্ট্রিং থিওরি সকল কাজের কাজী হওয়ার দাবী রাখে অর্থাৎ এই তত্ত্বের নিজস্ব গানিতিক মডেলের সাহায্যে স্ট্রিং থিওরি প্রকৃতিতে বিদ্যমান চারটি মৌলিক বল, সকল প্রকার শক্তি ও পদার্থের যেকোনো অবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে পারে। এই তত্ত্বের অনুকল্পগুলো (হাইপোথিসিস) আজকাল কণাবাদী পদার্থবিজ্ঞানের ব্যবহৃত হচ্ছে। বস্তুতঃ স্ট্রিং থিওরীর ধারণাগুলো আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এবং কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি ও কোয়ান্টাম গ্রাভিটির (মহাকর্ষের কোয়ান্টাম রুপ) সকল ধোঁয়াশা দূর করে আমাদের পুরাতন পৃথিবীতে এক নতুন পদার্থবিজ্ঞান উপহার দিচ্ছে।

সুপারস্ট্রিং থিওরি

গোড়ার দিকে এই থিওরি কেবল বোসন কণা নিয়েই আলোচনা করত। পরবর্তীতে পদার্থবিজ্ঞানীরা ভিন্ন ধরনের এই মৌলিক কনিকাদের মধ্যে এক ধরনের তাত্ত্বিক সাদৃশিক যোগ সূত্র আবিস্কার করেন। এই দুই ভিন্ন ধরনের কনিকাদের মধ্যে এই তাত্ত্বিক সাদৃশ্যের নাম দেওয়া হয় সুপারসিমেট্রি। পরে এই সুপারসিমেট্রির ধারনাকে স্ট্রিং থিওরিস্টরা তাদের তত্ত্ব গঠনে ব্যবহার করেন। এই নতুন প্রবর্তিত স্ট্রিং থিয়োরির নাম দেওয়া হয় সুপারস্ট্রিং  তত্ত্ব (Super STRING THEORY)

স্ট্রিং থিওরিমতে কেয়ামত তত্ত্বঃ মহাবিশ্বের কণাগুলো যে বিন্দুতে বসে আছে, ওগুলো অ্যাবসুলেট মিনিমাম নয়। লোকাল মিনিমাম। একটা সময় গিয়ে লোকাল মিনিমাম অবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে। তখন কণাগুলো আর এই বিন্দুতে থাকতে পারবে না। চলে যাবে অ্যাবসুলেট মিনিমাম শক্তির বিন্দুতে।আর সেই বিন্দুগুলো আসলে আলাদা আরেকটা মহাবিশ্বের (যেটা আসলে অ্যাকচুয়াল মহাবিশ্ব) অংশ। তাই লোকাল অবস্থা ভেঙ্গে পড়লে  আমাদের বর্তমান মহাবিশ্বের আর অস্তিত্ব থাকবেনা। এই মহাবিশ্বের সব উপাদান চলে যাবে আরেকটা মহাবিশ্বে....এটা যদি ঘটে, তাহলে মহাবিশ্বের তাপীয় মৃত্যুর আগেই আমরা অ্যাকচুয়াল মহাবিশ্বে চলে যাব (বিজ্ঞান চিন্তা, জানুয়ারি ২০২০, পৃঃ ৪৮)।

আইনস্টাইনের E=mc² সমীকরণের ভেতরই আলোর কণালুকিয়ে আছে। বস্তু ও শক্তি অআসলে সমার্থক। (বিজ্ঞান চিন্তা পৃঃ ৪৪)। ►তাই জমে থাকা শক্তিও জমে থাকা বস্তুর মত (পৃঃ ৩৫)। স্ট্রিং থিওরীমতে, প্রাপ্ত কণাগুলো অসলে এক ধরণের সুতার কম্পন যা আমরা কণা (পার্টিকেল) হিসাবে দেখে থাকি।

স্ট্রি থিওরীতে কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্ব !

দেখা যাচ্ছে, স্ট্রি থিওরিতে একটা মৌলিক কণা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোমেটিক্যালি) চলে আসছে। সেটা ঠিক মহাকর্ষের মতো আচরণ করে। সেই কণাটা কোয়ান্টায়িত। অর্থাৎ কোয়ান্টাম মহাকর্ষের একটা তত্ত্ব পাওয়া গেল স্ট্রি থিওরীতে! 

স্ট্রিং তত্ত্বঃ হতে পারে কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্বের উত্তম ব্যাখ্যাকার

 "মহাবিশ্বের সার্বিক কাঠামোর ব্যাখ্যা করতে, ব্ল্যাক হোলের রহস্য ভেদ করতে কিংবা পদার্থ বিজ্ঞানের সার্বিক একটা তত্ত্বে পৌঁছাতে হলে কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্ব জরুরী হয়ে পড়েছে। এই তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার জন্য অনেক তত্ত্বের জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সফল তত্ত্বটি হলো স্ট্রিং তত্ত্ব।....মহাবিশ্বের প্রায় সব অমীমাংসিত বিষয়গুলো তাত্ত্বিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে কেবল স্ট্রিং তত্ত্বই। তাই এই তত্ত্বই হতে চলেছে আগামী দিনের পদার্থ বিজ্ঞানেএর মূল অনুষঙ্গ।" (অশোক সেন, গবেষক, অধ্যাপক, হরিশচন্দ্র রিসার্চ সেন্টার, ভারত)। মহাজাগতিক তার (Cosmic string) বর্তমান বিজ্ঞান বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যা খুবই উচ্চ পর্যায়ের জ্ঞান সমৃদ্ধ।

বিংশ শতাব্দির ৮০-র দশকে প্রথমবারের মতো বিজ্ঞান বিশ্বে ‘Cosmic String' তথা মহাজাগতিক তার (স্ট্রিং) সম্পর্কিত সৃষ্টিতত্ত্ব আবির্ভূত হয়ে রীতিমত তাক লাগিয়ে দেয়। Big Bang model গবেষণাকারী বিজ্ঞানগণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়েই মহাজাগতিক তারের উপস্থিতি এবং এ মহাবিশ্বের সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এই তার যাদুময়ী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে থাকে। এ মহাজাগতিক তারগুলো (Cosmic strings) লম্বায় লক্ষ লক্ষ আলােকবর্ষ কিংবা তার চেয়েও বেশি লম্বা। কিন্তু ব্যাস এত সূক্ষ্ম যে কল্পনা করাও বেশ দুরূহ ব্যাপার। গাণিতিকভাবে প্রকাশ করলে দাঁড়ায় 10-30 cm প্রায়। অর্থাৎ ১ সে.মি. দৈর্ঘ্যকে ১০০ কোটি, কোটি, কোটি কোটি দিয়ে ভাগ করলে যা হবে তার সমান মাত্র। এদের আকৃতি কোথাও কুণ্ডলীর মতো, কোথাও আংটির মতো, কোথাও সর্পিল আবার কোথাও দেখতে কটিবন্ধের মতো । Cosmic strings-এর পদার্থ ভর অকল্পনীয়, বিরাট ও বিশাল, মাত্র কয়েক কিলোমিটার তারের ভর সমগ্র পৃথিবীর ভরের চাইতেও কুয়েক গুণ বেশি। এ তারগুলো খুবই শক্তিশালী এবং এদের ঘনত্ব 'ব্ল্যাক হোলের ঘনত্বের চেয়েও বেশি। 

১৯৮৫ সালে বিজ্ঞানীগণ তথ্য দেন যে এদের এত বিপুল ঘনত্ব  যা কল্পনা করতেও কষ্ট হয়। Cosmic strings'গুলোই নবীন মহাবিশ্বে প্রথম গ্যালাক্সির বীজ বপন করেছিল। তখন নবীন মহাবিশ্ব ধোঁয়ায়/ পরিপূর্ণ ছিলো। ঐ সময় Cosmic strings' ধোঁয়ার মধ্যে আবির্ভূত হয়ে প্রবল মাধ্যাকর্ষণ বলের (Gravity) মাধ্যমে ধোঁয়া, গ্যাস ও ধূলিকণাকে আকর্ষণ করে নিজেদের অভ্যন্তরে জমা করতে থাকে। ফলে এক পর্যায়ে নবীন মহাবিশ্বটি গুচ্ছ গুচ্ছভাবে গ্যাসীয় পদার্থের মেঘখণ্ডরূপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অতঃপর মহাকর্ষ বলের প্রভাবে মেঘখণ্ডগুলো আবর্তন শুরু করে এবং দু'মিলিয়ন বছরে প্রােটো-গ্যালাক্সি ও চার মিলিয়ন বছরে পূর্ণ গ্যালাক্সিতে রূপান্তরিত হয়ে মহাবিশ্বের মূল কাঠামোতে পরিণত হয়।বিজ্ঞানীগণ এখনও রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে কোনো কোনো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে Cosmic strings-এর সন্ধান পাচ্ছেন। গ্যালাক্সিগুলো দিকে তাকালে ওদের গঠন অবয়বে Cosmic strings বা মহাজাগতিক তারের স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায় । 

আলবার্ট আইনস্টাইনের সংক্ষিপ্ত জীবন কাহিনী 

১৮৭৯ সালে জার্মানীর উলমনামক শহরে আলবার্টআইনেস্টাইনের জন্ম। আব্বার নাম হেরম্যান আইনেস্টাইন। কাজের অবসর সময়ে ২৬ বছর বয়সে তিনি স্থান, সময়, বস্তু, মহাকর্ষ ও আলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে গিয়ে ১৯০৫ সালে তিনি সময়” (টাইম ডিলেশন) সম্পর্কে এক যুগান্তকরী প্রবন্ধ প্রকাশ করেন যার নাম বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব” (Special theory of relativity)|)উক্ত প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন যে, সময় (টাইম) একেক জনের জন্য একেক অবস্থানে বিদ্যমান। এর পর আরো একটি গবেষণালদ্ধ প্রবন্ধে তিনি মত প্রকাশ করেন যে, Mass & Energy are rebound up with one another অর্থাৎ পদার্থ এবং শক্তি পৃথক নয় বরং অভিন্ন।

উল্লেখ্য, আলোর গতিতে দুটি বিপরীত মুখী প্রোটন বা অতি পারমাণবিক কণার মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়ে বিগব্যাং বা মহাজাগতিক বিষ্ফোরণ পরবর্তী অবস্থায় কি কি সৃষ্টি হতে পারে তা আলবার্ট আইনেস্টাইন দিব্যি উপলদ্ধি করতেন। এ উপলদ্ধিতেই নিহিত ছিল আজকের সাড়া জাগানো আবিস্কৃত হিগস বোসননামক অতিপারমানবিক কণাটি।বু ল্লাহ্-খারেজমি

আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-খারেজমি (Abū ʿAbdallāh Muḥammad ibn Mūsā al-Khwārizmī; ফার্সি উচ্চারণ: খাওয়ারেজমি) (৭৮০-৮৫০) মধ্যযুগীয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। তিনি ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞভূগোলবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। (উইকিপিডিয়া)।আনুমানিক ৭৮০ খ্রীষ্টাব্দে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। আল খারিজমি খলিফা আল মামুনের বায়তুল হিকমাহ সংলগ্ন গ্রন্থাগারে গ্রন্থাগারিকের চাকুরি করতেন। খলিফা মামুনের মৃত্যুর পর পরবর্তী খলিফা আল ওয়াতহিকের (Al Wathiq) শাসনকালের সাথেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। বাগদাদের খলিফা আল মামুনের মৃত্যুর ১৪ বছর পর (আনুমানিক ৮৫০ খ্রীষ্টাব্দে) আল খারিজমির মৃত্যু হয়

আবু অআবদুল্লাহ খাওয়ারিজমি পাটিগণিতবীজগণিতভূগোল এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে প্রভূত অবদান রাখেন। তবে মূলত বীজগণিতের জন্যই তিনি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন।এজন্যই তাকে বীজগণিতের জনক বলা হয়।

 বীজগণিতে আরবীয় ভূমিকাঃ  কিতাব আল জাবর ওয়াল মুকাবলা”-তে আল-খারেজমি রৈখিক এবং দ্বিঘাত সমীকরণ এর প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেন। বীজগণিতে তার প্রধান সাফল্য ছিল বর্গের সাহায্যে দ্বিঘাত সমীকরণের জ্যামিতিক প্রমাণসহ সমাধান।[৪] সর্বপ্রথম তিনিই বীজগণিতকে স্বাধীন শাখা হিসেবে তুলে ধরেন এবং সমীকরণ সমাধানের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেনতাই খোয়ারিজমিকে বীজগণিতের জনক[৫][৬] বা প্রতিষ্ঠাতা[৭][৮] বলা হয়। আলজেবরা (বীজগণিত) শব্দটিই এসেছে তার আল জিবর ওয়াল মুকাবিলা বই এর শিরোনাম থেকে। তার নামটি guarismo (স্পেনীয়)[৯] এবং algarismo (পর্তুগিজদুইটিরই একক উৎস এবং অভিন্ন অর্থ: অঙ্ক। উল্লেখ্য, ১১৪৫ সালে রবার্ট অব চেস্টার কর্তৃক অনুবাদকৃত আল জিবর ওয়াল মুকাবিলা বইটি ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণিতের প্রধান বই হিসেবে পড়ানো হত। (তথ্যঃ(উইকিপিডিয়া)।

অ্যালগরিদম (Algorithm)

গণিত এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানের আলোচনায় অ্যালগরিদম (Algorithm) বলতে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিকে বোঝায়যেটি কতগুলি সসীমসংখ্যকসুসংজ্ঞায়িতপরিগণক যন্ত্রে (কম্পিউটারে) বাস্তবায়নযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট ক্রমে বিন্যস্ত নির্দেশের সমষ্টিএটা একটি অ্যালগরিদম যা একটি বন্ধ বাতি কিভাবে কাজ করবে তা দেখাচ্ছে

পরিগণক বিজ্ঞান তথা কম্পিউটার বিজ্ঞানের সমস্ত ক্ষেত্রে যেমন উপাত্তাধারচিত্রলিখনজালিকাপরিচাল ব্যবস্থানিরাপত্তাকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাইত্যাদিতে নির্দেশক্রম বা অ্যালগোরিদম নির্মাণ ও বিশ্লেষণ একটি মৌলিক কর্মকাণ্ড।

নির্দেশক্রম বা অ্যালগোরিদম নির্মাণ এবং পূর্বলিখিত নির্দেশক্রম (প্রোগ্রাম) রচনার মধ্যে পার্থক্য আছে। নির্দেশক্রম বা অ্যালগোরিদম নির্মাণের সম কোনও পরিগণনামূলক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে লভ্য সমস্ত বিকল্প ঠিকমতো বোঝা অত্যাবশ্যক। অর্থাৎ কোনও নির্দিষ্ট সমাধানের জন্য কী যন্ত্রাংশ সামগ্রী ব্যবহৃত হবেজালিকাব্যবস্থাটি কী রকমকোন্‌ ভাষা প্রোগ্রাম রচিত হবেকর্মদক্ষতার উপরে কী কী সীমাবদ্ধতা বিদ্যমানএই সব কিছু বিবেচনা রাখতে হ। কোনও নির্দেশক্রম যদি কোনও সমস্যাকে পূর্ণাঙ্গরূপে এবং দক্ষভাবে সমাধান করতে পারেতাহলে সেটিকে "সঠিক" বিবেচনা করা হ। নির্দেশক্রমগুলি প্রবিষ্ট উপাত্ত ও বহির্গত উপাত্তের মাধ্যমে কাজ করে। প্রবিষ্ট উপাত্তের (ইনপুট) উপরে নির্দেশক্রমের প্রতিটি ধাপ ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা হ এবং সবশেষে বহির্গত উপাত্ত (আউটপুট) ফলাফল হিসেবে প্রকাশিত হ। একটি নির্দেশক্রমকে তখনই "সঠিক" বলা হয়- যদি প্রতিটি প্রবিষ্ট উপাত্তের জন্য নির্দেশক্রমটি সঠিক বহির্গত উপাত্ত উৎপাদন করে। তবে পুরোপুরি নির্ভুল নয়- এমন নির্দেশক্রম বা অ্যালগোরিদমও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেযদি ভুলের মাত্রা নিন্ত্রণের মধ্যে রাখা যা

১৫৯৯ এবং ৬৫০ এর গরিষ্ঠ সাধারণ গুণ্নীক (গসাগু) খুঁজে পেতে ইউক্লিড অ্যালগরিদমের একটি গ্রাফিক্যাল বিবরণ

ইংরেজি "অ্যালগরিদম" শব্দটি এসেছে ৯ম শতাব্দীর মুসলিম গণিতবিদ মুসা আল খারিজমী’-এর নাম থেকে। নির্দেশক্রম বা অ্যালগোরিদম হচ্ছে ধাপে ধাপে সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি বিশেষ অর্থাৎ একটি সমস্যাকে সীমিত সংখ্যক কয়েকটি ধাপে ভেঙ্গে প্রত্যেকটি ধাপ পরপর সমাধান করে সমগ্র সমস্যা সমাধান করা। পরিগণক যন্ত্র (কম্পিউটার)রোবটএমনকি মানুষও নির্দেশক্রম বা অ্যালগোরিদমের ধাপগুলি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করে একটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে পারে। কম্পিউটার বিজ্ঞানে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য সঠিক নির্দেশক্রম বা অ্যালগোরিদমের ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি নির্দেশক্রম বা অ্যালগোরিদমকে যেকোনও ভাষা বর্ণনা করা যেতে পারেসে ভাষাটি হতে পারে বাংলাইংরেজির মত মানুষের মৌখিক ভাষা অথবা জাভার মত প্রোগ্রাম (পূর্বলিখিত নির্দেশক্রম) রচনার ভাষা। এমনকি যন্ত্রাংশসামগ্রী (হার্ডওয়্যার) নকশাকরণের মাধ্যমেও এটি বর্ণনা করা যেতে পারে। তবে যে ভাষাতেই লেখা হোক নাসমস্যা সমাধানের প্রতিটি ধাপের বর্ণনা নির্দেশক্রম বা অ্যালগোরিদমে থাকতে হবে।

 ক্যটাগরিভিত্তিক অ্যালগরিদমের প্রকারভেদঃ

 - Sorting algorithms.

 - Hashing algorithms.

 - Basic Data Structures ( উদাহরণ স্বরূপঃ list, array )

 - Searching algorithms

 - String matching and parsing algorithms.

 - Stack, queue, priority queue, mapping, set ইত্যাদি।

 - Data structure and graph algorithms.

 - Dynamic programming.

 - State-space search algorithms.

১০ - Understanding of pointers.

https://bn.quora.com/pratiti-saphataoyyara-injiniyarera-kona-dasati-ayalagaridama-hrdaya-diye-sekha-ucita

কোন সমস্যা সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিক নিয়মাবলী কে অ্যালগরিদম বলে। এটি মূলত সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবহার করা হয়।মনে করুন যে আপনি চা তৈরি করবেন। তাহলে চা তৈরীর অ্যালগরিদমটা কেমন হবে দেখা যাক।

১. প্রথমে আপনাকে একটি পাত্রে পানি দিতে হবে।

২. পানি ফুটানোর জন্য পাত্রটা চুলার উপরে রাখতে হবে।

৩. চুলায় আগুন দিতে হবে।

৪. চুলায় আগুন দিতে হলে ম্যাচ, গ্যাসলাইট হাতে রাখতে হবে

৫.তারপর চুলা জ্বালাতে হবে

৬. পানি গরম হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে।

৭. কত কাপ চা তৈরি করতে হবে তা জানা থাকতে হবে।

৮. চায়ের ধরণ অর্থাৎ চা কি দুধসহ নাকি দুধছাড়া রং চা, চায়ে চিনি হবে নাকি চিনি ছাড়া  হবে তা আগাম জানা থাকতে হবে।

৯. পানি গরম হয়ে গেলে দুধচা হলে তুলনামূলক বেশি চায়ের পাতা দিতে হবে, রং চা হলে কম পরিমাণ পাতা দিতে হবে। অনুরূপ বেশি কাপ চায়ে বেশি পাতা, কম কাপ চায়ে কম পরিমাণ পাতা দিতে হবে। চিনিও অবস্থাভেদে কম/বেশি কিংবা চিনিবিহীন হবে। 

আমরা চা বানানোর জন্য উপরের যে স্টেপগুলো ফলো করলাম এটি মূলত একটি চা বানানোর অ্যালগরিদম।

ঠিক এভাবেই কম্পিউটার বিজ্ঞানের অনেক সমস্যা অবস্থা, প্রকারভেদে অ্যালগরিদম এর মাধ্যমে সমাধান করা হয়

(সূত্রঃ https://bn.quora.com//অ্যালগরিদম-কী-এটি-কেন) 


 আধুনিক বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্বের পর্যায়ক্রমিক ইতিকথাঃ

প্রাচীন বৈজ্ঞানিক যুগঃবলা যায় সেদিন থেকেই জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সূচনা ঘটেছিল। আর মানব জাতির এই অগ্রযাত্রার উষালগ্নে যে সব উদ্ভাবনী বিষয়সমূহের তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছিল তন্মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিলঃ ১) পরিধানের প্রয়োজনে বস্ত্র প্রযুক্তি (Textile Technology) ২) খাদ্যের প্রয়োজনে কৃষি প্রযুক্তি (Agriculture Technology) ৩) স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে চিকিৎসা প্রযুক্তি (Medical Technology), ৪) বাসস্থানের প্রয়োজনে পূর্ত প্রযুক্তি (Civil Technology) ইত্যাদি  আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞান চর্চার সূত্র সুদূর অতীত ৩০০০ থেকে ১২০০ বিসিই সময়কালে প্রাচীন মিশর এবং মেসোপটেমিয়ায় পাওয়া যায় তাদের গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং চিকিৎসাশাস্ত্রের পাশাপাশি প্রাকৃতিক কারণগুলোর উপর ভিত্তি করে বস্তুজগতকে ব্যাখ্যা করার সাধারণ প্রচেষ্টাও ছিল। পশ্চিমা রোমান সম্রাজ্য পতিত হবার পর পশ্চিমা ইউরোপে গ্রিসভিত্তিক পৃথিবী সম্পর্কিত জ্ঞান কমতে থাকে যা মধ্যযুগের ৪০০ থেকে ১০০০ সিই পর্যন্ত ছিল।

উল্লেখ্য, মানব জ্ঞানের সংরক্ষণে বাইজেন্টাইন  পারসিয়ানদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। চতুর্থ থেকে সপ্তম শতকে গ্রীক ও সিরিয়াক ভাষার প্রজ্ঞাময় রচনাগুলো নতুন করে শুরু হয় যা হেলেনিয়া যুগ থেকে জারি ছিল জ্ঞানচর্চা ও আদান-প্রদানের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছিল। এগুলোর মধ্যে ছিল স্কুল অব নিসিবিস ও পরবর্তীতে স্কুল অব এডেসাসে সাথে জুন্দশাপুরের মেডিকেল একাডেমি গ্রন্থাগারের মধ্যে ছিল আলেক্সান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার  কনস্টান্টিনোপলের রাজকীয় গ্রন্থাগার এবং অনুবাদ ও শিক্ষালাভের অন্যান্য কেন্দ্র যা মার্ভসেলোনিকানিশাপুর  তিসফুনে অবস্থিত ছিল।(সূত্র উইকিপিডিয়া)

628 দার্শনিক ডেমোক্রিটাস ঈসাব্দপূর্ব ৪০০ সনে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম ‘কণা’ (Atom) অবিভাজ্য নিয়ে মতবাদ পোষণ করে আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সূচনা করেছিলেন ডেমোক্রিটাস পদার্থের ক্ষুদ্রতম ‘কণা’ (Atom) এই অবিভাজ্যতার   নামকরণ করেছিলেন তাঁর ভাষায় (গ্রীক) ‘অ্যাটোমাস’  অর্থঃ আর ভাঙ্গা যাবে না। এই অ্যাটোমাস শব্দ থেকে  ইংরেজী: Atom(অ্যাটম-অবিভাজ্য) শব্দের বুৎপত্তি অতঃপর এই বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখেন আরেক গ্রীক ব্যক্তিত্ব অ্যারিষ্টটল। অ্যারিষ্টটলের মতেপদার্থসমূহ নিরবচ্ছিন্ন (continuous) একে যতই ভাঙ্গা হোক না কেনপদার্থের কণাগুলো ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে।

 বৈজ্ঞানিক মধ্যযুগঃ মধ্যযুগে জাবের ইবনে হায়ান আল আরাবি পদার্থ বিজ্ঞানের পারমাণবিক মৌল কণা নির্ধারণী পর্যায় সারণির চতুর্মাত্রিক রূপ দানের মাধ্যমে  করে বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্বের অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেছিলেন। পর্যায় সারণি হচ্ছে এক ধরনের ছক যেখানে আজ পর্যন্ত আবিস্কৃত রাসায়নিক মৌল সমূহকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যাভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম এবং ইলেকট্রনিক বিন্যাসের ভিত্তিতে বিভিন্ন পর্যায় ও সারণীতে সাজানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্ব তত্ত্বের আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে একটি মাত্র অতিপারমাণবিক বস্তুকণা হিগস বোসন বিগ ব্যাং পরবর্তী ভরত্ব লাভ করার পর এক পর্যায়ে তাতে প্রোটন কণার আবির্ভাব ঘটিয়ে যে সকল জাত-প্রকৃতির বস্তু-পদার্থের উদ্ভব ঘটিয়েছিল তারই নিম্নরূপ ছক-কে পর্যায় সারণি বলা হয়।

উল্লেখ্য আবু আব্দুল্লাহ জাবির ইবনে হাইয়ান বস্তু জগতকে প্রধানতঃ তিন ভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগে স্পিরিটদ্বিতীয় ভাগে ধাতু এবং তৃতীয় ভাগে যৌগিক পদার্থের স্থান দেন। তাঁর এ আবিষ্কারের উপর নির্ভর করেই পরবর্তী বিজ্ঞানীরা বস্তুজগৎ-কে ১.বাষ্পীয় ২. পদার্থ ও পদার্থ বহির্ভূত-এই তিন ভাগে বিভক্ত করেন। জাবির কর্পূরআর্সেনিক ও এমোনিয়াম ক্লোরাইডসহ এমন সব বস্তু বিশ্ব সভ্যতার সামনে তুলে ধরেনযেগুলোকে তাপ দিলে বাষ্পে পরিণত হয়। এ পর্যায়ে আছে । তিনি দেখান কিছু মিশ্র ও যৌগিক পদার্থযেগুলোকে অনায়েসে চূর্ণে পরিনত করা যায়। নির্ভেজাল বস্তুর পর্যায়ে তিনি তুলে ধরেন সোনারূপাতামালোহাদস্তা প্রভৃতি।

জাবির সর্ব প্রথম নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিড আবিষ্কার করেন। তিনি 'কিতাবুল ইসতিতমাসএ নাইট্রিক এসিড প্রস্তুত করার ফর্মুলা রয়েছে। সাধারণত: নাইট্রিক এসিডে স্বর্ণ গলে না। নাইট্রিক এসিড ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রনে স্বর্ণ গলানোর ফরমুলা জাবির প্রথম আবিষ্কার করেন। তিনি এর নাম দেন  "একোয়া রিজিয়া " । তাছাড়া পাতনউর্ধ্বপাতনপরিস্রাবণদ্রবণকেলাসনভস্মীকরণগলনবাষ্পীভবন ইত্যাদি রাসায়নিক সংশ্লেষণ বা অনুশীলন গবেষণায় কি কি রূপান্তর হয় এবং তাঁর ফল কি তিনি তাও বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি চামড়া ও কাপড়ে রঙ করার প্রণালীইস্পাত প্রস্তুত করার পদ্ধতিলোহাওয়াটার প্রুফ কাপড়ে বার্নিশ করার উপায়সোনার জলে পুস্তকে নাম লেখার জন্য লৌহের ব্যবহার ইত্যাদি আবিষ্কার করেন।
কথিত আছে যে, জাবির ইবনে হাইয়ান স্বর্ণ ও পরশ পাথর তৈরী করতে পারতেন। জাবিরের মতে, সোনারূপালোহা প্রভৃতি যত প্রকার ধাতু আছেকোন ধাতুরই মৌলিকতা নেই। এসব ধাতুই পারদ আর গন্ধকের সমন্বয়ে গঠিত। খনিজ ধাতু খনিতে যে নিয়মে গঠিত হয় সে নিয়মে মানুষও ঐ সব ধাতু তৈরী করতে পারে।
জাবির এপোলিয়ানের আধ্যাত্মিকবাদপ্লেটোসক্রেটিসএরিস্টটলপিথাগোরাসডিমোক্রিটিস প্রমুখের গ্রন্থের সংগে পরিচিত এবং গ্রীক ভাষায় সুবিজ্ঞ ছিলেন।

 https://www.thefajr.com/bn/ প্রতিষ্ঠান-ও-ব্যক্তিত্ব/ব্যক্তিত্বদের-জীবনী/item/979-জাবের-ইবনে-হাইয়ানএর-

 আধুনিক যুগ: গ্রীক-রোমভিত্তিক প্রাচীন ইউরোপীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলো নিভেছিল  ১০০০ সাল পর্যন্ত। একাদশ শতাব্দীতে অআলোর শিখা অআবারও বিকীর্ণ হতে শুরু করে যা আজও প্রবল প্রতাপে অব্যাহত রয়েছে।

 উল্লেখ্য, পদার্থে অতিপারমাণবিক নিউক্লিয়ার্স কণা আবিস্কার করে বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্ব-কে অতিপারমাণবিকীকরণ করেছিলেন বিজ্ঞানী রাদার ফোর্ড তার পরীক্ষালব্ধ ফলাফল থেকে জানা যায় যেপরমাণু হলো ধনাত্মক আধান ও ভর একটি ক্ষুদ্র জায়গায় আবদ্ধ’ তিনি এর নাম দেন ‘নিউক্লিয়াস’ প্রোটন ও ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত হয় পরমাণু কেন্দ্র-এই কেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়ার্স। নিউক্লিয়ার্স এর চার পাশে ঘুরতে থাকে পরমাণুর ইলেকট্রন।


সপ্তদশ শতাব্দীঃ আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সূচক শতক


16 শতক

সপ্তদশ শতাব্দী আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিপ্লব ইউরোপে এই সময়কালের প্রায়শই ঘটেবিজ্ঞানের অগ্রগতি ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করে এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের যৌক্তিকতায় অবদান রাখে।


গণিত

নম্বরপরিমাপ এবং পাটিগণিত

·         1545: গেরোলোমো কার্ডানো আবিষ্কার করলেন জটিল সংখ্যা.[116]

·         1572: রাফায়েল বোম্বেলি এর জন্য বিধি সরবরাহ করে জটিল গাণিতিক.[117]

বীজগণিত

·         গ। 1500: স্কিপিওন ডেল ফেরো বিশেষ ঘনকীয় সমীকরণ সমাধান করে .[118][119]

·         16 ম শতাব্দী: গেরোলোমো কার্ডানো সাধারণ ঘন সমীকরণ সমাধান করে (এগুলি শূন্য চতুর্ভুজ পদযুক্ত করে কেটে)।

·          লোডোভিকো ফেরারি সাধারণ কোয়ার্টিক সমীকরণ সমাধান করে (এটিকে শূন্য কোয়ার্টিক পদ দিয়ে কমানোর মাধ্যমে)।

·          ফ্রান্সোইস ভাইয়েটে আবিষ্কার ভিয়েটার সূত্রগুলি.সম্ভাব্যতা ও পরিসংখ্যান

·         1564: গিরোলোমো কার্ডানো প্রথম সম্ভাব্যতার একটি নিয়মতান্ত্রিক চিকিত্সা উত্পাদন করেছেন।[120]

সংখ্যার গণিত এবং অ্যালগোরিদম

·         আধুনিক প্রতীকী চিহ্নের বিভিন্ন টুকরো এই সময়ে প্রবর্তিত হয়েছিলউল্লেখযোগ্য:

·         1556: নিকোলি টারতাগলিয়া প্রথম বন্ধনী প্রবর্তন।

·         1557: রবার্ট রেকর্ড সমান চিহ্নটি পরিচয় করিয়ে দেয়।[122][123]

·         1591: ফ্রান্সোইস ভাইয়েটেএর নতুন বীজগণিত আধুনিক বৌদ্ধ বীজগণিত কারসাজি দেখায়।

পদার্থবিজ্ঞান

জ্যোতির্বিজ্ঞান

·         1543: নিকোলাস কোপার্নিকাস বিকাশ হিলিওসেন্ট্রিক মডেলআর্যভট্ট হিলিওসেন্ট্রিক মডেল ব্যবহার করেননি বলে ধরে নেওয়াএটি ইতিহাসের প্রথম পরিমাণগত হিলিওসেন্ট্রিক মডেল হবে।

·         16 ম শতাব্দীর শেষের দিকে: টাইকো ব্রাহে প্রমান করে যে ধূমকেতুগুলি মহাকাশীয় (এবং বায়ুমণ্ডলীয় নয়) ঘটনা।

জীববিজ্ঞান এবং অ্যানাটমি         

17 শতকের

·         1600 – উইলিয়াম গিলবার্টপৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্র

·         1608 - একটি এর প্রথম রেকর্ড অপটিক্যাল টেলিস্কোপ

·         1609 – জোহানেস কেপলারপ্রথম দুই গ্রহের গতি আইন

·         1610 – গ্যালিলিও গ্যালিলিসাইড্রেয়াস নুনুসিয়াসদূরবীণ পর্যবেক্ষণ

·         1614 – জন নেপিয়ারব্যাবহার লগারিদম গণনার জন্য[125]

·         1619 – জোহানেস কেপলারতৃতীয় গ্রহের গতি আইন

·         1620 - প্রথম উপস্থিতি যৌগিক মাইক্রোস্কোপ ইউরোপ

·         1628 – উইলবর্ড স্নেলিয়াসঅপসারণ আইন হিসাবে পরিচিত স্নেলের আইন

·         1628 – উইলিয়াম হার্ভেরক্ত সঞ্চালন

·         1638 – গ্যালিলিও গ্যালিলিশরীরের পতনের আইন

·         1643 – ইভাঞ্জেলিস্টা টরিসেল্লি পারদ আবিষ্কার করে ব্যারোমিটার

·         1662 – রবার্ট বয়েলবয়েলের আইন এর আদর্শ গ্যাস

·         1665 – দ্য রয়্যাল সোসাইটির দার্শনিক লেনদেন প্রথম পিয়ার পর্যালোচনা বৈজ্ঞানিক জার্নাল প্রকাশিত।

·         1665 – রবার্ট হুকআবিষ্কার কোষ

·         1668 – ফ্রান্সেস্কো রেডিঅসম্পূর্ণ ধারণা স্বতঃস্ফূর্ত প্রজন্ম

·         1669 – নিকোলাস স্টেনোপ্রস্তাব দেয় জীবাশ্ম জৈব অবশেষপলির স্তরগুলিতে এম্বেড থাকে basis স্ট্রিটগ্রাফি

·         1669 – জান সোয়ামারডামএপিজেনেসিস ভিতরে পোকামাকড়

·         1672 – স্যার আইজ্যাক নিউটনযে সাদা আবিষ্কার আলো ইহা একটি বর্ণালী স্বতন্ত্র বর্ণের মিশ্রণ রশ্মি

·         1673 – ক্রিস্টিয়ান হিউজেন্সদোলক সিস্টেম এবং দুল ঘড়ির নকশা প্রথম গবেষণা

·         1675 – লাইবনিজনিউটনঅনন্য ক্যালকুলাস

·         1675 – অ্যান্টন ভ্যান লিয়ুয়েনহোকেপর্যবেক্ষণ অণুজীব একটি পরিশোধিত ব্যবহার সাধারণ মাইক্রোস্কোপ

·         1676 – ওলে রামারপ্রথম পরিমাপ আলোর গতি

·         1687 – স্যার আইজ্যাক নিউটনএর শাস্ত্রীয় গাণিতিক বিবরণ মৌলিক শক্তি এর সর্বজনীন মাধ্যাকর্ষণ এবং তিনটি শারীরিক গতির আইন

18 তম শতাব্দী

·         1735 – কার্ল লিনিয়াস গাছগুলিকে শ্রেণিবদ্ধ করার জন্য একটি নতুন সিস্টেমের বর্ণনা দিয়েছেন সিস্টেমমা ন্যাচুরাই

·         1745 – ইয়াল্ড জর্জেন জর্জি ভন ক্লেইস্ট প্রথম ক্যাপাসিটারলেডেন জার

·         1750 – জোসেফ ব্ল্যাকবর্ণনা সুপ্ত তাপ

·         1751 – বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনবজ্র হয় বৈদ্যুতিক

·         1755 – ইমানুয়েল কান্তবায়বীয় হাইপোথিসিস ইন সর্বজনীন প্রাকৃতিক ইতিহাস এবং স্বর্গের তত্ত্ব

·         1761 – মিখাইল লোমনোসভআবিষ্কার শুক্রের পরিবেশ

·         1763 – টমাস বয়েসএর প্রথম সংস্করণ প্রকাশ করে বেয়েসের উপপাদ্যজন্য পথ প্রশস্ত বায়েশিয়ান সম্ভাবনা

·         1771 – চার্লস মেসিয়েরজ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত বস্তুর ক্যাটালগ প্রকাশ করে (মেসিয়ার অবজেক্টসএখন গ্যালাক্সিস্টার ক্লাস্টার এবং নীহারিকা অন্তর্ভুক্ত হিসাবে পরিচিত।

·         1778 – আন্টোইন ল্যাভয়েসিয়ার (এবং জোসেফ প্রিস্টলি): অক্সিজেনের আবিষ্কার শেষের দিকে নিয়ে যায় ফ্লোজিস্টন তত্ত্ব

·         1781 – উইলিয়াম হার্শেল আবিষ্কার আবিষ্কার ইউরেনাসজ্ঞাত সীমানা প্রসারিত সৌর জগৎ আধুনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো

·         1785 – উইলিয়াম উইথিংফক্সগ্লোভ ব্যবহারের প্রথম সুনির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট প্রকাশ করে (ডিজিটালিসচিকিত্সা জন্য জ্বরযুক্ত

·         1787 – জ্যাক চার্লসচার্লসের আইন এর আদর্শ গ্যাস

·         1789 – আন্টোইন ল্যাভয়েসিয়ারআইন জনগনের আলাপজন্য ভিত্তি রসায়নএবং আধুনিক রসায়নের সূচনা

·         1796 – জর্জেস কুভিয়ারপ্রতিষ্ঠা বিলুপ্তি সত্য হিসাবে

·         1796 – এডওয়ার্ড জেনারছোট পক্স .তিহাসিক অ্যাকাউন্টিং

·         1796 – হানাওকা সেশিবিকাশ ঘটে সাধারণ অবেদন

·         1800 – আলেসান্দ্রো ভোল্টাআবিষ্কার বৈদ্যুতিন রাসায়নিক সিরিজ এবং আবিষ্কার ব্যাটারি

19 তম শতক

·         1802 – জিন-ব্যাপটিস্ট ল্যামার্কটেলিওলজিকাল বিবর্তন

·         1805 – জন ডালটনপারমাণবিক তত্ত্ব ভিতরে (রসায়ন)

·         1820 – হ্যানস ক্রিশ্চিয়ান আর্স্টেড আবিষ্কার করে যে একটি তারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি বিদ্যুত এবং চৌম্বকত্বের মধ্যে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করেএকটি কম্পাসের সুইকে প্রতিফলিত করবে (তড়িচ্চুম্বকত্ব).

·         1820 - মাইকেল ফ্যারাডে এবং জেমস স্টোডার্ড সঙ্গে লোহা লোহা আবিষ্কার ক্রোমিয়াম উত্পাদন করে মরিচা রোধক স্পাত জারণ উপাদান প্রতিরোধী (মরিচা).

·         1821 – টমাস জোহান সিবেক এর সম্পত্তি পর্যবেক্ষণকারী সর্বপ্রথম অর্ধপরিবাহী

·         1824 – কার্নোটবর্ণিত কার্নোট চক্রআদর্শ তাপ ইঞ্জিন

·         1824 - জোসেফ এস্পদিন বিকাশ ঘটে পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট (কংক্রিট), এক ভাটায় স্থল চুনাপাথরকাদামাটি এবং জিপসাম গরম করে।

·         1827 – জর্জি ওহমওম এর আইন (বিদ্যুৎ)

·         1827 – আমদেও অ্যাভোগাড্রোঅ্যাভোগাড্রোর আইন (গ্যাস আইন)

·         1828 – ফ্রিডরিচ ওহেলার সংশ্লেষিত ইউরিয়াখণ্ডন করা হচ্ছে প্রাণবন্ততা

·         1830 – নিকোলাই লোবাচেভস্কি তৈরি নন-ইউক্লিডিয়ান জ্যামিতি

·         1831 – মাইকেল ফ্যারাডে আবিষ্কার বৈদ্যুতিন চৌম্বকীয় আনয়ন

·         1833 – আনসেলমে পাইেন প্রথম এনজাইম বিচ্ছিন্ন করেডায়াস্টেস

·         1837 - চার্লস ব্যাবেজ একটি নির্মাণের জন্য একটি নকশা প্রস্তাব টিউরিং সম্পূর্ণসাধারণ উদ্দেশ্যে কম্পিউটারবলা যেতে হবে বিশ্লেষণ ইঞ্জিন.

·         1838 – ম্যাথিয়াস শ্লেইডেনসমস্ত গাছপালা দিয়ে তৈরি কোষ

·         1838 – ফ্রিডরিচ বেসেলপ্রথম সফল পরিমাপ তারার প্যারাল্যাক্স (তারাতে 61 সাইগনি)

·         1842 – খ্রিস্টান ডপলারডপলার এফেক্ট

·         1843 – জেমস প্রেসকট জোলআইন শক্তির নিত্যতা (থার্মোডিনামিক্সের প্রথম আইন), এছাড়াও 1847 - হেলমহল্টজশক্তির নিত্যতা

·         1846 – জোহান গটফ্রাইড গ্যাল এবং হেইনরিচ লুই ডি'আররেস্টআবিষ্কার নেপচুন

·         1847 - জর্জ বুলেপ্রকাশ করে লজিকের গাণিতিক বিশ্লেষণসংজ্ঞায়িত বুলিয়ান বীজগণিততার 1854 এ সংশোধিত চিন্তার আইন.

·         1848 – লর্ড কেলভিনঅবশ্যই জিরো

·         1856 - রবার্ট ফোরস্টার মুশেট decarbonisation জন্য একটি প্রক্রিয়া বিকাশএবং লোহা পুনরায় কার্বনেসীকরণএকটি গণনা পরিমাণের যোগ সম্পূর্ণ spiegeleisenসস্তাধারাবাহিকভাবে উচ্চ মানের উত্পাদন করতে ইস্পাত.

·         1858 – রুডল্ফ ভার্চোকোষ কেবল প্রাক-বিদ্যমান কোষ থেকে উত্থিত হতে পারে

·         1859 – চার্লস ডারউইন এবং আলফ্রেড ওয়ালেসতত্ত্বের বিবর্তন দ্বারা প্রাকৃতিক নির্বাচন

·         1861 – লুই পাস্তুরজীবাণু তত্ত্ব

·         1861 – জন টিন্ডলর‌্যাডিয়েন্ট এনার্জি সম্পর্কিত পরীক্ষা যা গ্রিনহাউস প্রভাবকে শক্তিশালী করে rein

·         1864 – জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েলতত্ত্বের তড়িচ্চুম্বকত্ব

·         1865 – গ্রেগর মেন্ডেলউত্তরাধিকার আইন মেন্ডেলেরজন্য ভিত্তি জেনেটিক্স

·         1865 – রুডল্ফ ক্লাসিয়াসসংজ্ঞা এনট্রপি

·         1868 - রবার্ট ফোরস্টার মুশেট সঙ্গে alloying ইস্পাত আবিষ্কার টংস্টেন একটি শক্তআরও টেকসই খাদ উত্পাদন করে।

·         1869 – দিমিত্রি মেন্ডেলিভপর্যায় সারণি

·         1871 – লর্ড রেলেইগআকাশ বিকিরণ বিচ্ছুরিত (রায়লে ছড়িয়ে ছিটিয়েব্যাখ্যা করে কেন আকাশ নীল দেখা যায়

·         1873 – জোহানেস ডিদারিক ভ্যান ডার ওয়ালসআন্তঃআণুবিবাহী শক্তি গণনকারী সর্বপ্রথম: দ্য ভ্যান ডের ওয়েলস বল.

·         1873 – ফ্রেডরিক গুথ্রি আবিষ্কার তাপীয় নির্গমন.

·         1873 – উইলফবি স্মিথ আবিষ্কার ফটোকন্ডাকটিভিটি.

·         1875 – উইলিয়াম ক্রুকস উদ্ভাবিত ক্রুকস টিউব এবং অধ্যয়ন ক্যাথোড রশ্মি

·         1876 – জোশিয়ার উইলার্ড গিবস প্রতিষ্ঠিত রাসায়নিক তাপবিদ্যুৎবিদ্যাদ্য ফেজ বিধি

·         1877 – লুডভিগ বোল্টজমানপরিসংখ্যান সংজ্ঞা এনট্রপি

·         1880s - জন হপকিনসন বিকাশ ঘটে তিন ধাপে বৈদ্যুতিক সরবরাহগাণিতিকভাবে প্রমাণ করে যে কীভাবে একাধিক এসি ডায়নামোসকে সমান্তরালে সংযুক্ত করা যায়টংস্টেন যুক্ত করে স্থায়ী চৌম্বক এবং ডায়নামো দক্ষতা উন্নত করে এবং তাপমাত্রা কীভাবে চৌম্বকতাকে প্রভাবিত করে তা বর্ণনা করে (হপকিনসন প্রভাব).

·         1880 – পিয়েরি কুরি এবং জ্যাক কিউরিপাইজোইলেক্ট্রিটি

·         1884 – জ্যাকবাস হেনরিকাস ভ্যান 'টি হফসমাধানগুলিতে রাসায়নিক গতিশীলতা এবং ওসোম্যাটিক চাপের আইন আবিষ্কার করেছেন (তাঁর রচনায় "এটিউডস ডি ডায়নামিক চিমিক")।

·         1887 – অ্যালবার্ট এ। মাইকেলসন এবং এডওয়ার্ড ডব্লু। মুরলিaether জন্য প্রমাণ অভাব

·         1888 – ফ্রিডরিচ রেইনিতজার আবিষ্কার তরল স্ফটিক.

·         1892 – দিমিত্রি ইভানভস্কি প্রথমবার আবিষ্কার ভাইরাস

·         1895 – উইলহেম কনরাড রন্টজেন আবিষ্কার এক্স-রে

·         1896 – হেনরি বেকেরেল আবিষ্কার তেজস্ক্রিয়তা

·         1896 – সোভান্তে আরহেনিয়াস এর প্রাথমিক নীতিগুলি গ্রহণ করে গ্রিন হাউজের প্রভাব.

·         1897 – জে.জে. থমসন আবিষ্কার বৈদ্যুতিন ভিতরে ক্যাথোড রশ্মি

·         1898 – মার্টিনাস বিঞ্জেরিনেকহোস্টে সংক্রামক একটি ভাইরাস সংক্রামক হিসাবে উপস্থিত হয়েছিল - এবং এটি কেবলমাত্র বিষ নয় এবং এটিকে "ভাইরাস" নাম দিয়েছে

·         1898 – জে.জে. থমসন প্রস্তাবিত বরই পুডিং মডেল একটি পরমাণুর

20 শতকের

·         1905 – আলবার্ট আইনস্টাইনতত্ত্ব বিশেষ আপেক্ষিকতাএর ব্যাখ্যা ব্রোমিনএবং ফটোয়েলেক্ট্রিক প্রভাব

·         1906 – ওয়ালথার নর্নস্টথার্মোডিনামিক্সের তৃতীয় আইন

·         1907 – আলফ্রেড বার্থহেমআরসফেনামাইনপ্রথম আধুনিক কেমোথেরাপিউটিক এজেন্ট

·         1909 – ফ্রিটজ হ্যাবারহবার প্রক্রিয়া অ্যামোনিয়া শিল্প উত্পাদন জন্য

·         1909 – রবার্ট অ্যান্ড্রুজ মিলিকানপরিচালনা করে তেল ড্রপ পরীক্ষা এবং একটি ইলেকট্রনের উপর চার্জ নির্ধারণ করে

·         1910 – উইলিয়ামিনা ফ্লেমিংপ্রথম শ্বেত বামন40 এরদানী বি

·         1911 – আর্নেস্ট রাদারফোর্ডপারমাণবিক নিউক্লিয়াস

·         1911 – হাইক কামারলিংহ ওননেসসুপারকন্ডাকটিভিটি

·         1912 – আলফ্রেড ওয়েজনারমহাদেশীয় প্রবাহ

·         1912 – ম্যাক্স ভন লাউ : এক্স-রে বিচ্ছিন্নতা

·         1912 – ভেষ্টো স্লিফার : গ্যালাকটিক redshift

·         1912 – হেনরিটা হান ল্যাভিটসিফিড পরিবর্তনশীল পিরিয়ড-আলোকসজ্জা সম্পর্ক

·         1913 – হেনরি মোসলেিসংজ্ঞায়িত পারমাণবিক সংখ্যা

·         1913 – নীলস বোহরপরমাণুর মডেল

·         1915 – আলবার্ট আইনস্টাইনতত্ত্ব সাধারণ আপেক্ষিকতা -- ডেভিড হিলবার্ট

·         1915 – কার্ল শোয়ার্জস্কাইল্ডশোয়ার্জচাইল্ড ব্যাসার্ধের আবিষ্কার সনাক্তকরণের দিকে পরিচালিত করে কালো গহ্বর

·         1918 – এমি নোথারনোথরের উপপাদ্য - শর্তাদি যার অধীনে সংরক্ষণ আইনগুলি বৈধ

·         1920 – আর্থার এডিংটনস্টার্লার নিউক্লিওসিন্থেসিস

·         1922 – ফ্রেডরিক ব্যান্টিংচার্লস সেরাজেমস কলিপজন ম্যাকলেডবিচ্ছিন্নতা এবং উত্পাদন ইনসুলিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে

·         1924 – ওল্ফগ্যাং পাওলিকোয়ান্টাম পাওলি বর্জন নীতি

·         1924 – এডউইন হাবলআবিষ্কার যে মিল্কি ওয়ে অনেক ছায়াপথের মধ্যে একটি মাত্র

·         1925 – এরউইন শ্রিডিনগারশ্রাদিনগার সমীকরণ (কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান)

·         1925 – সিসিলিয়া পায়েন-গাপোসকিনআবিষ্কার সূর্য রচনা এবং সেটা হাইড্রোজেন মহাবিশ্বে সবচেয়ে প্রচুর উপাদান

·         1927 – ওয়ার্নার হাইজেনবার্গঅনিশ্চয়তা নীতি (কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান)

·         1927 – জর্জেস লেম্যাট্রেতত্ত্বের বিগ ব্যাং

·         1928 – পল ডিরাকডেরাক সমীকরণ (কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান)

·         1929 – এডউইন হাবলহাবলের আইন প্রসারণের বিশ্ব

·         1929 – আলেকজান্ডার ফ্লেমিংপেনিসিলিনপ্রথম বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিক

·         1929 – লার্স অনসাগরপারস্পরিক সম্পর্কসম্ভাব্য চতুর্থ থার্মোডিনামিক্স আইন

·         1930 – সুব্রাহ্মণ্য চন্দ্রশেখর তার আবিষ্কার উপাধি সীমা a এর সর্বাধিক ভর শ্বেত বামন তারা

·         1931 – কার্ট গডেলঅসম্পূর্ণতা উপপাদ্য প্রথাগত axiomatic সিস্টেম অসম্পূর্ণ প্রমাণ

·         1932 – জেমস চাদউইকআবিষ্কার নিউট্রন

·         1932 – কার্ল গুথে জানস্কি প্রথম আবিষ্কার জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত রেডিও উত্সধনু এ

·         1932 – আর্নেস্ট ওয়ালটন এবং জন ককক্রফ্টকেন্দ্রকীয় বিদারণ প্রোটন বোমাবর্ষণ দ্বারা

·         1934 – এনরিকো ফার্মিকেন্দ্রকীয় বিদারণ নিউট্রন বিকিরণ দ্বারা

·         1934 – ক্লাইভ ম্যাককেক্যালোরি সীমাবদ্ধতা অন্যের সর্বাধিক জীবনকাল প্রসারিত করে প্রজাতি

·         1938 – অটো হ্যানলিস মিটনার এবং ফ্রিটজ স্ট্রেসম্যানকেন্দ্রকীয় বিদারণ ভারী নিউক্লিয়াস এর

·         1938 – আইসিডোর রাবিপারমাণবিক চৌম্বকীয় অনুরণন

·         1943 – ওসওয়াল্ড অ্যাভেরি প্রমাণিত ডিএনএ এর জিনগত উপাদান ক্রোমোজোম

·         1945 – হাওয়ার্ড ফ্লোরি এর ব্যাপক উত্পাদন পেনিসিলিন

·         1947 – উইলিয়াম শকলেজন বার্দিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেন প্রথম ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করুন

·         1948 – ক্লড এলউড শ্যানন: 'যোগাযোগের একটি গাণিতিক তত্ত্বএকটি সেমিনাল পেপার তথ্য তত্ত্ব.

·         1948 – রিচার্ড ফেনম্যানজুলিয়ান শুইঞ্জারপাপ-ইটিয়েরো টমোনগা এবং ফ্রিম্যান ডাইসনকোয়ান্টাম বৈদ্যুতিনবিদ্যার

·         1951 – জর্জ অটো গে প্রথম ক্যান্সার সেল লাইন প্রচার করেহেলা

·         1952 – জোনাস সাল্কপ্রথম বিকাশ এবং পরীক্ষিত পোলিও টিকা

·         1952 – স্ট্যানলি মিলারপ্রারম্ভিক পৃথিবীর সময় উপস্থিত পরিস্থিতিতে প্রাথমিক স্তরের স্যুপ থেকে জীবনের বিল্ডিং ব্লকগুলি উত্থাপিত হতে পারে তা প্রদর্শিত হয়েছিল মিলার – ইউরি পরীক্ষা

·         1952 – ফ্রেডরিক স্যাঙ্গারযে প্রদর্শিত প্রোটিন এর ক্রম হয় অ্যামিনো অ্যাসিড

·         1953 – জেমস ওয়াটসনফ্রান্সিস ক্রিকমরিস উইলকিন্স এবং রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনহেলিকাল কাঠামো ডিএনএজন্য ভিত্তি আণবিক জীববিজ্ঞান

·         1962 – রিকার্ডো গিয়াককনি এবং তার দলটি প্রথম আবিষ্কার করে মহাজাগতিক এক্স-রে উত্সবৃশ্চিক এক্স -২

·         1963 – লরেন্স মর্লিফ্রেড ভাইনএবং ড্রামমন্ড ম্যাথিউসপ্রমাণ হিসাবে সমুদ্রের ভূত্বক মধ্যে প্যালোম্যাগনেটিক স্ট্রাইপ প্লেট টেকটোনিক্স (ভাইন – ম্যাথিউস – মর্লে হাইপোথিসিস).

·         1964 – মারে জেল-মান এবং জর্জ জুইগপোস্টুলেটস কোয়ার্কস নেতৃস্থানীয় স্ট্যান্ডার্ড মডেল

·         1964 – আরনো পেনজিয়াস এবং রবার্ট উড্রো উইলসনসনাক্তকরণ সিএমবিআর জন্য পরীক্ষামূলক প্রমাণ প্রদান বিগ ব্যাং

·         1965 – লিওনার্ড হেইফ্লিকসাধারণ কোষগুলি কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বার বিভক্ত করে: হায়ফ্লিক সীমা

·         1967 – জোসলিন বেল বার্নেল এবং অ্যান্টনি হিউশ আগে আবিষ্কার পালসার

·         1967 – ভেলা পারমাণবিক পরীক্ষার সনাক্তকরণ উপগ্রহগুলি প্রথম আবিষ্কার করে গামা-রে ফেটে গেল

·         1970 - জেমস এইচ। এলিস "অ গোপনীয় এনক্রিপশন" হওয়ার সম্ভাবনাটিকে আরও সাধারণভাবে বলা হয় পাবলিক-কি ক্রিপ্টোগ্রাফিএকটি ধারণা যা তার দ্বারা প্রয়োগ করা হবে GCHQ সহকর্মী ক্লিফোর্ড ককস 1973 সালেআরএসএ অ্যালগরিদম হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠবে কী তৃতীয় সহকর্মীর সাথে মূল বিনিময় ম্যালকম জে উইলিয়ামসন, 1975 সালে।

·         1971 – কোষ স্থাপন করুন মস্তিষ্ক দ্বারা আবিষ্কার করা হয় জন ও'কিফ

·         1974 – রাসেল অ্যালান হালসে এবং জোসেফ হুটন টেলরজুনিয়র জন্য পরোক্ষ প্রমাণ আবিষ্কার মহাকর্ষীয় তরঙ্গ বিকিরণ মধ্যে হুলসে – টেলর বাইনারি

·         1977 – ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার ব্যবহার করে কোনও জীবের প্রথম ডিএনএ জিনোমকে সিক্যুয়েন্স করে স্যাঞ্জার সিকোয়েন্সিং

·         1980 – ক্লাউস ভন ক্লিটজিং আবিষ্কার কোয়ান্টাম হল প্রভাব.

·         1982 – ডোনাল্ড সি ব্যাকার ইত্যাদি। প্রথম আবিষ্কার করুন মিলিসেকেন্ড পালসার

·         1983 – কেরি মুলিস আবিষ্কার করে পলিমারেজ চেইন প্রতিক্রিয়াএকটি মূল আবিষ্কার আণবিক জীববিজ্ঞান.

·         1986 – কার্ল মোলার এবং জোহানেস বেদনারজআবিষ্কার উচ্চ-তাপমাত্রা সুপারকন্ডাকটিভিটি.

·         1988 – বার্ট ভ্যান উইস [এনএল] এবং টিউ ডিফল্ট এবং ফিলিপস রিসার্চের সহকর্মীরা এটি আবিষ্কার করেছিলেন পরিমিত পরিবাহিতা একটি দ্বিমাত্রিক ইলেকট্রন গ্যাসে।

·         1992 – আলেকসান্দার ওলজকজান এবং ডেল ফ্রেইল প্রথম পালসার গ্রহগুলি পর্যবেক্ষণ করুন (এটি ছিল সৌরজগতের বাইরে গ্রহগুলির প্রথম নিশ্চিত আবিষ্কার)

·         1994 – অ্যান্ড্রু ওয়াইলস প্রমাণিত ফারম্যাট এর শেষ উপপাদ্য

·         1995 – মিশেল মেয়র এবং দিদিয়ের কোয়েলোজ অবশ্যই প্রথম পর্যবেক্ষণ অতিরিক্ত গ্রহ প্রায় প্রধান ক্রম তারকা

·         1995 – এরিক কর্নেলকার্ল উইম্যান এবং ওল্ফগ্যাং কেটারল প্রথম প্রাপ্ত বোস-আইনস্টাইন কনডেন্সেট পারমাণবিক গ্যাস সহএকটি অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় পদার্থের পঞ্চম অবস্থা হিসাবে ডাকা হয়।

·         1996 – রোজলিন ইনস্টিটিউটডলি ভেড়া ক্লোন করা হয়েছিল।[126]

·         1997 – সিডিএফ এবং ডি এ পরীক্ষায় ফর্মিলাবশীর্ষ কোয়ার্ক.

·         1998 – সুপারনোভা কসমোলজি প্রকল্প এবং হাই-জেড সুপারনোভা অনুসন্ধান দলআবিষ্কার মহাবিশ্বের ত্বরণ সম্প্রসারণ / অন্ধকার শক্তি.

·         2000 - দ্য তাউ নিউট্রিনো দ্বারা আবিষ্কৃত হয় সহযোগিতা ডোনট করুন

একবিংশ শতাব্দী

2001 - এর প্রথম খসড়া হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট প্রকাশিত হয়

·         2003 – গ্রিগরি পেরেলম্যান এর প্রমাণ উপস্থাপন পয়েন্টকারি অনুমান.

·         2004 - আন্দ্রে গেইম এবং কনস্ট্যান্টিন নভোসেলভ বিচ্ছিন্ন গ্রাফিনকার্বন পরমাণুর এক monolayer, এবং এর কোয়ান্টাম বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য অধ্যয়ন।

·         2005 – গ্রিড কোষ মস্তিষ্ক দ্বারা আবিষ্কার করা হয় এডওয়ার্ড মসার এবং মে-ব্রিট মোসার.

·         2010 - প্রথম স্ব-প্রতিলিপিসিন্থেটিক ব্যাকটেরিয়াল কোষ তৈরি করা হয়।[127]

·         2010 - নিয়ান্ডারথাল জিনোম প্রকল্প প্রাথমিক জেনেটিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন যে অন্তঃসংশ্লিষ্টতা সম্ভবত সংঘটিত হয়েছিল এবং নিয়ানডারথাল সংমিশ্রণের একটি ছোট্ট কিন্তু উল্লেখযোগ্য অংশ আধুনিক অ-আফ্রিকান জনগোষ্ঠীতে উপস্থিত রয়েছে।[হদফ ঘ]

·         2012 – হিগস বোসন এ আবিষ্কার হয় সিআরএন (নিশ্চিত 99.999%)

·         2012 – ফোটোনিক অণু এ আবিষ্কার করা হয় এমআইটি

·         2014 – বিদেশী হ্যাড্রন এলএইচসিবিতে আবিষ্কার করা হয়

·         2015 - তরল এর ট্রেস জল আবিষ্কার মঙ্গল[128] (যেহেতু 2017 থেকে নাসার প্রতিবেদনে খণ্ডিত!)[129]

·         2016 - দ্য লিগো দল সনাক্ত মহাকর্ষীয় তরঙ্গ একটি ব্ল্যাক হোল সংযুক্তি থেকে

·         2017 - মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ সংকেত GW170817 দ্বারা পালন করা হয়েছিল লিগো/কুমারী সহযোগিতা এটি মহাকর্ষীয় তরঙ্গ ইভেন্টের প্রথম উদাহরণ যা মহাকাশ টেলিস্কোপের মতো একইসাথে বৈদ্যুতিন চৌম্বকীয় সংকেত থাকতে দেখা গিয়েছিল হাবল ইভেন্টটি থেকে আগত আলোগুলি পর্যবেক্ষণ করেছেযার ফলে মাল্টি-ম্যাসেঞ্জার জ্যোতির্বিদ্যার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যুগান্তকারী mar[130][131][132]

·         2019 - প্রথমবার ব্ল্যাকহোলের চিত্র ধরা পড়ে capturedএক সাথে একত্রে ছবি তোলার জন্য আটটি আলাদা টেলিস্কোপ ব্যবহার করেঅত্যন্ত সুনির্দিষ্ট পারমাণবিক ঘড়ি সমেত time

·         2020 - নাসা এবং সোফিয়া (ইনফ্রারেড জ্যোতির্বিজ্ঞানের স্ট্র্যাটোস্ফেরিক অবজারভেটরি) চাঁদের বৃহত্তম দৃশ্যমান গর্তের মধ্যে প্রায় 12 জলের তলদেশের জল আবিষ্কার করেছিল। এটি মহাকাশে প্রবেশের জন্য নতুন প্রেরণার জন্ম দিয়েছে। আমরা জল আবিষ্কার করতে থাকি যা আমরা প্রাথমিকভাবে চিন্তা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি সাধারণ। https://hrvwiki.net/Wikipedia_Timeline_of_scientific_discoveries#cite_note-133

কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল

আকাশ-পৃথিবী কিভাবে সৃষ্টি হলোএর আগে কি ছিলবস্তু/পদার্থের সৃষ্টি কিভাবে? অণু-পরমাণু কিএগুলি আসলে কিইলেকট্রনপ্রোটন ও নিউট্রন-এসব কিএগুলো কোন্ বল (ফোর্স) দ্বারা এবং কিভাবে একত্রিত অবস্থায় থাকেপ্রচন্ড গতিতে ঘূর্ণায়মান গ্যালাস্কিতে বিদ্যমান নক্ষত্রগুলো ছিটকে পড়ে না কেনএই প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করতে পদার্থবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন তত্ত্ব দিয়েছেনযেগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য হল কসমোলজিক্যাল (মহাজাগতিক) স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্ব।

এই কসমোলজিক্যাল (মহাজাগতিক) স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্ব সূত্রে আমরা জানতে পারি যেআমাদের চারপাশে যত বস্তু আছে সেগুলো সবই বিভিন্ন প্রকার অণু-পরমাণু দ্বারা গঠিত। এক বা একাধিক পরমাণু একত্রিত হয়ে অণু গঠন করেআর পরমাণু গঠিত হয় ইলেকট্রনপ্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে। পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াসসেখানে সবগুলো প্রোটন ও নিউট্রন কেন্দ্রীভূত অবস্থায় থাকেআর ইলেকট্রনগুলো এই নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।

উল্লেখ্য, গত বিংশ শতাব্দীর সত্তুর দশকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর স্ট্যান্ডার্ড মডেলের আশাবাদ অনুযায়ী নতুন কিছু মৌলিক কণিকা আবিষ্কৃত হওয়ায় তত্ত্বটি আরও পাকাপোক্ত হয়। ১৯৭৭-এ বটম কোয়ার্ক১৯৯৫-এ টপ কোয়ার্ক ও ২০০০-এ টাউ নিউট্রিনো আবিষ্কৃত হয়। এদের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রত্যাশার সাথে প্রায় পুরোপুরি মিলে যায়। তবে স্ট্যান্ডার্ড মডেলের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। যেমন– এ তত্ত্বে ডার্ক ম্যাটারের কোন স্থান রাখা হয়নিএ তত্ত্ব মাধ্যাকর্ষণ বল ব্যাখ্যা করতে পারে না। তাছাড়া, চলতি শতাব্দীর প্রথম দশকেও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না মৌলিক কণার ভরত্ব লাভের উৎসমূল। অধরাই ছিল দ্বিতীয় দশকের অর্থাৎ ২০১২ সনের ৩রা জুলাই মঙ্গলবার পর্যন্ত। এ সময় পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত ছিলেন না বিগ ব্যাং পরবর্তী সময়ে ধারণাকৃত হিগস বোসন কণা  আদৌ বাস্তবতার মুখ দেখবে কি? এদ্বসত্ত্বেও স্ট্যান্ডার্ড মডেলের গুরুত্ব অপরিসীমতাই একে বলা হয় প্রায় সবকিছুর তত্ত্ব (Theory of almost everything)। পদার্থবিজ্ঞানীদের মতেসবগুলো মৌলিক বল একত্রিত করে একটিসবকিছুর তত্ত্ব”-ও (Theory of everything) বের করা সম্ভব।গবেষণাপত্রটি ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর তারিখে উপস্থাপন করা হয়েছে মহাকাশ বিজ্ঞানের অন্যতম সংগঠন আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নে।বিষয়টি বেশ পুরানো এবং জানা। কিন্ত পরীক্ষালব্ধ উপস্থাপনাটি নতুন এবং বিস্ময়কর। 

মহাকাশ বিজ্ঞান

এবার বেনু গ্রহানু (এস্টোরয়েড)-কে জানার উদ্দেশ্যে অসিরিস-আরএক্স এর মহাকাশ মিশন

অসিরিস-আরএক্স মহাকাশাযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য বেনু নামের এক গ্রহানু বা এস্টোরয়েডকে জানা। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের ধারণা পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর এই বেনু নামের গ্রহানু বা এস্টোরয়েডের পৃথিবীকে আঘাত করার সম্ভাবনা আছে। অপেক্ষাকৃত কম সম্ভাবনাও (২,৭০০ ভাগের ১ ভাগ)যদি সত্যি হয় তবে ২১৭৫ সাল থেকে ২১৯৯ সালের কোন এক সময়ে বেনুর সাথে পৃথিবীর সংঘর্ষ ঘটে যেতে পারে। মানব সভ্যতা ধ্বংসের এই নিম্নতম সম্ভাবনা নিয়েও তাই এতো আয়োজন।

আর নাসার এ অভিযানের সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২০ সালের দিকে অসিরিস-আরএক্স মহাকাশাযানটি এস্টোরয়েড বেনুকে স্পর্শ করে সেখান থেকে তথ্য-উপাত্ত পাঠাবে। আর সে তথ্য-উপাত্ত পৃথিবীতে এসে পৌঁছুবে সেপ্টেম্বর২০২৩ সালের দিকে।

পৃথিবীর সাথে এস্টোরয়েডস বা গ্রহানুপুঞ্জের সংঘর্ষ

আজ থেকে প্রায় ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে প্রায় ১৪ কিলোমিটার প্রস্থের একটি বিশাল আকৃতির গ্রহানু বা এস্টোরয়েড মেক্সিকোর ইউকাটান পেনিনস্যুলায় ঘন্টায় প্রায় ৮৫,০০০ কিলোমিটার বেগে আঘাত করেছিল। এস্টোরয়েডের এই পতনের ফলে মেক্সিকো এবং সংলগ্ন এলাকায় ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন নিয়ে ভূতত্ত্ব ও নৃতত্ত্ব বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গবেষণা করছেন অনেকদিন থেকেই।

এই বিশাল আকৃতির গ্রহানুর আঘাতের ফলেই যে ১০০ কিলোমিটার চওড়া ও ৩০ কিলোমিটার গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল সেটিও অকাট্য প্রমানেই আজ স্বীকৃত। এই বিশাল গ্রহানু বা এস্টোরয়েড আঘাতের ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা ছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে হিরোশিমা নগরীর ধ্বংসযজ্ঞের চেয়ে ১০০ বিলিয়ন গুন শক্তিশালী।

কিন্ত আমেরিকার মিসিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রথমবার দেখিয়েছেন১৪ কিলোমিটার প্রস্থের এই বিশাল গ্রহানু বা এস্টোরয়েড আঘাতের ফলে যে বিশাল সুনামি বা সামুদ্রিক ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছিল তা শুধু অভাবনীয় নয়অকল্পনীয়ও বটে।

বিজ্ঞানের সব তত্ত্ব বা থিউরি মেনে নিয়ে মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছেসে সময়ে প্রায় ১ কিলোমিটার উচ্চতার সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল। গ্রহানু বা এস্টোরয়েড আঘাতের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গালফ অব মেক্সিকো হয়ে সমস্ত আটলান্টিক মহাসাগর এবং মধ্য-আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়েছিল এ বিশাল ঢেউ। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পৃথিবীর সমস্ত জলরাশিতে আছড়ে পড়েছিল এই সুনামি।

যেখানে গ্রহানু বা এস্টোরয়েড আঘাত করেসেখানে তেমন জল ছিল না সে সময়ে। ফলে শুকনো আবর্জনার ধূলোকণা ৬,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এর ফলেসে সময়ে জীবিত প্রাণী ও উদ্ভিদ অক্সিজেনের অভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পৃথিবীর জলবায়ু বিশেষকরে তাপমাত্রাও কমে গিয়েছিল ১৪ থেকে ২৯ ডিগ্রী ফারেনহাইটের মতো। ডাইনোসর বিশেষজ্ঞগন পৃথিবী থেকে ডাইনোসরের বিলুপ্তির জন্য ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে মেক্সিকোতে ঘটে যাওয়া এই গ্রহানু বা এস্টোরয়েড পতনকেই দায়ি করে থাকেন।

মানব সভ্যতার সৌভাগ্য যেএই ৬৬ মিলিয়ন বছরেও এতো বড় গ্রহানু বা এস্টোরয়েড পতনের অভিজ্ঞতা দ্বিতীয়বার দেখতে হয়নি। যদিও সে সম্ভাবনা যে নেইসেটিও জোর দিয়ে কেউ বলতে পারেননি এখন পর্যন্ত।

আমাদের সৌরজগতে ছোট বড় অসংখ্য গ্রহানু বা এস্টোরয়েড বা উল্কাপিন্ড ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রায় প্রতিটি গ্রহের সাথে সাথে সূর্যকে আবর্তন করেই। সূর্যকে প্রদীক্ষণ করছে এ রকম অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকৃতির বস্ত সাধারণত তিন ধরনের হয়কমেটসএস্টোরয়েডস এবং মেটোরয়েডস।

সাধারণ এবং সহজ করে বললেযেগুলোর আকৃতি ১ মিটারের কম সেগুলো মেটোরয়েডস। যেগুলো গ্যাস আর বরফকণায় তৈরী সেগুলোকে বলা হয় কমেটস। আর বড় আকৃতির গ্রহানুকে বলা হয় এস্টোরয়েড।

অপেক্ষাকৃত কম অক্ষ-উৎকেন্দ্রিক দূরত্বের জন্য সাধারণত গ্রহানু বা এস্টোরয়েডগুলো মংগল ও বৃহস্পতিকে ঘিরেই আবর্তণ করে থাকে। জানা গেছে১ কিলোমিটারের বড় আকৃতির গ্রহানু বা এস্টোরয়েড যারা শুধু মংগল ও বৃহস্পতি গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরছেতাদের সংখ্যাই ১.১ মিলিয়ন থেকে ১.৯ মিলিয়নের মতো।

আমাদের পৃথিবীকে আবর্তণ করছে এমন গ্রহানু বা এস্টোরয়েডের সংখ্যাও কম নয়। ২০১৬ সালের জুন মাসের এক মহাকাশ ম্যাগাজিন থেকে জানা যায়১৪,৪৬৪ গ্রহানু বা এস্টোরয়েডস পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরছে। এদের মধ্যে আবার ৯০০ থেকে ১০০০ গ্রহানু বা এস্টোরয়েডস আছে যাদের আকৃতি ১ কিলোমিটারের বেশী চওড়া। 

এ উদ্বেগজনক তথ্য থেকে পৃথিবীর অস্তিত্ব ও অনিশ্চয়তা নিয়ে সকলের মতো মহাকাশবিজ্ঞানীরাও উদ্বিগ্ন। তাই তো গ্রহানু বা এস্টোরয়েডস নিয়ে গবেষণা হচ্ছে প্রতিদিন। মহাকাশাযানগুলোও আবিষ্কার করছে নিত্য নতুন গ্রহানু বা এস্টোরয়েড।

২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারিখে নাসার পাঠানো অসিরিস-আরএক্স মহাকাশাযান পৃথিবী থেকে ১১ কোটি কিলোমিটার দূর থেকে একটি গ্রহানু বা এস্টোরয়েড এর ছবি তুলেছে। অসিরিস-আরএক্স যখন এই গ্রহানু বা এস্টোরয়েডের ছবি তোলে তখন তাদের মধ্যে দূরত্ব ছিল মাত্র ৪৬ কিলোমিটার। তুলনায় অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র এই গ্রহানু বা এস্টোরয়েডটিও কিন্ত অর্ধকিলোমিটার চওড়া।

সার্ণে কর্তৃক আবিস্কৃত হিগ্‌স বোসন: স্ট্যান্ডার্ড মডেলের গুরুত্বপূর্ণ  কণিকা

হিগ্‌স বোসন” (God’s Partical) স্ট্যান্ডার্ড মডেলের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি কণিকাকারণ এটি ফোটন ও গ্লুওন বাদে অন্যান্য সকল কণিকার ভর থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে। ধারণা করা হয়ভরের উৎপত্তি ঘটে মৌলিক কণিকার হিগ্‌স ক্ষেত্রে পরিভ্রমনের জন্য। এই হিগ্‌স ক্ষেত্রের ক্ষুদ্রতম অংশই হল হিগ্‌স বোসন। এর স্পিন হল ০। স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারেহিগ্‌স বোসন না থাকলে সকল কণিকাই ভরবিহীন হত। আলহামদুল্লিল্লাহপৃথিবীর সর্ববৃহৎ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র সার্ণের একদল বৈজ্ঞানিক অপেরা প্রজেক্টের মাধ্যমে....... বিগত ২০১২ সালের ৪ঠা জুলাইবুধবার হিগস বোসন কণার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন

তথ্য১.https://www.bigganbangla.com/স্ট্যান্ডার্ড-মডেল/. http://physics.info/standar . http://h2g2.com/dna/h2g2/A666173 

 স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্বটি মূলত সত্তুরের দশকে পূর্ণতা পায়। এ মডেল অনুসারে কিছু মৌলিক কণিকা পদার্থ গঠন করে, যাদের ১. ফার্মিয়ন (ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মির নামানুসারে) বলে এবং কিছু

কণিকা বলের বাহক হিসেবে ক্রিয়া করেযাদের ২. বোসন (ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বোসের নামানুসারে) বলে।

মৌলিক কণিকাগুলোর কিছু বিশেষ ধর্ম

মৌলিক কণিকাগুলোর কিছু বিশেষ ধর্ম থাকে যেগুলো দ্বারা এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়যেমনঃ ১. ভর ২. বৈদ্যুতিক আধান, ৩. স্পিন ইত্যাদি

বোসন কণাঃ বোসনের স্পিন থাকে শূণ্য অথবা পূর্ণ সংখ্যা (০,,২.....)। বোসন বর্জন নীতি অনুসরন না করায় সহযেই একে অপরকে ভেদ করতে পারে (যেমন – আলো এবং অন্যান্য তড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ)। বোসন বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান অনুসরন করে।

বোসন মোট ২ প্রকার – গেজ বোসন ও হিগ্‌স বোসন। গেজ বোসন বলের বাহক হিসেবে ক্রিয়া করে। এর স্পিন ১। মৌলিক বল চার প্রকার -  তড়িতচুম্বকীয় বলসবল নিউক্লীয় বলদুর্বল নিউক্লীয় বল এবং মাধ্যাকর্ষন বল। গেজ বোসন প্রথম তিনটির সাথে সম্পর্কিত।

ফার্মিয়নঃ ফার্মিয়নের স্পিন থাকে পূর্ণ সংখ্যার অর্ধেক (১/২,৩/২,৫/২)। ফার্মিয়ন ফার্মি-ডিরাক পরিসংখ্যান এবং পাউলি-র বর্জন নীতি মেনে চলে। এ নীতি অনুসারে একাধিক ফার্মিয়ন একই সময়ে একই স্থানে অবস্থান করতে পারে নাফলে বাস্তবেও আমরা দেখি এক বস্তু অন্য বস্তুকে ভেদ করে যেতে পারে না। ফার্মিয়ন মোট ১২ রকমের হয়এদের প্রত্যেককে এক একটি স্বাদবিহীন ফ্লেভার [Flavor] বলে ১২টি ফার্মিয়নের আবার অনুরূপ ১২টি প্রতিকণিকা [Antiparticle] আছে (যেমন ইলেক্ট্রনের প্রতিকণিকা পজিট্রন)। ফার্মিয়নের মধ্যে দুইটা ভাগ আছে১. কোয়ার্ক এবং ২. লেপ্টন।

ফার্মিয়নের আরেকটি ভাগ হল লেপ্টন। এরা একা থাকতে পারে। সবচেয়ে পরিচিত লেপ্টন হল ইলেকট্রন e। এছাড়াও মিউওন μ, টাউওন τ এবং এ তিনটির অনুরূপ নিউট্রিনো - ইলেকট্রন নিউট্রিনো νe, মিউওন নিউট্রিনো νμ, টাউওন নিউট্রিনো ντ লেপ্টনের অন্তর্ভুক্ত।

১২টি ফার্মিয়নকে আবার ৩টি জেনারেশনে ভাগ করা হয় – I, II এবং III.

১২টি ফার্মিয়নকে আবার ৩টি জেনারেশনে ভাগ করা হয় – I, II এবং III.

জেনারেশন  I-এর চেয়ে জেনারেশন  II-এর কণিকাগুলোর ভর বেশিআবার জেনারেশন  II-এর চেয়ে জেনারেশন  III-এর কণিকাগুলোর ভর আরও বেশি। প্রত্যেক জেনারেশনের ভেতরে আবার কোয়ার্কের ভর লেপ্টনের চেয়ে বেশি। লেপ্টনের মধ্যে নিউট্রিনোগুলোর ভর সবচেয়ে কমপ্রায় নেই বললেই চলে। প্রত্যেক জেনারেশনের প্রথম কোয়ার্কের বৈদ্যুতিক আধান +২/৩দ্বিতীয় কোয়ার্কের আধান -১/৩ভারী লেপ্টনের আধান -১ আর নিউট্রিনোর কোন আধান নেই। প্রথম জেনারেশনের আধানযুক্ত কণিকাগুলো দিয়েই মূলত আমাদের চারপাশের জগত গঠিত। অন্যান্য জেনারেশনের আধানযুক্ত ভারী কণিকাগুলো শুধু অতি উচ্চশক্তিসম্পন্ন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় এবং অতিদ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে হালকা স্থিত কণিকায় রুপান্তরিত হয়। আর আধানবিহীন নিউট্রিনোগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না এবং অন্যান্য কণিকার সাথে তেমন কোন প্রতিক্রিয়াই দেখায় না।

এই ধর্মের জন্য সাম্প্রতিক কালের আলোর-চেয়ে-দ্রুতগতির-কণার-অস্তিত্ব-নিয়ে-প্রশ্ন-তোলা আলোচিত অপেরা এক্সপেরিমেন্টে মিউওন নিউট্রিনো ব্যবহার করা হয়েছিল।

কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডিনামিক্স (QED)

তড়িৎচুম্বকীয় বল ক্রিয়া করে বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত কণিকাগুলোর মধ্যে। এর পাল্লা অসীমশক্তি সবল নিউক্লীয় বলের চেয়ে কম কিন্তু দুর্বল নিউক্লীয় বলের চেয়ে বেশি। এর বাহক হল ফোটন γযার নিজের কোন ভর বা আধান নেই। এ সংক্রান্ত তত্ত্বকে কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডিনামিক্স (QED) বলে।

 সবল নিউক্লীয় বল ক্রিয়া

সবল নিউক্লীয় বল ক্রিয়া করে ভরবৈদ্যুতিক আধান বা স্পিন সদৃশ মৌলিক কণিকার বিশেষ ধর্ম কালারযুক্ত কণিকা অর্থাৎ কোয়ার্কসমূহ ও গ্লুওন g-এর মধ্যে।

প্রতিটি কোয়ার্ক ৩ কালারের প্রতীকী রঙ হচ্ছে লালসবুজ ও নীল। ফ্লেভারের যেমন স্বাদ-গন্ধ নেই এই কালারের নামের সাথে দৃশ্যমান রঙের কোন সম্পর্ক নেই কোয়ার্ক কখনও একা থাকতে পারে নাসবসময় দুইটি (মেসন) বা তিনটির (ব্যারিয়ন) গ্রুপ গঠন করে। লালসবুজ ও নীল আলো মিলে যেমন রঙবিহীন বা সাদা আলো গঠন করেতেমনি কোয়ার্কওএমনভাবে গ্রুপ গঠন করে যেন সবগুলো মিলে সাদা বা রঙবিহীন অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাই ব্যারিয়নে সবসময় থাকে লালসবুজ ও নীল কোয়ার্ক এবং মেসনে থাকে যে কোন একটি কালার ও তার অ্যান্টিকালার (অ্যান্টিকোয়ার্ক থেকে)।

দুর্বল নিউক্লীয় বল: দুর্বল নিউক্লীয় বল ক্রিয়া করে ফ্লেভারযুক্ত কণিকা অর্থাৎ ফার্মিয়নের মধ্যে। এটি খুব দুর্বল বল এবং এর পাল্লা সবল নিউক্লীয় বলের চেয়েও ক্ষুদ্রমাত্র ১০-১৮ মিটারের মত। এর দ্বারা পরমাণুর তেজষ্ক্রিয় ক্ষয় ব্যাখ্যা করা যায়। এর বাহক হল W+, W- ও Z0 বোসন (কোন কোন ক্ষেত্রে হিগ্‌স বোসনকেও ধরা হয়)। এদের নিজস্ব ভর আছেএর মধ্যে Z0-এর ভর সবচেয়ে বেশি। এদের নিজস্ব আধানও আছে, W+-এর আধান +১, W--এর আধান -১ এবং Z0 আধান নিরপেক্ষ। দুর্বল নিউক্লীয় বল সংক্রান্ত তত্ত্বকে কোয়ান্টাম ফ্লেভারডিনামিক্স (QFD) বলে।

মাধ্যাকর্ষন বল: মাধ্যাকর্ষন বল ক্রিয়া করে সকল কণিকার মধ্যে। এটি খুবই দুর্বল বলকিন্তু এর পাল্লা অসীম এবং সবসময়ই শুধুমাত্র আকর্ষণ করে। স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্ব এটি ব্যাখ্যা করতে পারে না এবং কখনও পারবেও না। ধারণা করা হয় এ বলেরও একটি বাহক আছেএর প্রস্তাবিত নাম গ্র্যাভিটন। এটি একটি ভরবিহীন কণিকা যার স্পিন ২। মাধ্যাকর্ষন বল সংক্রান্ত তত্ত্বকে কোয়ান্টাম জিওমেট্রোডিনামিক্স (QGD) বা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটেশন বলে।

হিগ্‌স বোসন এবং স্ট্যান্ডার্ড মডেল

হিগ্‌স বোসন স্ট্যান্ডার্ড মডেলের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি কণিকাকারণ এটি ফোটন ও গ্লুওন বাদে অন্যান্য সকল কণিকার ভর থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে। ধারণা করা হয়ভরের উৎপত্তি ঘটে মৌলিক কণিকার হিগ্‌স ক্ষেত্রে পরিভ্রমনের জন্য। এই হিগ্‌স ক্ষেত্রের ক্ষুদ্রতম অংশই হল হিগ্‌স বোসন। এর স্পিন হল ০। স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারেহিগ্‌স বোসন না থাকলে সকল কণিকাই ভরবিহীন হত। ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র সার্ণে ২০১২ সালের ৪ঠা জুলাই অআনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, হিগস বোসন কণার সন্ধান পাওয়া গেছে।

স্ট্রিং থিওরীঃ স্ট্যান্ডার্ড মডেলের আশার আলো!

সত্তুরের দশকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর স্ট্যান্ডার্ড মডেলের সম্ভাবনাতত্ত্ব অনুযায়ী নতুন কিছু মৌলিক কণিকা আবিষ্কৃত হওয়ায় তত্ত্বটি আরও পাকাপোক্ত হয়। ১৯৭৭-এ বটম কোয়ার্ক১৯৯৫-এ টপ কোয়ার্ক ও ২০০০-এ টাউ নিউট্রিনো আবিষ্কৃত হয়। এদের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য বৈজ্ঞানিক আশাবাদের সাথে প্রায় পুরোপুরি মিলে যায়। তবে স্ট্যান্ডার্ড মডেলের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। যেমন– এ তত্ত্বে ডার্ক ম্যাটারের কোন স্থান রাখা হয়নিএ তত্ত্ব মাধ্যাকর্ষন বল ব্যাখ্যা করতে পারে না। এ সত্ত্বেও স্ট্যান্ডার্ড মডেলের গুরুত্ব অপরিসীমতাই একে বলা হয় প্রায় সবকিছুর তত্ত্ব (Theory of almost everything)। পদার্থবিজ্ঞানীদের মতেসবগুলো মৌলিক বল একত্রিত করে একটি সবকিছুর তত্ত্বও (Theory of everything) বের করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আশার আলো দেখাচ্ছে স্ট্রিং থিওরি।

 https://www.bigganbangla.com/স্ট্যান্ডার্ড-মডেল/

তথ্যসূত্রঃ

১. http://physics.info/standard/

২. http://h2g2.com/dna/h2g2/A666173

বিশ্ব চলে নিয়মে নিয়মতান্ত্রিক নিউটনীয় বল বিদ্যার বিধিবদ্ধতায় বিশ্ব ব্যবস্থাইজাক নিউটন ১৬৮৬ সালে তাঁর বিখ্যাত বই PhilosophiaeNaturalis Principia Mathematica, সংক্ষেপে প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেম্যাটিকা-তে চিরায়ত (Classical) বলবিজ্ঞানের মূলসূত্রগুলি লিপিবদ্ধ করেন। এতে আমাদের চারপাশের অপারণমাবিক (স্থুল/জড়) জগতের অনেক ঘটনা কিভাবে প্রায় নির্ভুল ব্যাখ্যা প্রদান সক্ষম তা তুলে ধরা হয়েছে। এরপর প্রায় দুইশ বছর ধরে এই সূত্রগুলিই পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সমস্ত ঘটনাবলির ব্যাখ্যার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। থিবীর সার্বিক কর্মকান্ড মূলতঃ পৃথিবীর বুকে, পৃথিবীর উপরে এবং পৃথিবীর ভূগর্ভে বিদ্যমান- যা কখনও নির্ধারিত, সুনির্দিষ্ট নিশ্চিত নিয়ম-নীতিতে, কখনও অনিশ্চিত সম্ভাবনায় আবার কখনও অনির্ধারিত, অনির্দিষ্ট, হঠাৎ, আকস্মিক এবং অকল্পনীয়ভাবে ঘটে থাকে। নিশ্চিত নিয়মাবলী বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলা হয় চিরায়ত  (ক্ল্যাসিকাল)। ৩৬৫ দিনের প্রত্যেক দিবসের সূর্যোদয়ের যেমন সুনির্দিষ্টতা রয়েছে তেমনি সূর্যাস্তেরও সুনির্দিষ্টতা রয়েছে যার কারণে চির স্থায়ী ক্যালেন্ডার তৈরি সম্ভবপর হয়েছে। এতে শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়া যেতে পারে যে, বছরের কোন্ দিনের কোন্ তারিখে সূর্য কত ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ডে উদিত হবে এবং কত ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ডে অস্ত যাবে। অনুরূপ কোন দিনের কত ঘন্টা মিনিট, সেকেন্ডে জোয়ার উঠবে, কত ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ডে ভাটা নামবে তারও সুনির্দিষ্টতা রয়েছে। এমনকি পৃথিবীর আকাশে কোন্ ধুমকেতু কোন্ তারিখ পর্যন্ত কখন কতক্ষণ দৃশ্যমান থাকবে তারও আগাম পূর্বাভাষ আধুনিক সৌরজাগতিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে সম্ভবপর। সম্ভবপর বছরের কোন্ মাসের কোন্ তারিখের কত ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ডে সূর্য গ্রহণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে এবং কত ঘন্টা মিনিট, সেকেন্ডে তা ছাড়বে তা-ও হলফ করে বলা যায়।। যা নিউটনীয় বলবিজ্ঞান তথা নিশ্চয়তাবাদের সমার্থক বটে। চিরায়ত (ক্ল্যাসিকাল) নিউটনীয় বলবিজ্ঞান আমাদের চারপাশের জড় জগতের ঘটনাবলী অনেকটা নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষআইজাক নিউটন ১৬৮৬ সালে তার বিখ্যাত বই Philosophiae Naturalis Principia Mathematicaসংক্ষেপে প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেম্যাটিক-তে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মূলসূত্রগুলি লিপিবদ্ধ করেন। এরপর প্রায় দুইশ বছর ধরে এই সূত্রগুলিই পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সমস্ত ঘটনাবলির ব্যাখ্যার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। (উইকিপিডিয়া)         প্রশ্ন হচ্ছে, কোন্ উৎসমূলে নিউটনের চিরায়ত (ক্ল্যাসিকাল) বলবিজ্ঞান আমাদের চারপাশের জগতের ঘটনাবলী অনেকটা নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হতো? কোন বিজ্ঞানীই স্বাধীন ছিলেন না, এখনও নেই। সকলেই সূত্রাধীন। নিউটনের বল বিজ্ঞানও

বিশ্ব চলে নিয়মেঃ উদাহরণস্বরূপ, কোন্ ট্রেন কয়টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবে- তা অনেকটা নিশ্চিত বলা যত সহজঢাকা পৌঁছার সুনির্দিষ্ট সময় হলফ করে বলা তত সহজ নয়। কারণ, শত শত কিলোমিটারের দীর্ঘ পথযাত্রায় লাইনচ্যুতি, ইন্জ্ঞিন বিকলসহ নানান কারণে স্থানে স্থানে যাত্রা বিরতি ঘটতে পারে। সুতরাং, নিউটনীয় বলবিদ্যায় নির্ধারিত সময়ে গাড়ীর যাত্রা শুরু করা সম্ভব হলেও হাইজেনবার্গীয় অনিশ্চয়তা তত্ত্বে ট্রেনের অকুস্থলে যথাসময়ে পৌঁছা অনিশ্চিত। গাড়ীর ঘন্টাপ্রতি মাইলেজ নির্ধারিত/জানা থাকা সত্ত্বেও উপরোক্ত অনিবার্যকারণবশতঃ যথাসময়ে পৌঁছা নিশ্চিত নয়।   সুতরাংট্রেনের যথাস্থানে পৌঁছার জন্য অন্তত তিনটি শর্ত প্রয়োজন তা হচ্ছে ১. গাড়ী নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছেড়ে যাওয়া ২. গাড়ীর ইন্জ্ঞিন সচল থাকা এবং ৩. গাড়ীর গতি সুনির্দিষ্ট হওয়া।     বলবিজ্ঞান প্রযুক্তির জড় জগতের ভৌত জ্ঞানসমূহকে মানুষের কাজে লাগানোর উপযোগী করে তৈরি করে থাকে। এজন্য অনেক সময় এই শাখাটিকে প্রকৌশল বা ফলিত বলবিজ্ঞান নামকরণ করা হয়ে থাকে। এদিক দিয়ে চিন্তা করলে বলবিজ্ঞানই যন্ত্রের যান্ত্রিক গঠন এবং যন্ত্রসমূহের ব্যবহার ও প্রয়োগবিধি নির্দেশ করে। যন্ত্র প্রকৌশলমহাকাশ প্রকৌশল (aerospace), পুর প্রকৌশলজৈব বলবিজ্ঞান, structural engineering, materials engineering, biomedical engineering ইত্যাদি অধ্যয়নে বলবিজ্ঞান সহায়ক।

নিউটনীয়ান বল বিজ্ঞানের প্রকারভেদ   নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ নিয়ে বলবিজ্ঞানের ভিত রচিত হয়: • নিউটনীয় বলবিজ্ঞান প্রধানত গতি (সৃতিবিজ্ঞান) এবং বলের (গতিবিজ্ঞান) মৌলিক আলোচনা করে। • ল্যাগ্রাঞ্জীয় বলবিজ্ঞান: (Lagrangian mechanics)  • হ্যামিল্টনীয় বলবিজ্ঞান: । •   তারা: ছায়াপথ ইত্যাদির গতি সংক্রান্ত বলবিজ্ঞান। • জ্যোতির্গতিবিজ্ঞান: নভোযান চালনা।  • শব্দবিজ্ঞান:  • স্থিতিবিজ্ঞান: যান্ত্রিক সাম্যাবস্থা। • প্রবাহী বলবিজ্ঞানতরল পদার্থের গতি। • Continuum mechanics, mechanics of continua (both solid and fluid) • তরল স্থিতিবিজ্ঞান (hydraulics): সাম্যাবস্থায় তরল। • ফলিত বলবিজ্ঞান • জৈব বলবিজ্ঞান • পরিসাংখ্যিক বলবিজ্ঞান • (সূত্রঃ https://bn.wikipedia.org/wiki/           উদাহরণস্বরূপ, নিউটনীয় গতি সূত্রানুসারে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য কতিপয় শর্ত জানা আবশ্যক। ১. কোন্ দেশ বছরের কোন্ কোন্ মাসে ঘূর্ণিঝড় প্রবণ থাকে ২. সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে কিনা? ৩.নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে কিনা? ৪. সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টির ঘন্টায় গতি বেগ কত? তাহলেই বলা যাবে এত তারিখের এত ঘন্টা  এত মিনিটে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি বয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে নিউটনীয় বলবিদ্যায় ঘূর্ণিঝড়ের সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ সময় দিনক্ষণ বলা যাবে সত্য;তবে বলা যাবে না যে, ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় এলাকায় বয়েই যাবে, বরং বলা যাবেঃ ঘূর্ণিঝড় বয়ে যেতে পারে।      বিশ্ব চলে অনিয়মেঃ আধুনিক বিজ্ঞানে আলগরিদম তত্ত্বের সূত্র ধরে জাগতিক অনেক ব্যাপার যদিও সহজে বলা সম্ভবপর হচ্ছে তা-ও কিছু শর্ত-সূত্র মেনে। শর্তসূত্র ব্যতিত অবশ্য মানুষের পক্ষে আগাম ভবিষ্যদ্ববাণী কোন ব্যাপারে করা আদৌ সম্ভব পর নয়। তবে জাগতিক বাস্তবতায় প্রকৃতিতে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা তত্ত্ব, সূত্র ব্যতিরেকেই ইউনিভার্সাল ট্রুথ (চিরন্তন সত্য)মূলে শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েই সাধারণ মানুষ হলফ করে সাধারণতঃ বলতে পারেন ১. জন্মিলেই মৃত্যু ২. সূর্যের উদয় পূর্বে এবং অস্ত পশ্চিম দিকে। ৩.রাতের পর দিন, দিনের পর রাতের আগমন ৪. শীতের পর গ্রীষ্ম, গ্রীষ্মের পর শীত। ৫. জোয়ারের পর ভাটা, ভাটার পর জোয়ার। পক্ষান্তরে বিজ্ঞানীরা বলতে পারেন কোন্ মাসের কত তারিখের কয় ঘটিকার সময় কত ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ডে সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ হবে, কোন্ উল্কাপিন্ড পৃথিবীর আকাশে কত সালের কত তারিখ হতে কতদিন পর্যন্ত দেখা যাবে- যা বলা সম্ভব হবে কিছু গাণিতিক সূত্র ধরে জাগতিক কিছু বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে।অনুরূপ একটি গাড়ির ভর এবং অবস্থান দুটোই নিউটনীয় বলবিদ্যায় একসঙ্গে বলে দেয়া সম্ভবপর যদি কিছু আগাম তথ্য জানা থাকে।                      

                          Uncertainty Principle (আনসার্টেইনটি প্রিন্সিপাল) বা অনিশ্চয়তা নীতিঃ ১৯২৭ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সী জার্মান পদার্থবিদ ওয়ার্ণার হাইজেনবার্গ Uncertainty Principle (আনসার্টেইনটি প্রিন্সিপাল) বা অনিশ্চয়তা নীতিটি প্রকাশ করেন। তাই এই নীতিটিকে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি বা হাইজেনবার্গস আনসার্টেইনিটি প্রিন্সিপাল বলা হয়। তাঁর এই নীতি অনুসারেআমরা একটি কণার অবস্থান যত নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করতে পারবো এর ভরবেগ ততই অনিশ্চিত হয়ে যাবেঅর্থাৎ এর ভরবেগ ঠিক কত তা বের করা তত বেশী কঠিন হয়ে পড়বে। ঠিক একইভাবে একটি কণার ভরবেগ যত নিশ্চিতভাবে আমরা নির্ণয় করতে পারবো তার অবস্থান নির্ণয় করা তত কঠিন হয়ে যাবে। উল্লেখ্যভর এবং বেগের গুণফলকে ভরবেগ বলে। একটি কণার অবস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ভরবেগের অনিশ্চয়তাকে যদি আমরা গুন করি তাহলে আমরা একটি মান পাবো। হাইজেনবার্গ প্রকাশ করেছেনযে কোন কণার জন্য এই গুনফলের সর্বনিম্ন একটি মান আছেযে কোন কণার ক্ষেত্রেই এর থেকে কম মান আমরা পাবো না। কিন্তু এর থেকে বেশী মান আমরা পেতে পারি। সেই মানটি হল h cut/2. তাহলে হাইজেনবার্গের সূত্রটিকে গানিতিকভাবে লেখা যায়,  Δ X Δ P ≥ h cut/2 যেখানে, Δ X= অবস্থানের অনিশ্চয়তা বা পরিবর্তন Δ P= ভরবেগের অনিশ্চয়তা বা পরিবর্তন এখানে, h cut এর মান হল h/2 π. আমরা জানি h হল প্লাঙ্কের ধ্রুবক যার মান ৬.৬২৬ x ১০^-৩৪ জুল পার সেকেন্ড। কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর ক্ষেত্রে এই ধ্রুবকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক জায়গায় এর ব্যবহার রয়েছে। অর্থাৎ হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি থেকে আমরা জানতে পারি যেএকটি কণার অবস্থানের পরিবর্তন এবং এর ভরবেগের পরিবর্তনের গুণফলের সর্বনিম্ন মান হবে h cut/ https://prosnouttar.blogspot.com/2021/02/blog-post_171.html)

কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum mechanics) বা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum physics) আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা-যা পরমাণু এবং অতিপারমাণবিক কণার/তরঙ্গের মাপনীতে পদার্থের আচরণ বর্ণনা করে। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানকে ব্যবহার করে বিশাল কোন বস্তু যেমন তারা ও ছায়াপথ সম্পর্কিত বিষয় ব্যাখ্যা করা যায় তেমনি স্ট্যান্ডার্ড মডেলভিত্তিক বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্বমূলক মহা বিস্ফোরণ (বিগ ব্যাং) এর ঘটনাও ব্যাখ্যা করা যায়।উল্লেখ্যপদার্থবিজ্ঞানের যেসব ক্ষেত্র ক্লাসিক্যাল (চিরায়ত) নিউটনীয় বলবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় নাসেসব ক্ষেত্রে পদার্থগুলির জড়তাত্ত্বিক ভৌত (অস্বাভাবিক) আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকেন। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান রসায়নআণবিক জীববিজ্ঞানইলেকট্রনিক্সকণা পদার্থবিজ্ঞানন্যানোপ্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিবিদ্যার আধুনিকায়নের ভিত্তি। বিজ্ঞানের কোয়ান্টামভিত্তিক এই শাখাগুলো বিগত পঞ্চাশ বছরব্যাপী পৃথিবীকে রাতারাতি এনালগ থেকে ডিজিটালে রূপান্তরিত করেছে।  (সূত্রঃhttps://bn.wikipedia.org/wiki//কোয়ান্টাম_বলবিজ্ঞান)।                                          

এক নজরে কোয়ান্টামের প্রকৃতি-বৈশিষ্ট্যকোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানকে ব্যবহার করে বিশাল কোনো বস্তু যেমন তারা ও ছায়াপথ এবং মহাবিস্ফোরণ সংক্রান্ত  বিশ্বতত্ত্বমূলক ঘটনার সুক্ষ্ণতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা যায়।পদার্থবিজ্ঞানের সুক্ষ্ণতাত্ত্বিক যেসব ক্ষেত্রে চিরায়ত নিউটনীয় বলবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় নাসেসব ক্ষেত্রে পদার্থগুলির ভৌত আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকেন।পারমাণবিক অথবা তার চেয়েও ছোট মাপের কোনো ভৌত ব্যবস্থায়খুব নিম্ন অথবা খুব উচ্চ শক্তিতেঅথবা অতিশীতল তাপমাত্রায় চিরায়ত এবং কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের বিশ্লেষণের মধ্যে প্রায়শই পার্থক্য দেখা যায়।কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান রসায়নআণবিক জীববিজ্ঞানইলেক্ট্রনিক্সকণা পদার্থবিজ্ঞানন্যানোপ্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিবিদ্যার আধুনিক উন্নয়নের ভিত্তিএবং বিজ্ঞানের এই শাখাগুলো বিগত পঞ্চাশ বছরে পৃথিবীকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে রূপান্তরিত করেছে। 

 




Comments

Popular posts from this blog

ইষ্টার্ণ সায়েন্স-টেক ইনফরমেশন ব্যাংক

“Allah sends His Salaah (Graces, Blessings, Mercy) on the Prophet (Muhammad), and also His angels (Angels ask Allah to bless and forgive him). O you who believe! send your Salah on (ask Allaah to bless) him (Muhammad), and greet him with the Islamic way of greeting (salutation, i.e. As?Salaamu ‘Alaykum)” [Quran: al-Ahzaab 33:56]